চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনার দায়িত্ব সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডকে দেওয়ার প্রতিবাদে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিক্ষোভ করেছেন বিভিন্ন বামপন্থী ও গণতান্ত্রিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে ইনভেস্ট বাংলাদেশের কার্যালয়ের সামনে অনুষ্ঠিত এ বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে সিপিবি, বাসদ, গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি, ছাত্র ইউনিয়নসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল করেন। এ সময় পুলিশ লাঠিচার্জ করেছে বলে অভিযোগ করেছেন বিক্ষোভকারীরা। তবে শেরেবাংলা নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুল ইসলাম লাঠিচার্জের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
আহতদের মধ্যে গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির সদস্য সীমা দত্ত, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সভাপতি সাজ্জাদ জহির চন্দন, মনিরুজ্জামান মিলন, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মনীষা চক্রবর্তী এবং ছাত্র ইউনিয়নের আসিফ জামান রয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন।
এর আগে আগারগাঁওয়ে ইনভেস্ট বাংলাদেশ কার্যালয়ে এনসিটি পরিচালনায় ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তির বিরোধিতা করে বিক্ষোভকারীরা দাবি করেন, দেশের গুরুত্বপূর্ণ বন্দরের টার্মিনাল পরিচালনার দায়িত্ব বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে দেওয়ার ক্ষেত্রে জাতীয় স্বার্থ, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন।
বিক্ষোভে উপস্থিত সিপিবির সভাপতি সাজ্জাদ জহির চন্দন গণমাধ্যমকে বলেন, এ চুক্তি বাংলাদেশের স্বার্থের পরিপন্থী। ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর সম্পৃক্ততা রয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির সদস্য মারজিয়া প্রভা গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে বলেন, দেশের গুরুত্বপূর্ণ এই টার্মিনাল দেশীয় অপারেটরদের মাধ্যমে পরিচালিত হওয়ার পরও বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে দায়িত্ব দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, আগের সরকারের সময় এ উদ্যোগ নেওয়া হলেও পরবর্তী সময়ে আন্দোলনের মুখে তা স্থগিত হয়। তবে বর্তমান বিএনপি সরকার বিরোধিতা উপেক্ষা করে চুক্তি স্বাক্ষর করেছে।
বিবৃতিতে মারজিয়া প্রভা আরও অভিযোগ করেন, চুক্তি স্বাক্ষরের সময় কার্যালয়ের বাইরে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে পুলিশ হামলা চালায়। এতে বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীরা আহত হন। তাঁর মতে, বন্দর পরিচালনার মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে শ্রমিকদের দাবি, দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থ ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্ন বিবেচনায় নেওয়া জরুরি।
এদিকে, বিক্ষোভকারীদের সড়ক অবরোধের কারণে আগারগাঁও এলাকায় যান চলাচল ব্যাহত হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। শেরেবাংলা নগর থানার ওসি মো. মনিরুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, একটি চুক্তিকে কেন্দ্র করে বামপন্থী বিভিন্ন দলের নেতাকর্মীরা সড়ক অবরোধ করলে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে পুলিশ তাঁদের সরিয়ে দেয়। তবে সেখানে কোনো লাঠিচার্জ করা হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
পুলিশের বক্তব্যের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের অভিযোগের বিষয়ে পরস্পরবিরোধিতা রয়েছে।
বিক্ষোভে পুলিশের হামলার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় রাজধানীর মুক্তি ভবনের সামনে থেকে মশাল মিছিল করার ঘোষণা দেয় বামপন্থী সংগঠনগুলো।

