সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬

জনশৃঙ্খলা ও দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণে আনসার সদস্যদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দিচ্ছে তুরস্কের বিশেষজ্ঞ দল

দেশের জননিরাপত্তা ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা পরিস্থিতি মোকাবিলায় অপারেশনাল সক্ষমতা বাড়াতে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যদের জন্য পাঁচ দিনব্যাপী বিশেষ প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছে। তুরস্কের জেন্ডারমেরি বাহিনীর বিশেষজ্ঞদের পরিচালনায় এ প্রশিক্ষণে জনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, দাঙ্গা মোকাবিলা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের কৌশল শেখানো হচ্ছে।

রোববার (১ নভেম্বর) বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপি একাডেমিতে ‘Public Order Incident Response and Riot Control Training’ শীর্ষক এ প্রশিক্ষণ শুরু হয়। আগামী ৫ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে এ কার্যক্রমে মোট ১১৮ জন প্রশিক্ষণার্থী অংশ নিচ্ছেন। তাঁদের মধ্যে ১১ জন বিসিএস কর্মকর্তা, স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের (এসআরবি) ১০ জন সদস্য এবং আনসার ব্যাটালিয়নের ৯৭ জন সদস্য রয়েছেন।

প্রশিক্ষণ পরিচালনা করছে তুরস্কের জেন্ডারমেরি বাহিনীর পাঁচ সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ দল। দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত তুরস্ক দূতাবাসের নিরাপত্তা, সহযোগিতা ও অভ্যন্তরীণ বিষয়ক কাউন্সেলর জেন্ডারমেরি কর্নেল বোরো তাসদেলেন (Bora Tasdelen)। তাঁর সঙ্গে তুরস্কের জেন্ডারমেরি জেনারেল কমান্ডের তিনজন অভিজ্ঞ প্রশিক্ষক এবং একজন দোভাষী প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে যুক্ত রয়েছেন।

প্রশিক্ষণের প্রথম দিনে জেন্ডারমেরি ফার্স্ট লেফটেন্যান্ট ওগুজহান কারাতাস পাঁচ দিনব্যাপী কর্মসূচির লক্ষ্য, উদ্দেশ্য, পাঠ্যসূচি, প্রশিক্ষণ মডিউল ও পদ্ধতি সম্পর্কে প্রশিক্ষণার্থীদের ধারণা দেন। প্রতিদিন ছয় ঘণ্টা করে অনুষ্ঠিতব্য এ প্রশিক্ষণে তাত্ত্বিক পাঠের পাশাপাশি ব্যবহারিক অনুশীলন, বাস্তব পরিস্থিতিভিত্তিক প্রশিক্ষণ এবং অপারেশনাল কৌশল প্রদর্শনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

প্রথম দিনের তাত্ত্বিক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয় একাডেমির বীর বিক্রম এলাহী বক্স অডিটোরিয়ামে। পরে মধ্যাহ্ন বিরতির পর একাডেমির প্যারেড গ্রাউন্ডে ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ পরিচালনা করা হয়। এ সময় প্রশিক্ষণার্থীদের বিভিন্ন আত্মরক্ষামূলক কৌশল হাতে-কলমে শেখানোর পাশাপাশি সেগুলোর বাস্তব প্রয়োগ প্রদর্শন করেন তুরস্কের বিশেষজ্ঞ প্রশিক্ষকরা।

আয়োজকরা জানান, আনসার ব্যাটালিয়নের সদস্যদের বিদ্যমান পেশাগত দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার সঙ্গে আধুনিক প্রশিক্ষণলব্ধ জ্ঞানের সমন্বয় ঘটানোই এ কর্মসূচির অন্যতম উদ্দেশ্য। এর মাধ্যমে জনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মোকাবিলা, দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণ, আকস্মিক সহিংসতা প্রতিরোধ এবং সংকটকালীন সময়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার সক্ষমতা বাড়বে।

তাদের প্রত্যাশা, এ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যদের পেশাগত দক্ষতা ও সামগ্রিক প্রস্তুতি আরও সুদৃঢ় হবে। পাশাপাশি দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে বাহিনীর কার্যকর ভূমিকা পালনের সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন