পাঁচ প্রার্থীর প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ১৮৫টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণের প্রস্তুতি সম্পন্ন; ১১৫টি কেন্দ্রকে অতি গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে নির্বাচন কমিশন।
নির্বাচনী প্রচারণার কোলাহল থেমেছে। মিছিল, সভা-সমাবেশ ও মাইকের শব্দের বদলে এখন ঠাকুরগাঁও-১ আসনে বিরাজ করছে ভোটের অপেক্ষা। আগামীকাল বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদের উপনির্বাচনে পাঁচ প্রার্থীর ভাগ্য নির্ধারণ করবেন ৫ লাখ ১৬ হাজার ১৩৮ জন ভোটার।
মঙ্গলবার সকাল ৮টায় নির্বাচনী প্রচারণা শেষ হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল ৮টায় ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। ভোটাররা যাতে নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সে লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে নির্বাচনসংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
ভোটগ্রহণের সামগ্রী বিতরণ শুরু
নির্বাচনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে বুধবার বেলা ১১টায় ঠাকুরগাঁও জেলা স্কুলের বড় মাঠ থেকে ভোটগ্রহণের সামগ্রী বিতরণ শুরু করে জেলা নির্বাচন অফিস। এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. কামরুল ইসলাম।
এর আগে পুলিশ, আনসার ও ভিডিপির সদস্যরা নিজ নিজ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার কাছ থেকে নির্বাচনী দায়িত্ব বুঝে নেন।
জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. কামরুল ইসলাম বাসসকে জানান, সুষ্ঠুভাবে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন করার জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শেষ হয়েছে। ভোটাররা যাতে নির্বিঘ্নে তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সেটিই এখন সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।
আসনে ভোটার ৫ লাখ ১৬ হাজার ১৩৮ জন
ঠাকুরগাঁও সদর, ভুল্লী ও রুহিয়া উপজেলা নিয়ে গঠিত ঠাকুরগাঁও-১ সংসদীয় আসনে রয়েছে ২২টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এ আসনে মোট ভোটার ৫ লাখ ১৬ হাজার ১৩৮ জন।
ভোটারদের মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৫৭ হাজার ৪৭৫ জন, নারী ২ লাখ ৫৮ হাজার ৬৫৯ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার চারজন। অর্থাৎ, এ আসনে পুরুষ ভোটারের তুলনায় নারী ভোটারের সংখ্যা কিছুটা বেশি।
১৮৫ কেন্দ্রের মধ্যে ১১৫টি অতি গুরুত্বপূর্ণ
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ঠাকুরগাঁও-১ আসনে মোট ভোটকেন্দ্র রয়েছে ১৮৫টি। এর মধ্যে ১১৫টি কেন্দ্রকে অতি গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
এসব কেন্দ্রে বাড়তি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অধিকসংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ভোটগ্রহণের সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পাঁচ প্রার্থী
উপনির্বাচনে পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাঁরা হলেন—
১. বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মির্জা ফয়সল আমীন—ধানের শীষ প্রতীক।
২. বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর দেলাওয়ার হোসেন—দাঁড়িপাল্লা প্রতীক।
৩. বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মো. আবদুল আলীম নিযামী—বটগাছ প্রতীক।
৪. বাংলাদেশ কংগ্রেসের হুসাইন মুহাম্মদ ওমর ফারুক—ডাব প্রতীক।
৫. ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. খাদেমুল ইসলাম—হাতপাখা প্রতীক।
নিরাপত্তায় পুলিশ, বিজিবি ও এসআরবির প্রস্তুতি
নির্বাচন ঘিরে নিরাপত্তা প্রস্তুতির বিষয়ে ঠাকুরগাঁওয়ের পুলিশ সুপার মো. বেলাল হোসেন বাসসকে বলেন, নির্বাচনে কোনো পক্ষকে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হবে না। ফলাফল যার পক্ষেই যাক, সবাই তা মেনে নেবেন বলে তিনি প্রত্যাশা করেন। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি সুন্দর নির্বাচন সম্ভব বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)ও নির্বাচন ঘিরে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। বিজিবির ঠাকুরগাঁও সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মো. সুরুজ মিয়া বাসসকে জানান, ভোটাররা যাতে নিরাপদে কেন্দ্রে এসে ভোট দিতে পারেন, সে লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
এদিকে, উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে সার্বিক নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি-১৩)। ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানান ব্যাটালিয়নটির অধিনায়ক লে. কর্নেল মনজুর করিম। বুধবার ঠাকুরগাঁও জেলা বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে তিনি এ তথ্য জানান।
সব মিলিয়ে ভোটগ্রহণের সামগ্রী বিতরণ, নির্বাচনী দায়িত্ব বণ্টন এবং নিরাপত্তা প্রস্তুতির মধ্য দিয়ে উপনির্বাচনের শেষ মুহূর্তের কার্যক্রম চলছে। এখন ভোটারদের অংশগ্রহণে শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হওয়ার অপেক্ষা।

