ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের হামলার হুমকির মধ্যেই সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আবারও আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চলাচল শুরু হয়েছে। দুই সপ্তাহ আগে হামলার পর বিমানবন্দরটির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর রোববার (২৫ অক্টোবর) থেকে আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট পরিচালনা পুনরায় শুরু হয়।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, টার্মিনাল-১ ও টার্মিনাল-২ থেকে অভ্যন্তরীণ এবং আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চলাচল আবার চালু করা হয়েছে। এর আগে গত সপ্তাহে সীমিত পরিসরে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট পরিচালনার জন্য বিমানবন্দরটি খুলে দেওয়া হয়েছিল। এবার আন্তর্জাতিক ফ্লাইটও পুনরায় চালু হলো।
তবে বিমানবন্দরের কার্যক্রম স্বাভাবিক করার উদ্যোগের মধ্যেই রিয়াদকে লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার হুমকি অব্যাহত রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে বিমান চলাচল পুনরায় শুরু হলেও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ রয়ে গেছে।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের টার্মিনাল-১ ও টার্মিনাল-২ থেকে আন্তর্জাতিক এবং অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট পরিচালনা শুরু হয়েছে। এর ফলে রিয়াদের সঙ্গে বিভিন্ন গন্তব্যের আকাশপথে যোগাযোগ পুনরায় সচল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিমানবন্দরটি সৌদি আরবের রাজধানীর অন্যতম প্রধান বিমান যোগাযোগকেন্দ্র। এর কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ায় যাত্রী পরিবহন ও আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছিল।
প্রথম পর্যায়ে সীমিত পরিসরে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট চালুর পর এবার আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পুনরায় চালু করাকে বিমানবন্দরের কার্যক্রম স্বাভাবিক করার আরেকটি পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিমানবন্দর চালু হওয়ার পরও এর নিরাপত্তা নিয়ে হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা। গোষ্ঠীটির সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি দাবি করেছেন, রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এখনো অনিরাপদ।
তিনি আন্তর্জাতিক, আঞ্চলিক ও স্থানীয় বিমান সংস্থাগুলোকে বিমানবন্দরটি ব্যবহার না করার বিষয়ে সতর্ক করেছেন। একই সঙ্গে বিমান সংস্থার কর্মী ও যাত্রীদেরও বিমানবন্দরটি এড়িয়ে চলার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
ইয়াহিয়া সারির দাবি, বিমানবন্দরটি হুতি বাহিনীর সামরিক লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তবে তাঁর এই বক্তব্যের বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা কোনো তথ্য এখানে পাওয়া যায়নি।
বিমানবন্দর পুনরায় চালু হলেও রিয়াদকে লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার হুমকি অব্যাহত থাকার বিষয়টি আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে।
বিমান চলাচল পুনরায় শুরু করার ক্ষেত্রে যাত্রী ও কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ফ্লাইট পরিচালনা স্বাভাবিক রাখা এবং সম্ভাব্য হামলার ঝুঁকি মোকাবিলা করা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।
তবে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা পরিস্থিতি, সম্ভাব্য হামলার বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ মূল্যায়ন এবং ফ্লাইট পরিচালনায় কোনো নতুন বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে কি না—এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
রিয়াদের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্লাইট চলাচল পুনরায় শুরু হওয়ায় যাত্রী পরিবহন ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগ স্বাভাবিক করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে হামলার হুমকি অব্যাহত থাকলে বিমান সংস্থাগুলোর ফ্লাইট পরিচালনা, যাত্রীদের ভ্রমণ পরিকল্পনা এবং আঞ্চলিক আকাশপথের নিরাপত্তা নিয়ে অনিশ্চয়তা বজায় থাকতে পারে।
সব মিলিয়ে, কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পুনরায় চালু হলেও হুতি বিদ্রোহীদের হুমকির কারণে নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখনো গুরুত্বপূর্ণ উদ্বেগের বিষয়। বিমান চলাচলের স্বাভাবিকতা কতটা বজায় থাকবে, তা নির্ভর করবে পরবর্তী নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপের ওপর।

