সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬

নতুন বেতনকাঠামোর জটিলতায় শাহ আমানত বিমানবন্দরে ৩১৯ কর্মচারীর বেতন আটকে যাওয়ায় বিক্ষোভ

নতুন বেতনকাঠামোয় নির্ধারণের কাজ শেষ না হওয়ায় ৩১৯ কর্মচারীর বেতন আটকে; প্রশাসনিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অবহেলার অভিযোগ, অস্বীকার তাঁর

নতুন বেতনকাঠামো অনুযায়ী বেতন নির্ধারণের কাজ শেষ করতে দেরি হওয়ায় চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের প্রায় ৩১৯ জন কর্মচারী নভেম্বর মাসের বেতন পাননি। এ ঘটনায় সোমবার সকালে কয়েকশ কর্মচারী বিক্ষোভ করেছেন। তাঁরা দ্রুত বেতন পরিশোধের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

কর্মচারীদের অভিযোগ, বিমানবন্দরের প্রশাসনিক শাখার দায়িত্বে থাকা জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা কায়সার এম মোহাইমেন চাকরিসংক্রান্ত নথিপত্র ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সময়মতো বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) প্রধান কার্যালয়ে পাঠাননি। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করে ওই কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যাচাই করা কাগজপত্র পাওয়ার এক দিনের মধ্যেই তিনি সেগুলো ঢাকায় পাঠিয়েছেন।

দ্রুত বেতন পরিশোধের দাবিতে বিক্ষোভ

সোমবার সকালে বেশ কয়েকজন কর্মচারী বিমানবন্দরের পরিচালকের কার্যালয় ও কায়সার এম মোহাইমেনের কক্ষে গিয়ে জড়ো হন। তাঁরা দ্রুত বেতন পরিশোধ এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

বিক্ষোভকারী কর্মচারীরা বলেন, দেশের অন্যান্য বিমানবন্দরের কর্মচারীরা ১ নভেম্বর বেতন পেয়েছেন। কিন্তু শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কর্মচারীরা এখনো বেতন পাননি।

তাঁদের ভাষ্য, বেতন না পাওয়ায় নিম্ন বেতনভুক্ত অনেক কর্মচারী সংসারের খরচ মেটাতে সমস্যায় পড়েছেন। সন্তানদের স্কুলের বেতন, চিকিৎসার ব্যয় ও দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটানো কঠিন হয়ে উঠেছে।

৩০০ জনের বেতন নির্ধারণ শেষ, দাবি পরিচালকের

বিমানবন্দরের পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ নূর হোসেন জানিয়েছেন, ৩১৯ জন কর্মচারীর মধ্যে ৩০০ জনের বেতন নির্ধারণের কাজ শেষ হয়েছে। বাকি ১৯ জনকে আগের বেতনকাঠামো অনুযায়ী বেতন দেওয়া হবে।

তিনি দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেন, “এখানে প্রায় ৩১৯ জন কর্মচারী রয়েছেন। এর মধ্যে ৩০০ জনের বেতন নির্ধারণের কাজ শেষ হয়েছে। বাকি ১৯ জনকে আগের বেতনকাঠামো অনুযায়ী বেতন দেওয়া হবে।”

পরিচালক জানান, বর্তমানে বিমানবন্দরে নিরাপত্তা নিরীক্ষা চলছে, যা আগামী ৫ নভেম্বর শেষ হওয়ার কথা। এরপর বেতনসংক্রান্ত বাকি আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হবে।

তিনি বলেন, “আমরা আশা করছি, রোববার অথবা সোমবারের মধ্যে পুরো প্রক্রিয়া শেষ করে বেতন পরিশোধ করতে পারব।”

নথিপত্র পাঠাতে দেরির অভিযোগ অস্বীকার কর্মকর্তার

প্রশাসনিক কর্মকর্তা কায়সার এম মোহাইমেন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, বেতন নির্ধারণের জন্য যাচাই করা নথিপত্র তাঁর হাতে পৌঁছানোর এক দিনের মধ্যেই তিনি সেগুলো বেবিচকের প্রধান কার্যালয়ে পাঠিয়েছেন।

তিনি জানান, বেতন নির্ধারণের প্রক্রিয়া সম্পর্কে প্রশিক্ষণ নিতে হিসাব কর্মকর্তা ইমরান চৌধুরী ঢাকায় গিয়েছিলেন। প্রশিক্ষণ শেষে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তৈরি ও যাচাই করা হয়। এরপর ১৯ অক্টোবর সেগুলো তাঁর কাছে হস্তান্তর করা হয়।

কায়সার এম মোহাইমেনের ভাষ্য, ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত দুর্গাপূজার ছুটি থাকায় ওই সময়ে কাগজপত্র পাঠানো সম্ভব হয়নি। পরে ২৫ অক্টোবর তিন কর্মচারীকে চাকরিসংক্রান্ত নথিপত্র নিয়ে ঢাকায় যাওয়ার জন্য ভ্রমণাদেশ দেওয়া হয়। তবে বিমানবন্দরে অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি থাকায় তাঁরা যেতে পারেননি।

তিনি বলেন, “২৭ অক্টোবর আরেকটি ভ্রমণাদেশ দেওয়া হয়। এরপর নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই আমরা নথিপত্র প্রধান কার্যালয়ে পৌঁছে দিয়েছি।”

তিনি আরও জানান, বেবিচক সিদ্ধান্ত নিয়েছে, প্রত্যেক কর্মচারীর বেতন নির্ধারণের কাজের অগ্রগতি অনুযায়ী নতুন অথবা পুরোনো বেতনকাঠামোয় বেতন দেওয়া হবে। দেশের অন্য কয়েকটি বিমানবন্দরের মতো সবাইকে আগের বেতনকাঠামোয় বেতন দেওয়ার সিদ্ধান্ত এখানে নেওয়া হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।

প্রশাসনিক হয়রানির আরও অভিযোগ কর্মচারীদের

বিক্ষোভকারী কর্মচারীদের অভিযোগ, বেতনসংক্রান্ত বিলম্ব কায়সার এম মোহাইমেনের প্রশাসনিক হয়রানির বৃহত্তর চিত্রের একটি অংশ। তাঁদের দাবি, তিনি অধস্তন কর্মচারীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন এবং পদোন্নতি ও বদলিসংক্রান্ত নথিপত্র আটকে রাখেন। বিমানবন্দরের ইজারাসংক্রান্ত কাগজপত্র নিয়েও হয়রানির অভিযোগ করেছেন তাঁরা।

কায়সার এম মোহাইমেন ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে বেবিচকে জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা হিসেবে যোগ দেন। ওই মাসেই তাঁকে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পদায়ন করা হয়। বর্তমানে তিনি প্রশাসনিক কর্মকর্তা, সম্পত্তি কর্মকর্তা, যানবাহন পরিবহন কর্মকর্তা এবং পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

কর্মচারীদের দাবি, ২০২৪ সালের ১১ আগস্ট বেবিচকের প্রধান কার্যালয় থেকে তাঁকে সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বদলির আদেশ দেওয়া হয়েছিল। পরে ওই আদেশ বাতিল করা হয়।

এ ছাড়া বিমানবন্দরের যানবাহন পরিবহন শাখার কার্যক্রমে বাধা দেওয়া এবং বিজয়নগর এলাকার একটি পুনর্বাসন প্রকল্পকে কেন্দ্র করে অর্থ আদায়ের জন্য মানুষকে ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

নিরপেক্ষ তদন্ত ও বকেয়া বেতন পরিশোধের দাবি

কর্মচারীরা তাঁদের উত্থাপিত অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে বেতনসংক্রান্ত প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করে বকেয়া বেতন পরিশোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন