কর ফাঁকি রোধ, করজাল সম্প্রসারণ এবং রাজস্ব আদায় বাড়াতে করদাতাদের আয়, সম্পদ, বিনিয়োগ ও ব্যয়সংক্রান্ত তথ্য যাচাইয়ে নজরদারি জোরদারের পরিকল্পনা করছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এ উদ্যোগের আওতায় ফ্ল্যাট-জমি কেনাবেচা, গাড়ির নিবন্ধন, ক্রেডিট কার্ডের লেনদেন ও বিদেশ ভ্রমণসহ বিভিন্ন খাতের তথ্য যাচাইয়ের বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে বলে জানা গেছে।
পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হলো করদাতাদের ঘোষিত আয়ের সঙ্গে তাঁদের সম্পদ অর্জন, বিনিয়োগ ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের সামঞ্জস্য নিরূপণ করা। এর মাধ্যমে আয় গোপন, করযোগ্য সম্পদ অপ্রদর্শন এবং সম্ভাব্য কর ফাঁকির ঘটনা শনাক্ত করার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
স্থাবর সম্পদ ও বিনিয়োগে নজর
করদাতাদের ফ্ল্যাট, জমি ও বাড়ি কেনা এবং মালিকানাসংক্রান্ত তথ্য যাচাইয়ের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। ঘোষিত আয়ের তুলনায় সম্পদ অর্জনের পরিমাণে উল্লেখযোগ্য অসংগতি পাওয়া গেলে তা অধিকতর যাচাইয়ের আওতায় আসতে পারে।
গাড়ি, ক্রেডিট কার্ড ও বিদেশ ভ্রমণের তথ্য
ব্যক্তিগত গাড়ি ক্রয় ও নিবন্ধন, ক্রেডিট কার্ডের লেনদেন এবং বিদেশ ভ্রমণের তথ্যও যাচাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এসব তথ্য বিশ্লেষণ করে করদাতার ঘোষিত আয় ও প্রকৃত ব্যয়ের মধ্যে কোনো অসংগতি রয়েছে কি না, তা নির্ধারণের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
ইউটিলিটি সংযোগ ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের তথ্য
বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানির সংযোগ এবং বিলসংক্রান্ত তথ্যও যাচাইয়ের বিবেচনায় রয়েছে। পাশাপাশি মুদি দোকান, রেস্তোরাঁ, বিউটি পার্লারসহ বিভিন্ন খুচরা ও সেবা খাতের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের আয় এবং কর-সংক্রান্ত তথ্য যাচাইয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলা হচ্ছে।
এসব খাতে প্রকৃত ব্যবসায়িক আয় ও ঘোষিত আয়ের মধ্যে পার্থক্য শনাক্ত করা গেলে করের আওতা সম্প্রসারণ এবং রাজস্ব সংগ্রহে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
রাজস্ব আদায় ও স্বচ্ছতা বাড়ানোর লক্ষ্য
সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন উৎসের তথ্য সমন্বয়ের মাধ্যমে করদাতাদের আয়, সম্পদ ও ব্যয়ের আরও নির্ভরযোগ্য চিত্র পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে সম্পদ কেনা, বেশি ব্যয় কিংবা বিদেশ ভ্রমণ কর ফাঁকির প্রমাণ নয়। কোনো অসংগতি শনাক্ত হলে প্রচলিত আইন ও যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তা যাচাই করতে হবে।
পরিকল্পনাটি কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে কর ফাঁকি শনাক্তকরণ, করজাল সম্প্রসারণ এবং রাজস্ব আদায় বাড়ানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

