বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬

ভোজ্যতেলসহ নিত্যপণ্যের বাজারে দেশব্যাপী ভোক্তা অধিদপ্তরের অভিযান, ৯২ প্রতিষ্ঠানকে ৮ লাখ ২৮ হাজার টাকা জরিমানা

ভোজ্যতেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে মূল্য স্থিতিশীল রাখা, পণ্যের স্বাভাবিক সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং বাজারে অনিয়ম ও ভোক্তাস্বার্থবিরোধী কার্যক্রম প্রতিরোধে দেশব্যাপী বিশেষ তদারকি অভিযান পরিচালনা করেছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। ঢাকা মহানগরসহ দেশের ৩৩টি জেলায় পরিচালিত এ অভিযানে বিভিন্ন অনিয়মের দায়ে ৯২টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে মোট ৮ লাখ ২৮ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

বুধবার (৪ নভেম্বর) অধিদপ্তরের ৫১টি টিম একযোগে দেশের বিভিন্ন এলাকায় পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে এ অভিযান পরিচালনা করে। বাজার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য ও সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখা এবং ভোক্তাদের স্বার্থ সুরক্ষায় এ বিশেষ তদারকি কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।

অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, অভিযানের আওতায় ভোজ্যতেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারদর ও সরবরাহ পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়। একই সঙ্গে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হালনাগাদ মূল্যতালিকা প্রদর্শন, নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে পণ্য বিক্রি, ওজন ও পরিমাপে কারচুপি এবং মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য ও ওষুধ বিক্রির মতো অনিয়ম প্রতিরোধে তদারকি করা হয়।

এ ছাড়া নকল ও ভেজাল পণ্যের উৎপাদন ও বিক্রি বন্ধ, পণ্যের গুণগত মান বজায় রাখা এবং হোটেল-রেস্তোরাঁয় প্রচলিত আইন ও বিধিবিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, তা যাচাই করা হয়।

অভিযানকালে ব্যবসায়ীদের পণ্যের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, অযৌক্তিকভাবে পণ্য মজুদ এবং সরবরাহব্যবস্থায় প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা থেকে বিরত থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়। পাশাপাশি প্রতিটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে দৃশ্যমান স্থানে হালনাগাদ মূল্যতালিকা প্রদর্শন এবং পণ্য বিক্রির ক্ষেত্রে সঠিক ওজন ও পরিমাপ নিশ্চিত করার বিষয়ে সতর্ক করা হয়।

বাজারে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা এবং ভোক্তা ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে অভিযান চলাকালে বিভিন্ন এলাকায় লিফলেট ও প্যাম্ফলেট বিতরণ করা হয়। এ সময় সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধিবিধান সম্পর্কে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়।

জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের এ কার্যক্রমে সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও জেলার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, স্বাস্থ্য পরিদর্শক, কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) এবং সংশ্লিষ্ট শিল্প ও বণিক সমিতির প্রতিনিধিরা সহযোগিতা করেন।

এদিকে, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে কৃত্রিম সংকট ও অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি এড়াতে ভোক্তাদেরও দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানিয়েছে অধিদপ্তর। প্রয়োজনের অতিরিক্ত পণ্য ক্রয় করে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরিতে ভূমিকা না রাখার পাশাপাশি পণ্য কেনার আগে মূল্যতালিকা, সর্বোচ্চ খুচরা বিক্রয়মূল্য (এমআরপি), উৎপাদনের তারিখ ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

একই সঙ্গে পণ্য কেনার সময় সঠিক ওজন ও পরিমাপ নিশ্চিত করা এবং প্রতিটি কেনাকাটার বিপরীতে বিক্রেতার কাছ থেকে ভাউচার বা ক্রয় রসিদ সংগ্রহের জন্য ভোক্তাদের অনুরোধ জানিয়েছে অধিদপ্তর। এতে পণ্য ক্রয়ে কোনো অনিয়ম বা প্রতারণার ঘটনা ঘটলে অভিযোগ দায়ের ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ সহজ হবে বলে মনে করছে সংস্থাটি।

পণ্য ক্রয়ের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অনিয়ম, অতিরিক্ত মূল্য আদায় বা প্রতারণার শিকার হলে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের হটলাইন ১৬১২১ নম্বরে অভিযোগ জানানোর জন্য ভোক্তাদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

অধিদপ্তর জানিয়েছে, বাজারে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের স্বাভাবিক সরবরাহ বজায় রাখা এবং নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্য নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এ ধরনের বাজার তদারকি ও আইনানুগ অভিযান অব্যাহত থাকবে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন