বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬

ভালুকায় পৌরসভার রশিদ ব্যবহার করে খীরু নদীতে ‘জলকর’ আদায়ের অভিযোগ

ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার খীরু নদীতে জলকর আদায়ের নামে পৌরসভার রশিদ ব্যবহার করে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে একটি চক্রের বিরুদ্ধে। নদীপথে নৌকাযোগে পণ্য পরিবহন কিংবা নদীর তীরে পণ্য লোড-আনলোডের সময় ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ১ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।

পৌরসভার নামে এভাবে অর্থ আদায়ের বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে আসার পর সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন ভালুকা পৌরসভার প্রশাসক ইকবাল হোসাইন।

দীর্ঘদিন ধরে ‘জলকর’ আদায়ের অভিযোগ

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভালুকা পৌরসভার রশিদ ব্যবহার করে একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে খীরু নদীতে জলকর আদায়ের নামে ব্যবসায়ী ও পণ্য পরিবহনকারীদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করছে।

অভিযোগ রয়েছে, নদীপথে নৌকাযোগে কোনো পণ্য পরিবহন করা হলে অথবা নদীর তীরে পণ্য লোড কিংবা আনলোড করা হলে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীকে ‘জলকর’ হিসেবে ১ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত দিতে হচ্ছে।

তবে এ ধরনের জলকর আদায়ের বিষয়ে পৌর কর্তৃপক্ষ কোনো ইজারা দিয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পৌর প্রশাসনের দাবি, পৌর এলাকার কোনো হাট-বাজার, খাল, বিল বা নদী ইজারা দেওয়া হয়নি।

বাঁশ ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা দাবির অভিযোগ

পৌরসদরের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাঁশ ব্যবসায়ী মুমীন আলী অভিযোগ করেন, গত সোমবার ভালুকা উপজেলার মেদুয়ারী গ্রাম থেকে এক লরি বাঁশ পৌরসদরের হাসপাতাল সড়কের পশ্চিম পাশে খীরু নদীর তীরে আনলোড করেন তিনি।

মুমীন আলীর ভাষ্য, বাঁশ আনলোড করার সময় ‘হাসান এন্টারপ্রাইজ লি.’-এর পক্ষে তারেক নামে এক ব্যক্তি পৌরসভার একটি রশিদ তাঁর হাতে ধরিয়ে দেন। ওই রশিদের বিপরীতে জলকর হিসেবে ১ হাজার ৫০০ টাকা দিতে বলা হয়।

বিষয়টি নিয়ে তিনি পৌরসভায় যোগাযোগ করলে পৌর কর্তৃপক্ষ তাঁকে কোনো ধরনের চাঁদা বা অর্থ না দেওয়ার পরামর্শ দেয় বলে জানান তিনি।

পৌরসভার ইজারা নেই

ভালুকা পৌর প্রশাসক ইকবাল হোসাইন বলেন, পৌরসভার আওতাধীন কোনো হাট-বাজার, খাল, বিল বা নদী ইজারা দেওয়া হয়নি।

তিনি বলেন, পৌরসভার নামে কেউ যদি এভাবে চাঁদা বা জলকর আদায় করে থাকে, তাহলে তা সম্পূর্ণ বেআইনি। পৌরসভার রশিদ ব্যবহার করে অর্থ আদায়ের বিষয়টি সত্য হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পৌর প্রশাসকের বক্তব্য অনুযায়ী, পৌরসভার অনুমোদন ছাড়া নদীতে জলকর আদায়ের কোনো বৈধ সুযোগ নেই। তাই এ ধরনের অর্থ আদায়ের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতা নেওয়া হবে।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে পৌরসভার নাম ও রশিদ ব্যবহার করে অবৈধভাবে অর্থ আদায় বন্ধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন