রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬

‘শিক্ষার্থীরা সবাই আমার সন্তান’—অভিভাবক সমাবেশে অধ্যক্ষ তারিকুল ইসলাম

শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার মানোন্নয়ন, নিয়মিত উপস্থিতি, শৃঙ্খলাবোধ তৈরি এবং ভালো ফলাফল অর্জনে অভিভাবকদের আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার খাজুরায় অবস্থিত মির্জাপুর আদর্শ মহিলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ তারিকুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, ‘আমি এই কলেজের শুধু শিক্ষক নই, শিক্ষার্থীরা আমারও সন্তান। আমি চাই, আমার প্রতিটি সন্তান এ প্রতিষ্ঠান থেকে ভালোভাবে লেখাপড়া শিখে যোগ্য মানুষ হিসেবে গড়ে উঠুক।’

শনিবার (১০ অক্টোবর) সকাল ১০টায় কলেজের অডিটরিয়ামে আয়োজিত অভিভাবক সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। নতুন শিক্ষাবর্ষের শুরুতে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও সার্বিক অগ্রগতি নিশ্চিত করতে শিক্ষক-অভিভাবকদের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর লক্ষ্যে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শিহাবুর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন কলেজের ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য মাহবুবুর রহমান।

কলেজ সূত্রে জানা গেছে, চলতি শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ১৭২ জন ছাত্রী ভর্তি হয়েছে। তাদের অভিভাবকদের নিয়ে আয়োজিত সমাবেশে ১৭০ জন উপস্থিত ছিলেন। সমাবেশে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পাঠ প্রস্তুতি, বাড়িতে পড়াশোনার সময় নির্ধারণ, কলেজের নিয়মকানুন মেনে চলা, সময়ানুবর্তিতা এবং শিক্ষকদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়।

শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ও শৃঙ্খলায় নজরদারি

অধ্যক্ষ তারিকুল ইসলাম বলেন, শিক্ষার্থীদের ভালো ফলাফলের পাশাপাশি নৈতিকতা, শৃঙ্খলাবোধ ও দায়িত্বশীলতা শেখানোও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। এ জন্য কলেজ কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ও পড়াশোনার অগ্রগতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করে। কোনো শিক্ষার্থী এক বা দুই দিন কলেজে অনুপস্থিত থাকলে তার খোঁজ নেওয়া হয় এবং প্রয়োজনে অভিভাবকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে অনুপস্থিতির কারণ জানার চেষ্টা করা হয়।

তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীরা যাতে পড়াশোনায় মনোযোগী থাকে এবং প্রতিষ্ঠানের নিয়মকানুন মেনে চলে, সে জন্য কলেজে মোবাইল ফোন ব্যবহারের ক্ষেত্রে কঠোর বিধিনিষেধ রয়েছে। শিক্ষার্থীদের আচরণ, চলাফেরা ও নিরাপত্তার বিষয়েও কলেজ কর্তৃপক্ষ গুরুত্ব দিয়ে থাকে।

সন্তানের পড়াশোনা ও স্বাস্থ্যের খোঁজ রাখার আহ্বান

অভিভাবকদের উদ্দেশে অধ্যক্ষ বলেন, শিক্ষার্থীদের ভালো ফলাফল অর্জনের জন্য শুধু শিক্ষকদের ওপর নির্ভর করলে হবে না। বাড়িতেও সন্তানদের পড়াশোনার প্রতি নিয়মিত নজর রাখতে হবে। তারা কখন পড়তে বসছে, কতক্ষণ পড়াশোনা করছে, নিয়মিত কলেজে যাচ্ছে কি না এবং কোনো সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে কি না, সে বিষয়ে অভিভাবকদের খোঁজখবর রাখা প্রয়োজন।

শিক্ষার্থীদের শারীরিক সুস্থতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, অনেক শিক্ষার্থী সকালে না খেয়ে কলেজে আসে এবং পরে অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাই সন্তানরা সময়মতো খাবার খাচ্ছে কি না, পর্যাপ্ত পানি পান করছে কি না এবং সুস্থ রয়েছে কি না, সেদিকে অভিভাবকদের খেয়াল রাখতে হবে।

শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন রুটিন গড়ে তোলার পরামর্শ দিয়ে তিনি সন্ধ্যায় পড়ার টেবিলে বসা, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পড়াশোনা শেষ করা, পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করা এবং সকালে নাশতা খেয়ে যথাসময়ে কলেজে যাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলার ওপর জোর দেন।

অধ্যক্ষ বলেন, অভিভাবকেরা সন্তানদের প্রতি যত্নশীল হলে এবং শিক্ষকরা নিয়মিত দিকনির্দেশনা দিলে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার মান উন্নত হবে। একই সঙ্গে অনুপস্থিতি কমবে, পড়াশোনায় মনোযোগ বাড়বে এবং ভালো ফলাফল অর্জনের সুযোগ তৈরি হবে।

শিক্ষক-অভিভাবক সমন্বয়ে শিক্ষার মানোন্নয়নের প্রত্যাশা

সমাবেশে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার সমস্যা, সম্ভাবনা এবং ভালো ফলাফল অর্জনের উপায় নিয়ে শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে মতবিনিময় হয়। শিক্ষার্থীরা কলেজে কী শিখছে, বাড়িতে কীভাবে সময় কাটাচ্ছে এবং পড়াশোনায় কতটা অগ্রগতি করছে, তা নিয়মিত পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে তাদের দুর্বলতা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন বক্তারা।

তাঁরা বলেন, নতুন শিক্ষাবর্ষের শুরুতে এ ধরনের সমাবেশ শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে যোগাযোগ বাড়াতে সহায়ক। পারস্পরিক সহযোগিতা অব্যাহত থাকলে শিক্ষার্থীদের সমস্যাগুলো দ্রুত চিহ্নিত করা এবং তাদের জন্য সুশৃঙ্খল শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

অনুষ্ঠানে কলেজের সহকারী অধ্যাপক রুহুল কুদ্দুস, সালমা পারভীন ও কুশল কুমার চক্রবর্তীসহ শিক্ষক মোহাম্মদ রুহুল কুদ্দুস, শাহনিমা আক্তার, জান্নাতুল ফেরদৌস, ময়না খাতুন, মোস্তফা কামাল, জাহাঙ্গীর হোসেন, এম. এম. মনিরুজ্জামান ও মনিরুজ্জামানসহ কলেজের অন্যান্য শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীদের অভিভাবকেরা উপস্থিত ছিলেন।

সমাবেশটি পরিচালনা করেন কলেজের সহকারী অধ্যাপক আবু সাঈদ।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন