বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬

৪৭ বছর ধরে সুবিধাবঞ্চিত শিশু-কিশোরদের মাঝে শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছে ‘সুরভি’: ডা. জুবাইদা রহমান

দুস্থ, অসহায় ও ছিন্নমূল শিশু-কিশোরদের জীবন গঠনে ৪৭ বছর ধরে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে সামাজিক সংগঠন ‘সুরভি’। সংগঠনটির কর্মকাণ্ড প্রত্যক্ষ করতে আজ মঙ্গলবার দুপুরে ‘সুরভি’র ধানমন্ডির প্রধান কার্যালয় পরিদর্শন করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সহধর্মিণী ও চিকিৎসক ডা. জুবাইদা রহমান।

সেখানকার শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মচারীদের পক্ষ থেকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও স্বাগত জানানো হয় তাকে। ডা. জুবাইদা রহমান কার্যালয়ে পৌঁছানোর পর বিশেষ দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেন।

শিশুদের সঙ্গে হৃদ্যতাপূর্ণ সময়
পরিদর্শনের সময় তিনি ক্লাসরুম ঘুরে দেখেন এবং শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন। শিশুদের কাছে তাদের স্বপ্ন, আগ্রহ ও মতামত জানতে চান এবং কবিতা আবৃত্তি, কুরআন তেলাওয়াতসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পারদর্শিতা উপস্থাপনার জন্য উৎসাহিত করেন। তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, “তোমাদের প্রতিভা আমাকে মুগ্ধ করেছে। নিজের লক্ষ্যকে কখনো ভোলা যাবে না, আমি তোমাদের পাশে থাকব।”

৪৭ বছরের কর্মকাণ্ডে প্রশংসা
পরে তিনি ‘সুরভি’র প্রতিষ্ঠাতা ও স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত বিশিষ্ট সমাজসেবক সৈয়দা ইকবাল মান্দ বানু’র আঁকা শিল্পকর্ম এবং প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমভিত্তিক আলোকচিত্র ঘুরে দেখেন। এছাড়াও ‘সুরভি’র ওপর নির্মিত একটি ডকুমেন্টারি উপভোগ করেন তিনি।

সংস্থার নির্বাহী পরিচালক মো. আবু তাহের এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এই সময় উপস্থিত ছিলেন।

‘সুরভি’ একটি বিশ্বাসের নাম
সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, “সুরভি কেবল একটি শিক্ষা কর্মসূচি নয়— এটি একটি বিশ্বাস, একটি আত্মবিশ্বাস। এখানকার শিশুরা কুরআন তেলাওয়াত, কবিতা আবৃত্তি, গান, নৃত্যসহ নানা সৃজনশীল চর্চায় পারদর্শী। শিক্ষার পাশাপাশি তারা সামাজিক ও মানবিক কাজেও যুক্ত। প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে শুরু করে স্বাস্থ্যসেবা, কম্পিউটার প্রশিক্ষণ ও রক্তদান কর্মসূচিতে সুরভির অবদান অনন্য।”

তিনি জানান, দেশের ৪১টি জেলায় টিউবওয়েল প্রতিস্থাপন, মহিলাদের আইটি প্রশিক্ষণ, উচ্চশিক্ষায় বৃত্তি প্রদান, স্বাস্থ্যসেবা, মেডিকেল সরঞ্জাম বিতরণসহ বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কাজে সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে ‘সুরভি’।

শিক্ষা-সাম্যের পথে সমাজ গড়ার প্রত্যয়
১৯৭৯ সালে প্রতিষ্ঠিত ‘সুরভি’ এখন পর্যন্ত প্রায় ৪০ লাখ সুবিধাবঞ্চিত শিশু-কিশোরকে শিক্ষার আলোয় আলোকিত করেছে। তাদের উপযুক্ত নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার এই প্রচেষ্টা সমাজ গঠনে এক অনুকরণীয় মডেল।

ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, “আমার মা যে পথ শুরু করেছিলেন, সেটি আজ আরও বিস্তৃত ও শক্তিশালী। এভাবেই শিক্ষা, সাম্য ও মানবিকতা নিয়ে একটি আলোকিত বাংলাদেশ গড়তে হবে।”


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন