বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬

ইতিহাসে এক রাতের সর্বোচ্চ হামলা: রাশিয়ার সহিংসতায় নিহত ১২, জেলেনস্কির অভিযোগ—‘যুক্তরাষ্ট্রের নীরবতায় উৎসাহ পাচ্ছেন পুতিন’

ইউক্রেনের ওপর যুদ্ধ শুরুর পর থেকে সবচেয়ে বড় একক হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। শনিবার রাতে চালানো এই হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে তিনজন শিশু। আহত হয়েছেন আরও অনেকে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা বিশ্বের নীরবতাই রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে এমন বর্বরতা চালাতে উৎসাহিত করছে।

শনিবার রাত ৮টা ৪০ মিনিট থেকে শুরু হয়ে গভীর রাত পর্যন্ত চলা রুশ হামলায় ৩৬৭টি বিভিন্ন ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও মনুষ্যবিহীন উড়োজাহাজ ব্যবহার করা হয় বলে জানিয়েছে ইউক্রেনের বিমান বাহিনী। এদের মধ্যে ৪৫টি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও ২৬৬টি ড্রোন ইউক্রেন ভূপাতিত করেছে বলে জানানো হয়েছে। হামলায় কিয়েভসহ দেশের অধিকাংশ অঞ্চলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ২২টি স্থানে অবকাঠামো, এবং ৩০টিরও বেশি শহর ও গ্রামে উদ্ধার কার্যক্রম চালাচ্ছে সংশ্লিষ্ট বাহিনী।

এই হামলার মাত্র একদিন আগেই রাজধানী কিয়েভে যুদ্ধ শুরুর পর সবচেয়ে ভয়াবহ আক্রমণ চালিয়েছিল রাশিয়া। পরপর দুই রাতের আক্রমণে আতঙ্ক ও বিপর্যস্ত পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে গোটা ইউক্রেনজুড়ে।

এক বিবৃতিতে প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি বলেন, “বিশ্ব ছুটিতে থাকতে পারে, কিন্তু যুদ্ধ থেমে নেই। আমেরিকার এবং বিশ্বের নীরবতা কেবলমাত্র পুতিনকে উৎসাহিত করছে। কঠোর চাপ ছাড়া রাশিয়ার বর্বরতা থামবে না।”

আন্তর্জাতিক মহলের যুদ্ধবিরতির আহ্বান সত্ত্বেও মস্কো তার বিমান অভিযান আরও তীব্রতর করছে। রাশিয়ার তরফ থেকে এখনো পর্যন্ত হামলা থামানোর কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, মার্কিন সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কয়েক সপ্তাহ আগে দাবি করেছিলেন যে পুতিন যুদ্ধ শেষ করতে আগ্রহী। জেলেনস্কির সাম্প্রতিক মন্তব্যকে অনেকেই সেই দাবির সরাসরি প্রতিবাদ হিসেবেই দেখছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়ার এই সর্বাত্মক আক্রমণ বিশ্ব সম্প্রদায়ের জন্য একটি বার্তা—এ যুদ্ধ দীর্ঘমেয়াদী, এবং এতে পাশ কাটিয়ে যাওয়া কিংবা নীরব থাকাটা ভবিষ্যতের জন্য আরও ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি ডেকে আনতে পারে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন