গুলিস্তানে সড়ক ও ফুটপাত দখলমুক্ত করতে দুই দফায় অভিযান; পুনরায় দখল করলে মালামাল জব্দ, প্রয়োজনে গ্রেপ্তারের হুঁশিয়ারি আবদুস সালামের
রাস্তা ও ফুটপাত দখল করে হকার বসানোর কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না বলে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম। তিনি বলেছেন, অবৈধ ফুটপাত দখলের পক্ষে যত যুক্তি বা অজুহাতই দেখানো হোক না কেন, নগরবাসীর স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত করতে দখলমুক্ত রাখার অভিযান অব্যাহত থাকবে।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকাল ১১টা ও বিকেল সাড়ে ৩টায় রাজধানীর গুলিস্তান জিরো পয়েন্ট থেকে ঢাকা ট্রেড সেন্টার পর্যন্ত দুই দফায় পরিচালিত উচ্ছেদ অভিযানে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
অভিযানকালে মূল সড়ক ও ফুটপাত দখল করে গড়ে তোলা অবৈধ দোকানপাট উচ্ছেদ করা হয় এবং বিভিন্ন মালামাল জব্দ করা হয়। ডিএসসিসির পক্ষ থেকে জানানো হয়, অভিযানের মাধ্যমে জিরো পয়েন্ট থেকে ঢাকা ট্রেড সেন্টার পর্যন্ত সড়ক ও ফুটপাত দখলমুক্ত করা হয়েছে।
পুনরায় দখল করলে আইনি ব্যবস্থা
বারবার উচ্ছেদ অভিযান চালানোর পরও হকাররা কীভাবে আবার ফুটপাত ও সড়কে ফিরে আসেন—গণমাধ্যমকর্মীদের এমন প্রশ্নের জবাবে আবদুস সালাম বলেন, “যতবারই অবৈধভাবে রাস্তা ও ফুটপাত দখল করা হবে, ততবারই আমরা নগরবাসীর স্বার্থে অভিযান চালাব। একাধিকবার আলোচনা, অনুরোধ ও সতর্ক করার মতো সব ধরনের পদক্ষেপ আমরা নিয়েছি। এখন থেকে অবৈধভাবে বসলে মালামাল জব্দ এবং প্রয়োজনে আইনি ব্যবস্থা ও গ্রেপ্তার করা হবে।”
তিনি জানান, সড়ক ও ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে হকারদের সতর্ক করার পাশাপাশি তাঁদের সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে একাধিকবার আলোচনা করা হয়েছে। এরপরও কেউ পুনরায় অবৈধভাবে বসলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
‘অবৈধ দখলদারদের উৎসাহিত করে এমন প্রশ্ন করবেন না’
হকারদের পুনর্বাসন ছাড়া উচ্ছেদ করা হচ্ছে—এমন অভিযোগ প্রসঙ্গে গণমাধ্যমকর্মীদের উদ্দেশে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, “গণমাধ্যমের কাছে অনুরোধ, এমন কোনো প্রশ্ন করবেন না যাতে অবৈধ দখলকারীরা উৎসাহিত হয়। ঢাকার নাগরিকরা কী চান এবং দেশের সাধারণ মানুষের দাবি কী—দয়া করে সে অনুযায়ী জনমত গড়ে তুলুন।”
তিনি বলেন, সারা দেশের বাস্তুচ্যুত মানুষের দায়িত্ব ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নিতে পারবে না। তবে জনগণের চলাচলে বিঘ্ন না ঘটিয়ে নির্দিষ্ট স্থানে নির্দিষ্টসংখ্যক হকারকে বসার সুযোগ দেওয়া যেতে পারে। বাকিদের নিজ নিজ জেলায় ফিরে যেতে হবে।
আবদুস সালাম বলেন, “এই ঢাকাকে আমাদের বাঁচাতে হবে; এর কোনো বিকল্প নেই।”
আগের দিনের অভিযানেও শতাধিক স্থাপনা উচ্ছেদ
গুলিস্তানে ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে ডিএসসিসির অভিযান আগের দিনও পরিচালিত হয়। বুধবার (২৮ অক্টোবর) ঢাকা ট্রেড সেন্টার ও ফুলবাড়িয়া সুপারমার্কেট-সংলগ্ন ফুটপাত থেকে শতাধিক অবৈধ দোকান ও স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছিল। ওই অভিযানে চারজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, শতাধিক উচ্ছেদকর্মী ও ছয় প্লাটুন পুলিশ অংশ নেয়।
পরপর দুই দিনের অভিযানের বিষয়ে প্রশাসকের বক্তব্য, উচ্ছেদের পর আবার সড়ক ও ফুটপাত দখল করা হলে নগরবাসীর স্বার্থে অভিযান চালানো হবে। নিয়ম অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে মালামাল জব্দের পাশাপাশি প্রয়োজনে গ্রেপ্তার ও অন্যান্য আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযানে পথচারীদের স্বস্তি
উচ্ছেদ অভিযান চলাকালে উপস্থিত সাধারণ পথচারীদের মধ্যে উৎসাহ ও উচ্ছ্বাস দেখা যায় বলে জানানো হয়েছে। কয়েকজন পথচারী স্বস্তি প্রকাশ করেন এবং সড়ক ও ফুটপাত দখলমুক্ত রাখার কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে প্রশাসককে অনুরোধ জানান।

