রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬

প্রতিবেশীর ঘর বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ হারালেন সোহাগ

নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে দূরসম্পর্কের চাচাতো ভাইয়ের বসতঘরে লাগা আগুন নেভাতে গিয়ে দগ্ধ মো. সোহাগ (৪৩) মারা গেছেন। সাত দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে শনিবার (১০ অক্টোবর) ভোরে ঢাকার বার্ন ইউনিট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

এর আগে গত ৩ অক্টোবর বেলা সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার নদনা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব কালুয়াই গ্রামের সুলতান চকিদার বাড়িতে আগুন নেভাতে গিয়ে দগ্ধ হন তিনি।

নিহত সোহাগ ওই বাড়ির বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফার ছেলে। তিনি তিন ছেলে ও এক মেয়ের বাবা ছিলেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৩ অক্টোবর সোহাগের দূরসম্পর্কের চাচাতো ভাই সালাউদ্দিনের বসতঘরে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে এবং বাড়ির ছয়টি ঘর পুড়ে যায়। আগুন দেখে অন্যদের সঙ্গে সোহাগও তা নেভাতে এগিয়ে যান।

একপর্যায়ে সালাউদ্দিনের ঘর থেকে গ্যাস সিলিন্ডার বের করার চেষ্টা করেন সোহাগ। এ সময় তাঁর শরীরের প্রায় ৭০ শতাংশ পুড়ে যায়। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে ঢাকার বার্ন ইউনিট হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাত দিন পর তাঁর মৃত্যু হয়।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. আজগর হোসেন সহেল বলেন, সোহাগ বেকার ছিলেন এবং খুব অসহায় অবস্থায় জীবনযাপন করতেন। তাঁর মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

সোনাইমুড়ী ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ডিউটি অফিসার ফায়ার ফাইটার নোমান হোসেন বলেন, গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে ওই দিন বাড়ির ছয়টি ঘর পুড়ে যায়। আগুন লাগার খবর পেয়ে সোহাগও অন্যদের সঙ্গে তা নেভানোর কাজে অংশ নেন। একপর্যায়ে একটি ঘর থেকে আসবাবপত্র বের করতে গিয়ে তিনি দগ্ধ হন।

সোনাইমুড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কবির হোসেন বলেন, ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোহাগের মৃত্যু হয়েছে বলে তাঁর স্বজনেরা জানিয়েছেন। তাঁরা ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ নেওয়ার আবেদন করেছেন। এ বিষয়ে থানা থেকে প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে।

প্রতিবেশীর ঘর থেকে গ্যাস সিলিন্ডার বের করতে গিয়ে দগ্ধ হওয়া সোহাগের মৃত্যুতে পরিবার ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের আবহ বিরাজ করছে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন