সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬

গুলশান সোসাইটি অফিসে ঢুকে মাসে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ, গ্রেফতার ৩

বর্জ্য অপসারণের কাজের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধের জেরে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ

রাজধানীর গুলশানে গৃহস্থালি বর্জ্য অপসারণের কাজকে কেন্দ্র করে গুলশান সোসাইটি অফিসে অনধিকার প্রবেশ, মাসে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

শনিবার (১০ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে রাজধানীর খিলক্ষেতের আশিয়ান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এলাকা থেকে তাঁদের গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন মো. আনোয়ার (৩০), মো. নাজমুল (২৫) ও মো. জিদান মিয়া (১৯)।

গুলশান থানা পুলিশ জানায়, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) কার্যাদেশ অনুযায়ী গুলশান আবাসিক এলাকার গৃহস্থালি বর্জ্য অপসারণের দায়িত্ব পালন করে আসছে গুলশান সোসাইটি। তবে সম্প্রতি এ কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে একটি পক্ষ সোসাইটির কর্মীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন ও অর্থ আদায়ের চেষ্টা করে আসছিল বলে অভিযোগ পাওয়া যায়।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, মাহাবুব ও রবিন গ্রুপের পরিচয় ব্যবহার করে কয়েকজন ব্যক্তি সোসাইটির নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মীদের হুমকি দেন। একই সঙ্গে ‘রুবি এন্টারপ্রাইজ’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের লিফলেট বিতরণ করে বাসাবাড়ির বর্জ্য অপসারণের বিল তাঁদের কাছে পরিশোধের দাবি জানানো হয়।

এরই ধারাবাহিকতায় গত মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে কয়েকজন ব্যক্তি অস্ত্রসহ গুলশান সোসাইটি অফিসে প্রবেশ করেন বলে অভিযোগ ওঠে। এ সময় তাঁরা অফিসে উপস্থিত ব্যক্তিদের গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার পাশাপাশি প্রতি মাসে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।

ঘটনার পর অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে গুলশান থানা পুলিশ। তদন্তের অংশ হিসেবে ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ ও পর্যালোচনা করা হয়। পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের শনাক্ত করার চেষ্টা চালানো হয়।

পরে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে খিলক্ষেত এলাকায় অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় গুলশান থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। গ্রেফতার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

তবে অভিযুক্ত অন্য ব্যক্তিদের শনাক্ত বা গ্রেফতারের বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কোনো তথ্য জানানো হয়নি। গ্রেফতার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগও আদালতে এখনো প্রমাণিত হয়নি।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন