জুন থেকে ৪৫৭টি দাবানল, গৃহহীন কয়েক শ মানুষ; পুড়েছে এক হাজার হেক্টরের বেশি কৃষিজমি
এল নিনোর প্রভাবে সৃষ্ট তাপপ্রবাহ ও শুষ্ক আবহাওয়ায় পেরুতে দাবানলে জুন থেকে এখন পর্যন্ত ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় গৃহহীন হয়েছেন কয়েক শ মানুষ। বুধবার দেশটির কর্তৃপক্ষ এ তথ্য জানিয়েছে।
জাতীয় জরুরি কার্যক্রম কেন্দ্র (সিওইএন) জানায়, নিহত ব্যক্তিদের বেশির ভাগই কৃষক। দাবানল নেভানোর চেষ্টা করতে গিয়ে তাঁরা আহত হন। পরে তাঁদের মৃত্যু হয়।
লিমা থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত কুসকো অঞ্চল
দাবানলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পেরুর কুসকো অঞ্চল। চলতি মাসের শুরুর দিকে সেখানে ইনকা সভ্যতার ঐতিহাসিক নিদর্শন মাচু পিচুর কাছেই একটি দাবানল ছড়িয়ে পড়ে।
জুন থেকে অক্টোবর পর্যন্ত পেরুতে মোট ৪৫৭টি দাবানলের ঘটনা নথিভুক্ত করা হয়েছে। এসব দাবানলে এক হাজার হেক্টরের বেশি কৃষিজমি পুড়ে গেছে। ধ্বংস হয়েছে প্রায় ১০০টি বাড়ি। এ ছাড়া আগুনে পুড়ে গেছে ১২ হাজার হেক্টর প্রাকৃতিক উদ্ভিদ।
সিওইএন জানায়, বুধবার আন্দিজ পর্বতমালা ও পেরুর আমাজন অঞ্চলে সাতটি দাবানল জ্বলছিল।
তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও শুষ্ক আবহাওয়ায় বাড়ছে ঝুঁকি
লিমার সায়েন্টিফিক ইউনিভার্সিটি অব দ্য সাউথের জীববিজ্ঞানী ড্যানিয়েল ভালে বলেন, এল নিনোর কারণে তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও শুষ্ক আবহাওয়া তৈরি হওয়ায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে।
এএফপিকে তিনি বলেন, ‘এল নিনোর প্রভাবে পুরো পেরুর ওপর প্রচণ্ড গরম ও শুষ্ক বাতাসের বিশাল স্তর তৈরি হয়েছে।’
এদিকে, ফসল ফলানোর জন্য জমি পরিষ্কার করতে কৃষকেরা প্রায়ই ঝোপঝাড়ে আগুন দেন। এসব আগুন থেকেও অনেক সময় দাবানলের সূত্রপাত হয়।
বিশ্বজুড়ে আবহাওয়ায় প্রভাব ফেলছে এল নিনো
এল নিনো একটি প্রাকৃতিক আবহাওয়াজনিত ঘটনা। এর ফলে প্রশান্ত মহাসাগরের নিরক্ষীয় অঞ্চলের মধ্য ও পূর্ব অংশের উপরিভাগের পানির তাপমাত্রা বেড়ে যায়। এতে বিশ্বজুড়ে বাতাসের প্রবাহ, বায়ুচাপ ও বৃষ্টিপাতের ধরনে পরিবর্তন আসে।
চলতি বছরের ‘সুপার’ এল নিনো ডিসেম্বরে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। তবে এরই মধ্যে মধ্য আমেরিকাসহ কয়েকটি অঞ্চলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যাচ্ছে। খরার কারণে এসব অঞ্চলে প্রাণীরও মৃত্যু হচ্ছে।

