বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬

টঙ্গীতে গ্যাস লিকেজের আগুনে প্রাণ গেল স্বামী-স্ত্রীর, সংকটাপন্ন মেয়ে

৮৫–৯৫ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল তিনজনের শরীর; আশঙ্কাজনক অবস্থায় আইসিইউতে ১৬ বছরের মেয়ে

গাজীপুর মহানগরীর টঙ্গীতে বাসায় গ্যাস লিকেজ থেকে ছড়িয়ে পড়া আগুনে দগ্ধ হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন স্বামী-স্ত্রী। এ ঘটনায় তাদের ১৬ বছর বয়সী মেয়ে তানিশা আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন।

বুধবার (২১ অক্টোবর) দিবাগত রাতে ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই দম্পতির মৃত্যু হয়।

নিহতরা হলেন ময়মনসিংহের ফুলপুর থানার কুড়িপাড়া এলাকার মান্নাছ আলীর ছেলে লাল চাঁন মিয়া (৬০) ও তার স্ত্রী নাসিমা (৫০)। তাঁরা টঙ্গী পশ্চিম থানার ৫২ নম্বর ওয়ার্ডের মুদাফা এলাকার মাস্টার বাড়ি সংলগ্ন ফখরুল হাসানের বাসায় ভাড়া থাকতেন। স্বামী-স্ত্রী দুজনই একটি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন।

গাজীপুর মহানগর পুলিশের (জিএমপি) টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শাহীন খান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

চুলা জ্বালাতে গিয়ে আগুন ছড়িয়ে পড়ে

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, টঙ্গী পশ্চিম থানার চেরাগ আলী মার্কেটসংলগ্ন মুদাফা এলাকার মাস্টার বাড়ি রোডের একটি ভাড়া বাসায় পরিবারটি বসবাস করত। বুধবার সকাল ৬টার দিকে রান্নাঘরে গিয়ে চুলা জ্বালানোর চেষ্টা করেন পরিবারের সদস্যরা। এ সময় ঘরের ভেতরে ছড়িয়ে থাকা গ্যাসে আগুন ধরে যায়। এতে লাল চাঁন, নাসিমা ও তাঁদের মেয়ে তানিশা দগ্ধ হন।

পরে স্থানীয় লোকজন তাঁদের উদ্ধার করে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার রাতেই মারা যান লাল চাঁন ও নাসিমা। তাঁদের মেয়ে এখনো আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন।

শরীরের বড় অংশ পুড়ে যায় তিনজনের

এর আগে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগের আবাসিক সার্জন ডা. সুলতান মাহমুদ সিকদার গণমাধ্যমকে জানান, গ্যাস লিকেজ থেকে আগুনের ঘটনায় দগ্ধ তিনজনকে সংকটাপন্ন অবস্থায় বার্ন ইউনিটে নেওয়া হয়।

তিনি জানান, লাল চাঁনের শরীরের প্রায় ৯৫ শতাংশ, নাসিমার প্রায় ৮৫ শতাংশ এবং তানিশার শরীরের প্রায় ৮৫ থেকে ৮৬ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল।

গ্যাস লিকেজ থেকে আগুনের ধারণা

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, গ্যাসের লাইনে লিকেজের কারণে ঘরের ভেতরে গ্যাস জমে ছিল। রান্নার চুলা জ্বালানোর জন্য আগুন ধরাতেই তা ঘরের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। তবে ঘটনাস্থলে বিস্ফোরণের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আরিফুর রহমান বলেন, জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই দম্পতির মৃত্যু হয়েছে। তাঁদের মেয়ে এখনো আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। নিহতদের মরদেহের আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

গ্যাস ব্যবহারে সতর্কতার পরামর্শ

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রান্নার চুলা, গ্যাসের পাইপলাইন ও সিলিন্ডারে লিকেজ আছে কি না, তা নিয়মিত পরীক্ষা করা জরুরি। গ্যাসের গন্ধ পেলে সতর্ক হতে হবে এবং আগুন জ্বালানো বা বৈদ্যুতিক সুইচ চালু করা থেকে বিরত থাকতে হবে।

শহরাঞ্চলের বাসাবাড়িতে গ্যাস সংযোগ কিংবা সিলিন্ডার ব্যবহারে সামান্য অসতর্কতাও বড় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। টঙ্গীর এ ঘটনা গ্যাস ব্যবহারে নিরাপত্তাবিধি মেনে চলার গুরুত্ব আবারও সামনে এনেছে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন