পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের লক্ষ্য অর্জনে সম্মিলিত উদ্যোগ ও জনসম্পৃক্ততার ওপর গুরুত্ব দিলেন ইসমাইল জবিউল্লাহ
বৃক্ষরোপণকে শুধু আনুষ্ঠানিক কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধ না রেখে গাছের পরিচর্যা ও সংরক্ষণে ব্যাপক সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসনবিষয়ক উপদেষ্টা (মন্ত্রী পদমর্যাদা) ও বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ। তিনি বলেছেন, আগামী পাঁচ বছরে সারা দেশে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের লক্ষ্য সম্মিলিত উদ্যোগ ও জনগণের অংশগ্রহণের মাধ্যমে অর্জন করা সম্ভব।
গত মঙ্গলবার চট্টগ্রাম নগরীর জামিয়াতুল ফালাহ মসজিদের ঈদগাহ প্রাঙ্গণে সরকারের অগ্রাধিকার কর্মসূচি ‘পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ’-এর আওতায় চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত ‘এক দিনে এক লাখ বৃক্ষরোপণ’ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বৃক্ষরোপণকে স্থায়ী সামাজিক উদ্যোগে পরিণত করার আহ্বান
ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ১৯ দফা কর্মসূচিতে বৃক্ষরোপণের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত ছিল। পরবর্তী সময়ে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার শাসনামলে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিকে সামাজিক আন্দোলনে রূপ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
তিনি বলেন, বৃক্ষরোপণ শুধু কথার মধ্যে সীমাবদ্ধ কোনো কর্মসূচি নয়। দেশে ইতোমধ্যে সামাজিকভাবে বৃক্ষরোপণের বিভিন্ন উদ্যোগ ও কাঠামো রয়েছে। এসব বিদ্যমান ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর করার মাধ্যমে বৃক্ষরোপণকে ব্যাপক সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করতে হবে।
উপদেষ্টা বলেন, শুধু গাছ লাগালেই দায়িত্ব শেষ হয় না; গাছের পরিচর্যা ও সংরক্ষণ নিশ্চিত করাও জরুরি। এ ক্ষেত্রে ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে সম্পৃক্ত করে দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নে সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচি
বিএনপির নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের বিষয়ে ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেন, দলটি যেসব প্রতিশ্রুতি দেয়, সেগুলো বাস্তবায়নে বিশ্বাসী। এগুলো শুধু কাগজে-কলমে থাকা পরিকল্পনা নয়।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের সময় থেকেই ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ গঠনে কী করণীয় এবং কোন ক্ষেত্রে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন, তা নিয়ে পরিকল্পনা, গবেষণা ও কাজ চলেছে। এসব উদ্যোগের একটি অংশ নির্বাচনী ইশতেহারে প্রতিফলিত হয়েছে। গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার পর সরকার গঠনের সুযোগ পেলে জনগণের জন্য কী কী করা হবে, সে বিষয়ে বিভিন্ন মেয়াদের লক্ষ্য ও পরিকল্পনা নির্ধারণ করেই ইশতেহার প্রণয়ন করা হয়েছে।
উপদেষ্টা বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিন থেকেই নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া অঙ্গীকার বাস্তবায়নে কাজ শুরু করেছেন। প্রথম মন্ত্রিসভা বৈঠকেই ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যা ইতোমধ্যে বাস্তবায়িত হয়েছে বলে তিনি জানান।
সরকার পরিবারের জন্য ফ্যামিলি কার্ড, কৃষকদের জন্য ফার্মার্স কার্ড, খাল খনন ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি শুরু করেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। পাশাপাশি প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন, বিদেশে কর্মসংস্থান, ‘ওয়ান টিচার ওয়ান ট্যাব’ ও ‘ওয়ান স্টুডেন্ট ওয়ান প্ল্যান্ট’সহ বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানান উপদেষ্টা।
জুলাই পর্যন্ত রোপণ হয়েছে ২ কোটি ৬৩ লাখের বেশি গাছ
ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেন, পাঁচ বছরে সারা দেশে ২৫ কোটি গাছ রোপণ ও রক্ষণাবেক্ষণের অঙ্গীকার করেছে সরকার। গত জুলাই পর্যন্ত নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ২ কোটি ৬৩ লাখ ৯৪ হাজার ৪২৮টি গাছ রোপণ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান নিজেদের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ করছে। এসব বিচ্ছিন্ন উদ্যোগ যথাযথভাবে হিসাবের আওতায় আনা গেলে মোট অর্জনের পরিমাণ আরও বেশি হতে পারে।
বৃক্ষরোপণের অগ্রগতি মূল্যায়নের পাশাপাশি গাছের টিকে থাকা ও পরিচর্যার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করার প্রয়োজনীয়তা তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে।
চট্টগ্রামের পরিবেশগত ঝুঁকি মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতির তাগিদ
চট্টগ্রামের ভূপ্রকৃতির বৈশিষ্ট্য তুলে ধরে উপদেষ্টা বলেন, পাহাড়, সমতল ও সমুদ্রবেষ্টিত হওয়ায় এ অঞ্চল পরিবেশগতভাবে অনন্য। তবে পাহাড়ধসসহ বিভিন্ন ধরনের পরিবেশগত ঝুঁকিও এখানে রয়েছে।
এসব ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি জেলা প্রশাসন ও বিভাগীয় প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, ‘প্রিভেনশন ইজ বেটার দ্যান কিওর’—অর্থাৎ প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ উত্তম। ভূমিধস, দুর্যোগ বা দুর্ঘটনা ঘটে যাওয়ার পর ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে আগেই ঝুঁকি চিহ্নিত করে প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ নিতে হবে।
জলবায়ু তহবিল বণ্টনে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর প্রয়োজন বিবেচনার আহ্বান
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব নিয়ে ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেন, এটি শুধু বাংলাদেশের সমস্যা নয়; বরং বিশ্বব্যাপী একটি সংকট। তবে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাবের সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম।
তিনি বলেন, বৈশ্বিক জলবায়ু তহবিল থেকে বাংলাদেশ প্রত্যাশিত মাত্রায় উপকৃত হয়নি। এ অবস্থায় জলবায়ু তহবিল বরাদ্দের ক্ষেত্রে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর বাস্তব পরিস্থিতি ও প্রয়োজনকে গুরুত্ব দেওয়ার জন্য বিশ্বনেতৃত্বের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন যারা
চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ডা. শাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ, চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমানসহ অন্যান্য গণ্যমান্য ব্যক্তি।

