বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬

হুথিদের বিরুদ্ধে ইয়েমেন সরকারকে ‘পূর্ণ সমর্থন’ সৌদি আরবের

ইয়েমেনে নতুন সামরিক অভিযানের মধ্যে রিয়াদের ঘোষণা; সৌদি আরবের প্রতিরক্ষায় যৌথ ব্যবস্থা সক্রিয় করছে তুরস্ক-পাকিস্তানও

ইয়েমেনের হুথি নিয়ন্ত্রিত অঞ্চল পুনরুদ্ধার এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্তৃত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টায় দেশটির আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার ও প্রেসিডেন্সিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিলের প্রতি ‘পূর্ণ সমর্থন’ পুনর্ব্যক্ত করেছে সৌদি আরব।

মঙ্গলবার যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমানের সভাপতিত্বে সৌদি মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর এ অবস্থান জানানো হয়।

সৌদি মন্ত্রিসভার অভিযোগ, ইরান-সমর্থিত হুথিরা শান্তির পরিবর্তে সামরিক উত্তেজনার পথ বেছে নিয়েছে, যার ফলে ইয়েমেনের মানবিক ও অর্থনৈতিক সংকট আরও গভীর হচ্ছে। লোহিত সাগরের দক্ষিণাঞ্চল ও বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে নৌচলাচলের নিরাপত্তার জন্যও হুথিদের তৎপরতাকে হুমকি হিসেবে উল্লেখ করেছে রিয়াদ।

ইয়েমেনে বড় সামরিক অভিযান

সৌদি আরবের এ ঘোষণা এমন সময়ে এলো, যখন ইয়েমেনের প্রেসিডেন্সিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিলের প্রধান রাশাদ আল-আলিমি হুথি নিয়ন্ত্রিত অবশিষ্ট ভূখণ্ড পুনর্দখলের লক্ষ্যে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছেন।

ইয়েমেন সরকারের বাহিনীও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও দেশের সার্বভৌম কর্তৃত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়ে অভিযান চালানোর কথা জানিয়েছে।

সাম্প্রতিক লড়াইয়ে সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেনি সরকারি বাহিনী বাব আল-মান্দেব প্রণালির আশপাশের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকা পুনর্দখলের দাবি করেছে। ইয়েমেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় কৌশলগত বন্দরনগরী মোখা পুনর্দখলের কথাও জানিয়েছে। রয়টার্স জানিয়েছে, সৌদি বিমান সহায়তায় সরকারি বাহিনী ওই অঞ্চলে দ্রুত অভিযান চালিয়েছে।

তবে ইয়েমেনের বিভিন্ন ফ্রন্টে সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে এবং যুদ্ধরত পক্ষগুলোর কিছু সামরিক দাবি স্বাধীনভাবে পুরোপুরি যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

সৌদি আরবের পাশে তুরস্ক-পাকিস্তান

এদিকে ইয়েমেন ঘিরে উত্তেজনার মধ্যে সৌদি আরবের নিরাপত্তায় যৌথ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কার্যকরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান।

৫ অক্টোবর রিয়াদে মক্কা অ্যালায়েন্স ফর ডিফেন্সের স্ট্র্যাটেজিক-পলিটিক্যাল অ্যান্ড ডিফেন্স কমিটির জরুরি বৈঠকে তিন দেশ যৌথ প্রতিরক্ষা অঙ্গীকার বাস্তবায়নে তাৎক্ষণিকভাবে এগিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

যৌথ বিবৃতি অনুযায়ী, সম্মত সামরিক বাহিনী ও সক্ষমতা সৌদি আরবে দ্রুত মোতায়েনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে তা তিন দেশের নিজস্ব আইন ও পূর্বনির্ধারিত ব্যবস্থার আওতায় বাস্তবায়িত হবে।

তিন দেশ মক্কা ও মদিনাকে লক্ষ্যবস্তু করার কথিত প্রচেষ্টা এবং সৌদি শহর, বেসামরিক ও অর্থনৈতিক স্থাপনায় হামলার নিন্দাও জানিয়েছে। তারা বলেছে, জোটের প্রতিটি সদস্যের নিরাপত্তাকে তিন দেশের সম্মিলিত নিরাপত্তার অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

‘একসঙ্গে’ হুমকি মোকাবিলার ঘোষণা

সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমান বৈঠকের পর জানান, সৌদি আরবের নিরাপত্তা ও পবিত্র স্থানগুলোর বিরুদ্ধে হুমকি মোকাবিলায় তিন দেশ ঐক্যবদ্ধ অবস্থান নিয়েছে।

তবে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান জানিয়েছেন, বৈঠকে শুধু সৌদি আরবের প্রতিরক্ষায় কী ধরনের সহায়তা দেওয়া যায় তা নয়, ইয়েমেনকেন্দ্রিক উত্তেজনা শান্তিপূর্ণ উপায়ে ও আলোচনার মাধ্যমে কীভাবে নিরসন করা যায়—সেটিও আলোচনা হয়েছে।

নতুন করে তীব্র হচ্ছে ইয়েমেন সংঘাত

সাম্প্রতিক দিনগুলোতে বাব আল-মান্দেব ও লোহিত সাগর উপকূল ঘিরে সংঘর্ষ তীব্র হয়েছে। অঞ্চলটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হওয়ায় নতুন সংঘাত বৃহত্তর আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

৭ অক্টোবরও উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, হুথিরা এদিন ইয়েমেনের এডেন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর লক্ষ্য করে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে; এতে হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। একই সময়ে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট দক্ষিণ সৌদি আরবের খামিস মুশাইত অভিমুখী একটি হুথি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করার দাবি করেছে।

নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ায় দীর্ঘদিনের যুদ্ধ ও মানবিক সংকটে বিপর্যস্ত ইয়েমেনের বেসামরিক জনগোষ্ঠীর পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে ওঠার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন