বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬

হরমুজ প্রণালিতে মাইনের আঘাতে জাহাজে আগুন, দাবি আইআরজিসির

জাহাজগুলোতে আগুন, গুরুত্বপূর্ণ জলপথে নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের উত্তেজনা বাড়ছে

কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের সময় সমুদ্রে পেতে রাখা মাইনের বিস্ফোরণে তিনটি তেলবাহী জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। তেহরানের বিবেচনায় অবৈধ পথে প্রণালিটি অতিক্রমের চেষ্টা করায় জাহাজগুলো মাইনের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

মঙ্গলবার আইআরজিসির সরকারি সংবাদমাধ্যম সেপাহ নিউজের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, হরমুজ প্রণালির দক্ষিণাংশে একটি অবৈধ প্রবেশপথে ইরানি নৌবাহিনীর সদস্যদের পেতে রাখা মাইনে আঘাত লেগে দুটি তেলবাহী জাহাজে আগুন ধরে যায়। পরে জাহাজ দুটি থেমে যায়।

পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত আরেক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, হরমুজ প্রণালির দক্ষিণে একটি নৌমাইনে আঘাত লেগে তৃতীয় একটি তেলবাহী জাহাজেও বিস্ফোরণ ঘটে এবং আগুন ধরে যায়।

তৃতীয় জাহাজে ছিল ২০ লাখ ব্যারেলের বেশি তেল

আইআরজিসির দাবি, তৃতীয় জাহাজটিতে ২০ লাখ ব্যারেলের বেশি অপরিশোধিত তেল ছিল। জাহাজটি তার সব রাডার ও নৌ-চলাচলসংক্রান্ত ব্যবস্থা বন্ধ করে রেখেছিল বলেও জানিয়েছে ইরানি বাহিনী।

তবে ক্ষতিগ্রস্ত তিনটি জাহাজের নাম, পতাকাবাহী দেশ, হতাহতের সংখ্যা কিংবা ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত তথ্য বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়নি। জাহাজগুলোতে মাইনের আঘাতের বিষয়ে আইআরজিসির দাবির স্বতন্ত্র সত্যতা যাচাইয়ের তথ্যও প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।

হরমুজ প্রণালি ঘিরে সংঘাত তীব্র

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ওমানের উপকূলঘেঁষা দক্ষিণ দিকের পথ দিয়ে হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের চেষ্টা করা জাহাজগুলোকে বারবার লক্ষ্যবস্তু করেছে ইরানি বাহিনী বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালানোর মধ্য দিয়ে সংঘাত শুরু হয়। ওই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা এবং দেশটির জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তারা নিহত হন।

এরপর থেকে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে অবরোধ আরোপের চেষ্টা করছে ইরান। তেহরানের দাবি, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের আগে সব জাহাজকে ইরানের অনুমতি নিতে হবে। স্বাভাবিক সময়ে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এখানে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও বাণিজ্যে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।

ইরানের পদক্ষেপের জবাবে দেশটির বন্দর ও জাহাজ চলাচলের ওপর পাল্টা অবরোধ আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

স্বল্পমূল্যের অস্ত্র দিয়ে মার্কিন সামরিক সরঞ্জাম লক্ষ্যবস্তু করার দাবি

এদিকে মঙ্গলবার ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ আলি আবদোল্লাহি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয়বহুল সামরিক সরঞ্জামকে লক্ষ্যবস্তু করতে কম খরচের অস্ত্র ব্যবহার করছে তার দেশ।

তিনি বলেন, ‘শত্রুপক্ষ আরও কোনো ভুল করলে আমরা স্বল্পমূল্যের, কিন্তু কার্যকর বিভিন্ন সরঞ্জাম ব্যবহার করে তাদের ব্যয়বহুল ও অত্যাধুনিক সামরিক সরঞ্জামের কার্যকারিতা নষ্ট করে দেব।’

আবদোল্লাহির এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এল, যখন হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল এবং জলপথটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছে।

জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ

সাম্প্রতিক দিনগুলোতে হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের চেষ্টাকারী জাহাজগুলোর ওপর হামলার ঘটনা বেড়েছে। ওয়াশিংটন আরও বেশি জাহাজকে নিরাপত্তা দিয়ে প্রণালিটি পার করাতে চাইছে। অন্যদিকে, জাহাজ চলাচলের ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে চাইছে তেহরান।

গত কয়েক দিনেও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে একাধিক তেলবাহী জাহাজ মাইনের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে আইআরজিসি।

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালিতে একের পর এক জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনায় আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। একই সঙ্গে এ জলপথের নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হচ্ছে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন