সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬

মার্কিন অবরোধ প্রত্যাহার ও দাবি পূরণ না হলে চুক্তি নয়: ইরান

যুক্তরাষ্ট্রের আচরণ ও বাস্তব পদক্ষেপের ওপর আলোচনার ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে বলে মন্তব্য তেহরানের; দুই দিনের মধ্যে শান্তি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের প্রস্তাব

যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ প্রত্যাহার এবং ইরানের দাবিগুলো পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কোনো চুক্তি হবে না বলে জানিয়েছে তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, গত দুই বছরে যুক্তরাষ্ট্র কূটনৈতিক উদ্যোগ নিতে ব্যর্থ হওয়ার পাশাপাশি সক্রিয়ভাবে কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় বাধা দিয়েছে।

সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বাঘাই বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার ক্ষেত্রে ইরানের প্রধান বিবেচ্য হবে দেশটির সরকারের প্রকৃত আচরণ ও বাস্তব পদক্ষেপ। তাঁর ভাষ্য, ইরানের দাবিগুলো স্পষ্ট ও যৌক্তিক এবং এখন পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার দায়িত্ব যুক্তরাষ্ট্রের।

যুক্তরাষ্ট্রের আচরণের ওপর আলোচনার ভবিষ্যৎ

ইসমাইল বাঘাই বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার ক্ষেত্রে শুধু বক্তব্য নয়, বরং দেশটির সরকারের বাস্তব পদক্ষেপকে গুরুত্ব দেবে ইরান।

তিনি বলেন, “আলোচনার ক্ষেত্রে ইরানের প্রধান বিবেচ্য বিষয় হবে শুধু যুক্তরাষ্ট্র সরকারের প্রকৃত আচরণ ও বাস্তব পদক্ষেপ।”

বাঘাই আরও বলেন, “বল এখন যুক্তরাষ্ট্রের কোর্টে। ইরানের দাবিগুলো সম্পূর্ণ স্পষ্ট ও যৌক্তিক।”

অবরোধ প্রত্যাহার না হলে হরমুজ প্রণালি নিয়ে চুক্তি নয়

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানান, যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ প্রত্যাহার এবং ইরানের ন্যায্য দাবিগুলো পুরোপুরি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কোনো চুক্তি হবে না।

তিনি বলেন, একই শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া বা এর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়েও অগ্রগতি হবে না।

হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক জ্বালানি পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ। এ প্রণালির নিরাপত্তা ও চলাচল স্বাভাবিক করার বিষয়টি ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে বলে বাঘাইয়ের বক্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া যায়।

সাত দফা পরিকল্পনা সংক্ষিপ্ত, দুই দিনে বাস্তবায়নের প্রস্তাব

বাঘাই জানান, ইরানের আগের সাত দফা পরিকল্পনা এখনো আলোচনার টেবিলে রয়েছে। তবে শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ হিসেবে পরিকল্পনাটি সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে এবং দুই দিনের মধ্যে বাস্তবায়ন করা সম্ভব বলে দাবি করেন তিনি।

তিনি বলেন, “এটি ইরানের সদিচ্ছারও প্রমাণ। আমরা জানিয়েছি, ইরানের দাবিগুলো পূরণ করা হলে অল্প সময়ের মধ্যেই হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনা এবং আলোচনা শুরু করা সম্ভব।”

পরবর্তী পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল

ইরানের বক্তব্য অনুযায়ী, দেশটির দাবিগুলো পূরণ করা হলে দ্রুত হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনা এবং আলোচনায় অগ্রসর হওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র কী পদক্ষেপ নেবে, তার ওপরই শান্তি প্রক্রিয়ার ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে বলে জানিয়েছেন বাঘাই।

তিনি বলেন, “এখন পুরো বিষয়টি নির্ভর করছে, এই প্রক্রিয়ার ভবিষ্যৎ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র কীভাবে এগোতে চায় তার ওপর।”


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন