২০২৭ সালে ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসি (ইআরএল)-এ পরিশোধনের জন্য সরকার-টু-সরকার (জি-টু-জি) পদ্ধতিতে অপরিশোধিত তেল আমদানির নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। একই সঙ্গে জি-টু-জি ব্যবস্থায় পরিশোধিত পেট্রোলিয়াম পণ্য আমদানি এবং আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে দরপত্র প্রস্তুত ও জমাদানের সময়সীমা কমানোরও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় অনুমোদন
বুধবার রাজধানীর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির ৩২তম সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ থেকে উপস্থাপিত তিনটি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা শেষে সেগুলোর নীতিগত অনুমোদনের সুপারিশ করা হয়।
এর মধ্যে অন্যতম ছিল ইআরএলে পরিশোধনের জন্য জি-টু-জি ব্যবস্থার আওতায় সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে অপরিশোধিত তেল আমদানির প্রস্তাব। ২০২৭ সালের জন্য এ আমদানির নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
জি-টু-জি ব্যবস্থায় পরিশোধিত পেট্রোলিয়াম পণ্য আমদানি
সভায় ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত এক বছরের জন্য জি-টু-জি প্রক্রিয়ায় সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে পরিশোধিত পেট্রোলিয়াম পণ্য আমদানির প্রস্তাবেও নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়।
এর মাধ্যমে নির্ধারিত মেয়াদে সরকারের সঙ্গে সরকারের সরাসরি চুক্তির আওতায় প্রয়োজনীয় পরিশোধিত পেট্রোলিয়াম পণ্য আমদানির প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হলো।
আন্তর্জাতিক দরপত্রে সময়সীমা অর্ধেক
এদিকে ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে জুন মেয়াদে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে পরিশোধিত পেট্রোলিয়াম পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে দরপত্র প্রস্তুত ও জমাদানের সময় কমানোর প্রস্তাবও অনুমোদন করেছে কমিটি।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দরপত্র প্রস্তুত ও জমা দেওয়ার জন্য নির্ধারিত সময়সীমা ৪২ দিন থেকে কমিয়ে ২১ দিন করা হবে। অর্থাৎ আগের তুলনায় অর্ধেক সময়ে দরপত্র প্রক্রিয়ার সংশ্লিষ্ট কাজ সম্পন্ন করতে হবে।
জ্বালানি আমদানিতে ধারাবাহিক উদ্যোগ
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ সভায় মোট তিনটি প্রস্তাব উপস্থাপন করে। এসব প্রস্তাবের মধ্যে অপরিশোধিত তেল আমদানি, জি-টু-জি পদ্ধতিতে পরিশোধিত পেট্রোলিয়াম পণ্য আমদানি এবং আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্রে আমদানির ক্ষেত্রে সময়সীমা কমানোর বিষয় ছিল।
আলোচনা শেষে কমিটি প্রস্তাবগুলোতে নীতিগত অনুমোদনের সুপারিশ করে। এর ফলে ২০২৭ সালে দেশের জ্বালানি চাহিদা পূরণে অপরিশোধিত ও পরিশোধিত পেট্রোলিয়াম পণ্য আমদানির প্রক্রিয়া নির্ধারিত পদ্ধতিতে এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

