রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬

৪৫ দিনে পরিচ্ছন্ন ও নান্দনিক হবে মোহাম্মদপুরের ৪০ ফুট খাল

ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে পরিচ্ছন্নতা অভিযান জোরদার ও অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণে উদ্যোগ নেওয়ার ঘোষণা ডিএনসিসি প্রশাসকের

রাজধানীর মোহাম্মদপুরের ৪০ ফুট খাল পুনরুদ্ধার, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও নান্দনিকভাবে গড়ে তুলতে টানা ৪৫ দিন কার্যক্রম পরিচালনা করবে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। একই সঙ্গে এলাকার ফুটপাত অবৈধ হকারমুক্ত করা, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে পরিচ্ছন্নতা অভিযান জোরদার এবং রাজধানীতে অটোরিকশা চলাচল নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।

শনিবার মোহাম্মদপুরের বসিলা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ডিএনসিসি আয়োজিত ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান কর্মসূচিতে সভাপতির বক্তব্যে এসব কথা জানান সংস্থাটির প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান। কর্মসূচি শেষে তিনি মোহাম্মদপুরের ৪০ ফুট খাল সংস্কার কার্যক্রমও পরিদর্শন করেন।

জনগণের চাহিদাকে গুরুত্ব দেওয়ার ঘোষণা

ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার জনগণের সরকার। জনগণ যা চায়, তা বাস্তবায়নে কাজ করা হবে এবং জনগণ যা চায় না, তা করা হবে না।

তিনি বলেন, মিরপুর-১০ এলাকায় ফুটপাতের অবৈধ দখল উচ্ছেদে পরিচালিত অভিযানে স্থানীয় জনগণ সমর্থন জানিয়েছেন। একইভাবে মোহাম্মদপুরের ফুটপাত থেকেও অবৈধ হকার উচ্ছেদ করে সাধারণ মানুষের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করা হবে।

৪০ ফুট খাল পুনরুদ্ধারে চলবে ৪৫ দিনের কার্যক্রম

মোহাম্মদপুরের ৪০ ফুট খাল পুনরুদ্ধার ও সৌন্দর্যবর্ধনের বিষয়ে শফিকুল ইসলাম খান বলেন, খালটি পরিষ্কার করে নান্দনিকভাবে গড়ে তুলতে আগামী ৪৫ দিন ধরে কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। খালটির পুনরুদ্ধার ও সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে প্রয়োজনীয় সব উদ্যোগ নেওয়া হবে।

অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ

রাজধানীতে অটোরিকশা চলাচল নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে প্রশাসক বলেন, এসব যানবাহন নগরের চলাচল ও সড়ক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি করছে। অটোরিকশার কারণে প্রতিদিন দুর্ঘটনা ঘটছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। এ সমস্যা সমাধানে সরকার কাজ করছে বলে জানান ডিএনসিসি প্রশাসক।

ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে নাগরিকদের সহযোগিতা জরুরি

ডেঙ্গু প্রতিরোধে নগরবাসীর সহযোগিতা কামনা করে শফিকুল ইসলাম খান বলেন, মশার প্রজননস্থল ধ্বংস এবং এডিস মশার লার্ভা নির্মূলে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে মোহাম্মদপুরের বাসিন্দাদের পাশাপাশি স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরাও সচেতনতামূলক প্রচার-প্রচারণায় অংশ নেবে।

বাসাবাড়ির ময়লা-আবর্জনা নির্দিষ্ট স্থানে ফেলার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, মশক নিয়ন্ত্রণ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কিত। যেখানে ময়লা-আবর্জনা জমে থাকে, সেখানে মশা-মাছির প্রজননের সুযোগ তৈরি হয়। তাই ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে নগরকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা জরুরি।

তিনি জানান, ডিএনসিসি মশক নিয়ন্ত্রণ ও বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম সমন্বিতভাবে পরিচালনা করছে। পরিচ্ছন্নতা অভিযান জোরদারের পাশাপাশি মশার প্রজননস্থল শনাক্ত ও ধ্বংস করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভূমিকা

ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, নগরকে পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর রাখতে সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দিন-রাত কাজ করছেন। সাপ্তাহিক ছুটি ও ঈদের সময়ও তাঁদের দায়িত্ব পালন করতে হয়। বিশেষ করে কোরবানির ঈদে দ্রুত বর্জ্য অপসারণে কর্মীদের নিরলসভাবে কাজ করতে হয়।

তিনি দাবি করেন, গত সরকারের সময়ের তুলনায় গত সাত মাসে ডিএনসিসির কার্যক্রমের ফলে ঢাকা শহরের পরিচ্ছন্নতার পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে এবং ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণেও অগ্রগতি এসেছে। চলতি বছর ডিএনসিসি এলাকায় ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা কম বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর মতে, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার এবং মশক নিয়ন্ত্রণে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

১০ আঞ্চলিক এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত

শফিকুল ইসলাম খান জানান, ডিএনসিসির ১০টি আঞ্চলিক এলাকায় ১০ জন ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হচ্ছে। এসব আদালতের মাধ্যমে নগরবাসীকে সচেতন করার পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী জরিমানাও করা হচ্ছে। এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

মোহাম্মদপুরবাসীকে প্রতি শনিবার নিজ নিজ বাসাবাড়ি পরিষ্কার করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ডেঙ্গুমুক্ত ও পরিচ্ছন্ন নগর গড়ে তোলার দায়িত্ব শুধু সিটি করপোরেশনের নয়, নাগরিকদেরও। ডিএনসিসির সব কার্যক্রম সফল করতে তিনি নগরবাসীর সহযোগিতা কামনা করেন।

অনুষ্ঠানে ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দীন আহমেদ, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস চৌধুরীসহ সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন