আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে দেশে টানা পাঁচ দিনের ছুটি পাচ্ছেন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। দুর্গাপূজা উপলক্ষে তিন দিনের সরকারি ছুটির সঙ্গে যুক্ত হবে দুদিনের সাপ্তাহিক ছুটি। তবে জরুরি ও অত্যাবশ্যকীয় সেবাগুলো এই ছুটির আওতামুক্ত থাকবে। একই সঙ্গে আগামী ১৭ অক্টোবর শনিবার সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা-স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি অফিস খোলা থাকবে।
এদিকে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে প্রতি বছর ৭ নভেম্বর সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। এ বিষয়ে গতকাল বুধবার পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।
দুর্গাপূজায় ২০ থেকে ২২ অক্টোবর ছুটি
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিধি-৬ শাখা থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, আসন্ন ‘শারদীয় দুর্গাপূজা-২০২৬’ উপলক্ষে আগামী ২০, ২১ ও ২২ অক্টোবর—মঙ্গল, বুধ ও বৃহস্পতিবার—সাধারণ ছুটি থাকবে।
এর সঙ্গে ২৩ ও ২৪ অক্টোবর শুক্রবার ও শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটি যুক্ত হওয়ায় সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা টানা পাঁচ দিনের ছুটি ভোগ করতে পারবেন।
তবে ছুটির আগে ১৭ অক্টোবর শনিবার সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা-স্বায়ত্তশাসিত এবং বেসরকারি অফিস খোলা থাকবে বলে প্রজ্ঞাপনে স্পষ্ট করা হয়েছে।
জরুরি সেবাগুলো ছুটির বাইরে
সরকারি প্রজ্ঞাপনে বেশ কিছু জরুরি ও অত্যাবশ্যকীয় সেবাকে সাধারণ ছুটির আওতামুক্ত রাখা হয়েছে। ফলে এসব প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের স্বাভাবিক দায়িত্ব পালন করতে হবে।
ছুটির আওতামুক্ত সেবার মধ্যে রয়েছে বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস ও অন্যান্য জ্বালানি সরবরাহ, ফায়ার সার্ভিস, বন্দরগুলোর কার্যক্রম, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, টেলিফোন ও ইন্টারনেট সেবা এবং ডাকসেবা।
এ ছাড়া এসব সেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যানবাহন ও কর্মীরাও ছুটির আওতার বাইরে থাকবেন।
হাসপাতাল ও চিকিৎসাসেবাও চলবে স্বাভাবিকভাবে
হাসপাতাল ও জরুরি চিকিৎসাসেবা এবং এসব সেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য সাধারণ ছুটি প্রযোজ্য হবে না। চিকিৎসাসেবায় নিয়োজিত চিকিৎসক ও কর্মীরা দায়িত্ব পালন করবেন।
একইভাবে ঔষধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম বহনকারী যানবাহন এবং এসব পরিবহনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মীরাও ছুটির আওতার বাইরে থাকবেন।
জরুরি কাজের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত অফিসগুলোকেও এ ছুটির বাইরে রাখা হয়েছে।
ব্যাংকিং কার্যক্রমে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা
দুর্গাপূজার ছুটির সময়ে ব্যাংকিং কার্যক্রম কীভাবে পরিচালিত হবে, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেবে বাংলাদেশ ব্যাংক।
অর্থাৎ ব্যাংকিং খাতের কার্যক্রম সম্পর্কে পৃথকভাবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে।
আদালতের কার্যক্রমে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা
প্রজ্ঞাপনে আদালতের কার্যক্রমের বিষয়েও পৃথক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ছুটির সময়ে আদালতের কার্যক্রম কীভাবে পরিচালিত হবে, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করবে সুপ্রিম কোর্ট।
ফলে আদালতসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী ও বিচারপ্রার্থীদের এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।
বেসরকারি শিল্প-কারখানায় শ্রম মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা
বেসরকারি খাতের শিল্প প্রতিষ্ঠান, কল-কারখানা ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সাধারণ ছুটির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করবে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।
অর্থাৎ সরকারি অফিসের ছুটির সঙ্গে বেসরকারি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের ছুটি কার্যকর করার ক্ষেত্রে শ্রম আইন এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।
৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে সাধারণ ছুটি
এদিকে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে প্রতি বছর ৭ নভেম্বর সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। এ বিষয়ে গতকাল বুধবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিধি-৬ শাখা থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, গত ৫ অক্টোবর অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভা বৈঠকের সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে সরকার প্রতি বছর ৭ নভেম্বর ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অংশের ৩৭ নম্বর ক্রমিকের অনুবলে এবং ‘Allocation of Business Among the Different Ministries and Divisions (Schedule I of the Rules of Business, 1996)’–এর সংশোধিত বিধানের আলোকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সরকারি ছুটির তালিকায় যুক্ত হলো নতুন দিন
মন্ত্রিসভা বৈঠকের সিদ্ধান্তের পর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জারি করা প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ৭ নভেম্বরকে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বার্ষিক সাধারণ ছুটির দিন হিসেবে ঘোষণা করা হলো।
ফলে আসন্ন দুর্গাপূজায় টানা পাঁচ দিনের ছুটির পাশাপাশি নভেম্বর মাসে ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসেও সাধারণ ছুটি থাকবে।
সরকারের এ ছুটি সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের ফলে সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রজ্ঞাপনে নির্ধারিত নির্দেশনা অনুযায়ী কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। তবে জরুরি সেবা, চিকিৎসা, বিদ্যুৎ-গ্যাস-পানি, বন্দর, যোগাযোগ ও অন্যান্য অত্যাবশ্যকীয় কার্যক্রম সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রে প্রয়োজন অনুযায়ী দায়িত্ব পালন অব্যাহত থাকবে।

