বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬

ভুয়া মেজরের প্রেমের ফাঁদে নারী চিকিৎসক, ব্ল্যাকমেইল-ধর্ষণ ও ৫০ লাখ টাকা আত্মসাৎ!

একজন চিকিৎসক নারীকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে ধর্ষণ, পর্নোগ্রাফি এবং প্রতারণার অভিযোগে নিজেকে সেনাবাহিনীর মেজর পরিচয়দানকারী মো. বেনজির হোসেন (৪১) নামে একজন প্রতারককে গ্রেফতার করেছে যশোর জেলা পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল।

মঙ্গলবার (৩ জুন) ভোর রাতে নড়াইল সদর উপজেলার মির্জাপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে নিজ বাড়ির শয়ন কক্ষ থেকে গ্রেফতার করা হয়। অভিযানে তার কাছ থেকে ছয়টি মোবাইল ফোন, তিনটি সিম কার্ড, নিজের নামে একটি পাসপোর্ট ও চারটি চেকের পাতা জব্দ করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আসামি বেনজির হোসেন একজন চিকিৎসকের চেম্বারে রোগী সেজে চিকিৎসা নিতে যান। পরে নিজেকে সেনাবাহিনীর মেজর এবং ক্যাডেট কলেজে পড়াশোনা করেছেন বলে পরিচয় দিয়ে ওই নারীকে প্রেমের প্রস্তাব দেন। একপর্যায়ে বিয়ের মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে সম্পর্ক গড়ে তোলেন এবং বিভিন্ন সময় আবাসিক হোটেলে নিয়ে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন।

অভিযোগ রয়েছে, সম্পর্ক চলাকালে বেনজির গোপনে ওই নারীর নগ্ন ছবি ও ভিডিও ধারণ করেন এবং পরে ব্ল্যাকমেইল করে বাসায় এসে জোরপূর্বক শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন। তিনি বিদেশে ভালো চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে ভুক্তভোগীর কাছ থেকে ৫০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন।

যখন ভুক্তভোগী বিয়ের জন্য চাপ দেন ও অর্থ ফেরত চান, তখন বেনজির জানান যে তিনি বিয়ে করবেন না এবং টাকা ফেরতও দেবেন না। পরে তদন্ত করে জানা যায়, তিনি প্রকৃতপক্ষে সেনাবাহিনীর কেউ নন—এটি ছিল পুরোপুরি সাজানো পরিচয়।

ভুক্তভোগী নারী অভিযোগ করেন, আসামি সবকিছু স্বীকার করলেও তাকে হুমকি দেন যে, বিষয়টি কাউকে জানালে তার শিশুপুত্রকে গুম করে দেবেন এবং নগ্ন ছবি-ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেবেন।

বিষয়টি নিয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের করলে যশোরের পুলিশ সুপার জনাব রওনক জাহান বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দ্রুত আসামিকে গ্রেফতারে নির্দেশনা দেন।

গ্রেফতারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বেনজির হোসেন অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করেন এবং জানান, তিনি এর আগেও বিভিন্ন নারীর সঙ্গে প্রতারণা করেছেন এবং একাধিক থানায় তার নামে পর্নোগ্রাফি ও প্রতারণার মামলা রয়েছে।

গ্রেফতারকৃত আসামির পরিচয়: নাম: মো. বেনজির হোসেন (৪১), পিতা: মৃত জামির হোসেন, ঠিকানা: মির্জাপুর (পূর্বপাড়া), থানা-নড়াইল সদর, জেলা-নড়াইল।

উদ্ধারকৃত আলামত: ১। ছয়টি মোবাইল ফোন, ২। তিনটি সিম কার্ড, ৩। একটি পাসপোর্ট, ৪। চারটি চেকের পাতা

আসামিকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন