রাজনৈতিক চাপ উপেক্ষা করে চিকিৎসা শিক্ষার মান ও রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে; শর্ত পূরণ ছাড়া নতুন বেসরকারি মেডিকেল কলেজের অনুমোদন নয়
রাজনৈতিক চাপ কিংবা প্রভাবশালী মহলের প্রভাব খাটিয়ে মানহীন কোনো মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা করতে দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত। চিকিৎসা শিক্ষার আন্তর্জাতিক মান এবং রোগীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে বলেও জানান তিনি।
বুধবার রাজধানীর মহাখালীতে বাংলাদেশ মেডিকেল এডুকেশন অ্যাক্রিডিটেশন কাউন্সিল (বিএমইএসি) সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত ‘অ্যাসেসর ট্রেনিং’ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শর্ত পূরণ ছাড়া মেডিকেল কলেজের অনুমোদন নয়
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত কোনো নতুন বেসরকারি মেডিকেল কলেজের অনুমোদন দেওয়া হয়নি। এ নিয়ে প্রভাবশালী বিভিন্ন মহলের পক্ষ থেকে চাপ আসছে। তবে মান ও নির্ধারিত শর্ত পূরণ না করে কাউকে মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার অনুমতি দেওয়া হবে না।
তিনি বলেন, “হাসপাতাল ছাড়া মেডিকেল কলেজ হবে আর রোগী না দেখে কেউ চিকিৎসক হয়ে যাবে, এমন পরিস্থিতি চলতে পারে না।”
চিকিৎসা শিক্ষায় বৈষম্য ও ভৌগোলিক ভারসাম্যহীনতা
দেশে চিকিৎসা শিক্ষার বৈষম্য ও ভৌগোলিক অসম বণ্টনের বিষয়টি তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের প্রায় ৫০ শতাংশ মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজ ঢাকা বিভাগে পুঞ্জীভূত। অথচ বাকি সাতটি বিভাগে ভারসাম্যহীনতা স্পষ্ট।
সংসদ বা রাজনৈতিক বক্তৃতায় জনপ্রিয় হওয়ার উদ্দেশ্যে যখন-তখন নিজ জেলা কিংবা উপজেলায় মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার দাবি জানানোর প্রবণতা পরিহার করে পরিকল্পিতভাবে স্বাস্থ্য কাঠামো গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখা বাধ্যতামূলক
চিকিৎসা শিক্ষায় আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণের ওপর জোর দিয়ে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অনুমোদিত ওয়ার্ল্ড ফেডারেশন ফর মেডিকেল এডুকেশনের নিয়ম মেনে অ্যাক্রিডিটেশন অর্জন না করলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের চিকিৎসকদের বৈশ্বিক কর্মক্ষেত্র সংকুচিত হয়ে পড়বে।
চিকিৎসকদের পেশাগত মর্যাদা ও আস্থা ফিরিয়ে আনতে আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখা এখন বাধ্যতামূলক বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
বিদেশে চিকিৎসা শিক্ষা নেওয়ার আগে মান যাচাইয়ের আহ্বান
বিদেশ থেকে ডিগ্রি নিয়ে আসা শিক্ষার্থীদের প্রসঙ্গে উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রতিমন্ত্রী জানান, সম্প্রতি বিদেশ থেকে পাস করে আসা চিকিৎসকদের রেজিস্ট্রেশন পরীক্ষায় মাত্র ৩০ শতাংশ উত্তীর্ণ হয়েছেন।
সন্তানদের কষ্টার্জিত অর্থ ব্যয় করে বিদেশে পাঠানোর আগে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার মান যাচাই করতে অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

