বেইজিংয়ে এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট ব্যাংকের আয়োজনে আলোচনা, দুই দেশের ২০ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্যে ব্যাংকিং সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগ
বাংলাদেশে শাখা খোলার বিষয়ে চীনের বড় ব্যাংকগুলোকে উৎসাহিত করতে ইনভেস্ট বাংলাদেশের সহযোগিতায় বেইজিংয়ে ‘বাংলাদেশ ডে’ অনুষ্ঠানের আয়োজন করছে চীনের এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট ব্যাংক। মঙ্গলবার ব্যাংকটির নিজস্ব সদর দপ্তরে এ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে চীনা ব্যাংকগুলোর শাখা স্থাপনের সম্ভাবনা, নিয়ন্ত্রক সংস্থার শর্ত এবং সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা হবে। এতে চীনের বিভিন্ন ব্যাংক ও বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিনিধিদের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। অনুষ্ঠানে যোগ দিতে বর্তমানে চীন সফরে রয়েছেন ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী।
চীনা ব্যাংকগুলোর আগ্রহ যাচাইই মূল লক্ষ্য
ইনভেস্ট বাংলাদেশের সদস্য নাহিয়ান রহমান রচি দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে (টিবিএস) বলেন, বাংলাদেশে চীনা ব্যাংকের শাখা স্থাপনের সম্ভাবনা তুলে ধরা এবং এ বিষয়ে ব্যাংকগুলোর আগ্রহ যাচাই করাই এ উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।
তিনি বলেন, অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে শাখা খোলার সম্ভাব্যতা, প্রয়োজনীয় শর্ত ও সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা হবে। এর মাধ্যমে চীনা ব্যাংকগুলোর আগ্রহ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
নাহিয়ান রহমান রচি আরও বলেন, শুধু অনুষ্ঠান আয়োজনের মাধ্যমে বাংলাদেশে চীনা ব্যাংকের শাখা চালু হয়ে যাবে, বিষয়টি এমন নয়। তবে এ আয়োজনের পর এ বিষয়ে বাস্তবভিত্তিক অনুসন্ধান ও আলোচনা শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
দুই দেশের বাণিজ্য ২০ বিলিয়ন ডলার
নাহিয়ান রহমান রচি জানান, বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ২ হাজার কোটি বা ২০ বিলিয়ন ডলার। এত বড় বাণিজ্যিক সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশে এখনো কোনো চীনা ব্যাংকের শাখা নেই। অথচ বাংলাদেশের তুলনায় কম বাণিজ্য রয়েছে—এমন কয়েকটি দেশেও চীনা ব্যাংক কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
দুই দেশের বড় বাণিজ্যিক সম্পর্কের বিষয়টি তুলে ধরে চীনা ব্যাংকগুলোকে বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরুর সম্ভাবনা বিবেচনায় নিতে উৎসাহিত করা হবে বলে জানান তিনি।
অনুষ্ঠানের পর ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী ও বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের মধ্যে এ বিষয়ে পৃথক বৈঠকের পরিকল্পনাও রয়েছে।
শাখা খুলতে আগ্রহী ব্যাংককে সহযোগিতা করবে বাংলাদেশ ব্যাংক
বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, কোনো চীনা ব্যাংক বাংলাদেশে শাখা খুলতে আগ্রহী হলে এ ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে।
চীন বাংলাদেশের বৃহত্তম একক বাণিজ্য অংশীদার এবং অন্যতম প্রধান উন্নয়ন সহযোগী। ব্যবসায়ী নেতাদের মতে, বাংলাদেশে চীনা ব্যাংকের শাখা স্থাপিত হলে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক লেনদেন সহজ হবে। একই সঙ্গে আমদানি-রপ্তানিতে অর্থায়ন এবং বিনিয়োগ কার্যক্রমেও সহযোগিতা বাড়বে।
চীনা মুদ্রায় এলসি খোলার সুযোগ চান ব্যবসায়ীরা
বাংলাদেশ চায়না চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (বিসিসিসিআই) সভাপতি মো. খোরশেদ আলম টিবিএসকে বলেন, চীনা ব্যাংকগুলো বাংলাদেশে শাখা খুলতে অত্যন্ত আগ্রহী। এ উদ্যোগ এগিয়ে নিতে সর্বশেষ কুনমিং সফরের সময় একটি চীনা ব্যাংকের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই করেছে বিসিসিসিআই।
খোরশেদ আলম বলেন, বাংলাদেশের তুলনায় কম বাণিজ্য থাকা সত্ত্বেও শ্রীলঙ্কায় চীনা ব্যাংকের শাখা রয়েছে। অথচ বাংলাদেশে এখনো কোনো চীনা ব্যাংকের শাখা নেই। বর্তমানে ডলারে ঋণপত্র (এলসি) খুলতে হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, বাংলাদেশ কেন চীনা মুদ্রায় এলসি খোলার সুযোগ পাচ্ছে না।
ব্যবসায়ী নেতাদের মতে, বাংলাদেশে চীনা ব্যাংকের শাখা চালু হলে দুই দেশের বাণিজ্যে অর্থায়নের বিকল্প বাড়বে এবং লেনদেন আরও সহজ হতে পারে।

