রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স এয়ারবাসের সঙ্গে ১০টি নতুন উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এ চুক্তির মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি উড়োজাহাজ কেনার পরিকল্পনায় বিমানের মোট উড়োজাহাজের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৫টিতে। নতুন উড়োজাহাজগুলো যুক্ত হলে দীর্ঘপাল্লা, আঞ্চলিক এবং স্বল্প ও মধ্যমপাল্লার বিভিন্ন রুটে বিমানের সক্ষমতা বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
চুক্তির আওতায় চারটি এ৩৫০-৯০০ ওয়াইডবডি এবং ছয়টি এ৩২১নিও ন্যারোবডি উড়োজাহাজ কেনা হবে।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর রেডিসন ব্লু ঢাকা ওয়াটার গার্ডেনের উৎসব হলে ‘স্প্রেডিং আওয়ার উইংস টুগেদার’ শিরোনামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এ চুক্তি স্বাক্ষর করা হয়।
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির উপস্থিত ছিলেন। এ সময় এয়ারবাস ইন্ডিয়া ও সাউথ এশিয়ার প্রেসিডেন্ট ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক জার্গেন ওয়েস্টারমায়ার এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান রুমী এ হোসেন নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।
অনুষ্ঠানে ইনভেস্ট বাংলাদেশের নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব ফাহমিদা আখতার এবং বিমান বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সোহেল আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।
এ চুক্তির মাধ্যমে বিমানের বহরে প্রথমবারের মতো এয়ারবাসের তৈরি উড়োজাহাজ যুক্ত হওয়ার পথ তৈরি হলো। এতদিন বিমানের উড়োজাহাজ বহরে মূলত বোয়িংয়ের উড়োজাহাজই ছিল।
চুক্তির আওতায় থাকা চারটি এ৩৫০-৯০০ উড়োজাহাজ দীর্ঘপাল্লার আন্তর্জাতিক রুটে ব্যবহারের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্যদিকে ছয়টি এ৩২১নিও ন্যারোবডি উড়োজাহাজ আঞ্চলিক ও মধ্যমপাল্লার রুটে পরিচালনা করা হবে।
নতুন উড়োজাহাজগুলো বহরে যুক্ত হলে যাত্রী পরিবহন সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি বিভিন্ন গন্তব্যে বিমানের রুট সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এয়ারবাসের সঙ্গে চুক্তির আগে বিমান ১৪টি বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার বিষয়ে সম্মত হয়েছিল। এর মধ্যে আটটি ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার, দুটি ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার এবং চারটি ৭৩৭-৮ উড়োজাহাজ রয়েছে।
পরবর্তী সময়ে এ কর্মসূচিতে আরও ১১টি বোয়িং উড়োজাহাজ যুক্ত করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে পাঁচটি ৭৮৭-১০ এবং ছয়টি ৭৩৭-৮। ফলে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় বিমানের বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৫টিতে।
এখন এয়ারবাসের ১০টি উড়োজাহাজ যুক্ত হওয়ায় বিমানের দীর্ঘমেয়াদি উড়োজাহাজ কেনার পরিকল্পনায় মোট উড়োজাহাজের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৫টিতে। এর মধ্যে ১৯টি ওয়াইডবডি এবং ১৬টি ন্যারোবডি উড়োজাহাজ।
এয়ারবাসের উড়োজাহাজ যুক্ত হওয়ার ফলে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ধীরে ধীরে বোয়িং ও এয়ারবাস—দুই নির্মাতার উড়োজাহাজ নিয়ে একটি মিশ্র বহরের দিকে এগিয়ে যাবে।
বিমান কর্তৃপক্ষের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আগামী দশকে উড়োজাহাজের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং রুট নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের রুটের চাহিদা অনুযায়ী উপযুক্ত উড়োজাহাজ ব্যবহারের সক্ষমতা তৈরি করাই বহর সম্প্রসারণের অন্যতম লক্ষ্য।
দীর্ঘপাল্লার আন্তর্জাতিক রুটে ওয়াইডবডি উড়োজাহাজ এবং আঞ্চলিক ও মধ্যমপাল্লার রুটে ন্যারোবডি উড়োজাহাজ ব্যবহারের মাধ্যমে অপারেশনাল সক্ষমতা আরও কার্যকর করার সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
চারটি এ৩৫০-৯০০ উড়োজাহাজ বিমানের দীর্ঘপাল্লার রুট পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে নতুন আন্তর্জাতিক গন্তব্যে ফ্লাইট পরিচালনা এবং বিদ্যমান দীর্ঘপাল্লার রুটে সক্ষমতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে এসব উড়োজাহাজ ব্যবহার করা হবে।
অন্যদিকে এ৩২১নিও উড়োজাহাজগুলো আঞ্চলিক ও মধ্যমপাল্লার রুটে ব্যবহার করা হলে এসব রুটে ফ্লাইট পরিচালনার সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি বহরের ব্যবহারেও আরও নমনীয়তা আসতে পারে।
দীর্ঘমেয়াদি বহর সম্প্রসারণ কর্মসূচির আওতায় নতুন উড়োজাহাজ সরবরাহ শুরু হওয়ার আগ পর্যন্ত স্বল্পমেয়াদি সক্ষমতার চাহিদা পূরণের বিষয়টিও বিবেচনা করছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স।
এ জন্য প্রয়োজন অনুযায়ী উড়োজাহাজ লিজ নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার উড়োজাহাজগুলো বহরে যুক্ত হওয়ার আগ পর্যন্ত রুট পরিচালনা ও যাত্রী চাহিদা সামাল দিতে লিজ নেওয়া উড়োজাহাজ ব্যবহার করা হতে পারে।
সব মিলিয়ে এয়ারবাসের সঙ্গে ১০টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তিকে বিমানের বহর আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। নতুন উড়োজাহাজ যুক্ত হলে আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক রুটে বিমানের কার্যক্রম আরও সম্প্রসারিত হওয়ার পাশাপাশি আগামী দশকের জন্য রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী এয়ারলাইন্সটির বহর কাঠামোও নতুন রূপ পাবে।

