চলতি অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ১৩ অক্টোবর পর্যন্ত প্রবাসী আয় ৯.৯৯৭ বিলিয়ন ডলার, শুধু ১৩ অক্টোবর এসেছে ১১ কোটি ৫০ লাখ ডলার
চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম সাড়ে তিন মাসে দেশে প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স প্রবাহে ইতিবাচক ধারা অব্যাহত রয়েছে। ১ জুলাই থেকে ১৩ অক্টোবর পর্যন্ত সময়ে দেশে ৯.৯৯৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। আগের অর্থবছরের একই সময়ে আসা ৮.৮৫৬ বিলিয়ন ডলারের তুলনায় এ আয় ১২.৯ শতাংশ বেশি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ থেকে ১৩ অক্টোবর পর্যন্ত দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ১.৪০৫ বিলিয়ন ডলার। ২০২৫ সালের একই সময়ে এসেছিল ১.২৭০ বিলিয়ন ডলার। সে হিসাবে অক্টোবরের প্রথম ১৩ দিনে রেমিট্যান্স প্রবাহে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১০.৬ শতাংশ।
এ ছাড়া শুধু ১৩ অক্টোবর প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশে পাঠিয়েছেন ১১৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। স্বল্প সময়ের ব্যবধানেও রেমিট্যান্স প্রবাহের এই পরিমাণ প্রবাসী আয়ের ধারাবাহিকতা তুলে ধরছে।
বৈদেশিক মুদ্রার জোগানে ইতিবাচক ভূমিকা
রেমিট্যান্স দেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উৎস। প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ দেশের বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য রক্ষা, বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহ বাড়ানো এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে ভূমিকা রাখে।
চলতি অর্থবছরের শুরু থেকে রেমিট্যান্স প্রবাহে প্রবৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় বৈদেশিক খাতে ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে প্রবাসী আয়ের ধারাবাহিক প্রবাহ দেশের আমদানি ব্যয় মেটানো এবং বৈদেশিক লেনদেনসংক্রান্ত চাপ মোকাবিলায় সহায়ক হতে পারে।
অক্টোবরেও প্রবৃদ্ধির ধারা
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবরের প্রথম ১৩ দিনে রেমিট্যান্স প্রবাহ আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১০.৬ শতাংশ বেড়েছে। অন্যদিকে, পুরো অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ১৩ অক্টোবর পর্যন্ত হিসাবে প্রবৃদ্ধির হার ১২.৯ শতাংশ।
এই পরিসংখ্যান থেকে বোঝা যায়, চলতি অর্থবছরের শুরু থেকে প্রবাসী আয়ের প্রবাহে ঊর্ধ্বমুখী ধারা বজায় রয়েছে। তবে মাসের বাকি সময়ে রেমিট্যান্সের পরিমাণ এবং প্রবৃদ্ধির হার কেমন থাকে, তা নির্ভর করবে পরবর্তী সময়ে প্রবাসীদের অর্থ পাঠানোর ধারাবাহিকতার ওপর।
সব মিলিয়ে, চলতি অর্থবছরের প্রথম সাড়ে তিন মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহের বৃদ্ধি দেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের জন্য একটি ইতিবাচক সংকেত। অর্থনীতির বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের মধ্যে এই প্রবাহ অব্যাহত থাকলে তা বৈদেশিক খাতের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়তা করতে পারে।

