শুধু সনদ বা জিপিএ-৫ নয়, গবেষণা ও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষায় গুরুত্ব দেওয়ার তাগিদ; এআই ও সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের সঙ্গে তাল মেলানোর আহ্বান
প্রযুক্তিনির্ভর, মেধাভিত্তিক ও জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং আধুনিক বাংলাদেশ গড়তে প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থার বাইরে গিয়ে প্রযুক্তিগত জ্ঞান, উদ্ভাবনী গবেষণা ও মেধার বিকাশ ঘটাতে হবে।
সোমবার (২ নভেম্বর) দুপুরে ঢাকায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে বিশ্ববিদ্যালয়টির ২১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
উদ্ভাবনী গবেষণা ও প্রযুক্তিগত শিক্ষায় গুরুত্ব
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে উদ্ভাবনী গবেষণা, আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির চর্চা এবং মেধাভিত্তিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে উদ্যোগী হতে হবে। শুধু সনদ বা জিপিএ-৫ অর্জনের মাধ্যমে একটি জাতি উন্নত হতে পারে না। এ জন্য শিক্ষার গুণগত পরিবর্তন এবং গবেষণামুখী শিক্ষার বিকল্প নেই।
তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে শুধু কর্মসংস্থানের উপযোগী সনদ দেওয়ার প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেখলে চলবে না; এগুলো মুক্তবুদ্ধির চর্চা ও উচ্চতর গবেষণার কেন্দ্র হিসেবেও গড়ে তুলতে হবে।
এআই ও সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের সঙ্গে তাল মেলানোর তাগিদ
প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক অর্থনীতির প্রসঙ্গ তুলে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সেমিকন্ডাক্টর শিল্প ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ (এআই) নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হবে। আগামী দিনের বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে সনাতনী শিক্ষাব্যবস্থার পাশাপাশি উদ্ভাবনী ধারণা, প্রযুক্তিনির্ভর জ্ঞান ও মেধাভিত্তিক জনবল তৈরি জরুরি।
কারিগরি ও প্রযুক্তিগত শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, শুধু সাধারণ শিক্ষায় উচ্চ ডিগ্রি অর্জন করে বেকার থাকার পরিবর্তে আধুনিক বিশ্বের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ ও প্রশিক্ষিত জনশক্তি হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলতে হবে।
জনকল্যাণমূলক কাজের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার আহ্বান
মন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও দেশের স্বার্থ ও জনগণের কল্যাণে জনকল্যাণমূলক কাজের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা উচিত। ‘সবার আগে বাংলাদেশ, সবার আগে জনগণ’—এ নীতিকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
তিনি বলেন, দেশ মানে শুধু ভূখণ্ড বা পতাকা নয়; এর সঙ্গে জনগণের স্বাধিকার ও মালিকানার সম্পর্ক জড়িয়ে রয়েছে।
২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ও দেশপ্রেম ধারণ করে জাতীয় ঐক্য বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে আসতে বলেন।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠার ইতিহাস স্মরণ
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ইতিহাস তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শহীদ নাসিরউদ্দিন পিন্টুসহ অন্যান্য ছাত্রনেতার ঐকান্তিক প্রচেষ্টা এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ইচ্ছায় ১৯৯৫ সালে প্রতিষ্ঠানটিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে বিএনপি সরকারের মেয়াদে ২০০৫ সালে জাতীয় সংসদে আইন পাসের মাধ্যমে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজকে পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নীত করা হয়।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান ক্যাম্পাসের পাশাপাশি কেরানীগঞ্জে ২০০ একর জমির ওপর স্বতন্ত্র ও আধুনিক আবাসিক সুবিধাসম্পন্ন নতুন ক্যাম্পাস নির্মাণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবিদাওয়া পূরণের বিষয়ে সরকারের ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে বলেও জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন যাঁরা
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জাতীয় সংসদের হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু এবং মাদারীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য আনিসুর রহমান তালুকদার।
বিশ্ববিদ্যালয় দিবস ২০২৬ উপলক্ষে দিনব্যাপী আয়োজনে ছিল জাতীয় পতাকা উত্তোলন, আনন্দ র্যালি, চারুকলা প্রদর্শনী, আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও কনসার্ট।

