বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬

৬৫০ কোটি টাকায় ইউরিয়া সার ও ফসফরিক অ্যাসিড কেনার প্রস্তাব অনুমোদন

কৃষি উৎপাদন সচল রাখতে ৭০ হাজার টন ইউরিয়া ও ২০ হাজার টন ফসফরিক অ্যাসিড কেনার সিদ্ধান্ত

দেশের কৃষি উৎপাদন সচল রাখা এবং সারের সরবরাহ নিশ্চিত করতে প্রায় ৬৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে ইউরিয়া সার ও ডিএপি সার উৎপাদনের কাঁচামাল ফসফরিক অ্যাসিড কেনার প্রস্তাব অনুমোদন করেছে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। এর আওতায় কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো) থেকে ৩০ হাজার টন এবং সৌদি আরবের সাবিক এগ্রি-নিউট্রিয়েন্টস কোম্পানি থেকে ৪০ হাজার টন ইউরিয়া সার কেনা হবে। পাশাপাশি ডিএপি সার উৎপাদনের জন্য ২০ হাজার টন ফসফরিক অ্যাসিড আমদানির প্রস্তাবও অনুমোদন পেয়েছে।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় এসব প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়।

৭০ হাজার টন ইউরিয়া সার কিনতে ব্যয় ৩৬৪ কোটি টাকা

সভায় উপস্থাপিত প্রস্তাব অনুযায়ী, কাফকো থেকে ৩০ হাজার টন ব্যাগড গ্র্যানুলার ইউরিয়া সার কিনতে ব্যয় হবে প্রায় ১৫১ কোটি ৩০ লাখ টাকা। এ ক্ষেত্রে প্রতি টন সারের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৪০৮ দশমিক ৩৭৫ মার্কিন ডলার।

অন্যদিকে, সৌদি আরবের সাবিক এগ্রি-নিউট্রিয়েন্টস কোম্পানি থেকে ৪০ হাজার টন বাল্ক গ্র্যানুলার ইউরিয়া সার আমদানিতে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ২১৩ কোটি ২৪ লাখ টাকা। প্রতি টন সারের দাম পড়বে ৪৩১ দশমিক ৬৭ মার্কিন ডলার।

শিল্প মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাব অনুযায়ী, বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) মাধ্যমে এসব ইউরিয়া সার কেনা হবে। এ ব্যয় মেটানো হবে কৃষি মন্ত্রণালয়ের ভর্তুকি খাতের বরাদ্দ থেকে।

ফসফরিক অ্যাসিড আমদানিতে ব্যয় ২৮৫ কোটি টাকা

চট্টগ্রামের ডিএপি ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএফসিএল) জন্য ২০ হাজার টন ফসফরিক অ্যাসিড আমদানির প্রস্তাবও অনুমোদন করেছে ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। এতে ব্যয় হবে প্রায় ২৮৫ কোটি টাকা। প্রতি টন ফসফরিক অ্যাসিডের দাম ধরা হয়েছে ১ হাজার ৮৭ মার্কিন ডলার।

আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে এ আমদানি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। দরপত্রে একটি প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। কারিগরিভাবে গ্রহণযোগ্য বিবেচিত হওয়ায় সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক প্রতিষ্ঠান মেসার্স জেনট্রেড এফজেডই থেকে ফসফরিক অ্যাসিড কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বিসিআইসির মাধ্যমে এ ক্রয়প্রস্তাব বাস্তবায়ন করা হবে। এর অর্থায়ন হবে সরকারি তহবিল (জিওবি) থেকে।

২০২৬-২৭ অর্থবছরে ইউরিয়ার চাহিদা ৩০ লাখ টন

সভায় উপস্থাপিত নথি অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে দেশে ইউরিয়া সারের চাহিদা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩০ লাখ টন। এর মধ্যে কাফকো থেকে ৫ লাখ ৫০ হাজার টন ইউরিয়া সার কেনার পরিকল্পনা রয়েছে।

অন্যদিকে, চলতি অর্থবছরে ১ লাখ ৪০ হাজার টন ডিএপি সার উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে মোট ১ লাখ ৬৫ হাজার ৮০০ টন ফসফরিক অ্যাসিড প্রয়োজন হবে।

কৃষি উৎপাদন সচল রাখতে ইউরিয়া সার সংগ্রহ এবং ডিএপি উৎপাদনের কাঁচামাল আমদানির এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অনুমোদিত প্রস্তাবগুলোর মাধ্যমে দেশে সারের সরবরাহ ও উৎপাদন কার্যক্রম অব্যাহত রাখার লক্ষ্য রয়েছে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন