অনুসরণ করুন:
বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬

টেক্সটাইল খাতের সংকট সংসদে তুলে ধরার আশ্বাস বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানের

বিটিএমএ নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে গ্যাস-বিদ্যুৎ, প্রণোদনা, কর-শুল্ক ও এলডিসি-পরবর্তী চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা

দেশের টেক্সটাইল খাতের বিদ্যমান সমস্যা ও নীতিগত প্রতিবন্ধকতা জাতীয় সংসদে তুলে ধরার পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী সরকারের সঙ্গে আলোচনার আশ্বাস দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।

মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর ২৯ মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ আশ্বাস দেন।

বৈঠকে টেক্সটাইল খাতের প্রণোদনা, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ, এলডিসি থেকে উত্তরণ-পরবর্তী চ্যালেঞ্জ, কর ও শুল্ক, বন্ড সুবিধার অপব্যবহার, অবৈধ আমদানি এবং বিভিন্ন নীতিগত জটিলতা নিয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠক শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার আলোচনার বিস্তারিত তুলে ধরেন।

‘গঠনমূলক বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করতে চাই’

ডা. শফিকুর রহমানের বক্তব্য উদ্ধৃত করে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সরকারের সব কাজের বিরোধিতা করাকে রাজনৈতিক সংস্কৃতি হিসেবে দেখতে চায় না জামায়াত। জনস্বার্থ ও দেশের কল্যাণে সরকারের উদ্যোগে সহযোগিতা এবং জনস্বার্থবিরোধী সিদ্ধান্তের সমালোচনা ও প্রয়োজন হলে প্রতিবাদ করাই তাদের অবস্থান।

তিনি বলেন, বিটিএমএ নেতারা টেক্সটাইল খাতের বিভিন্ন সমস্যা ও চ্যালেঞ্জ বৈঠকে তুলে ধরেছেন। বিরোধীদলীয় নেতা সেগুলো শুনে রপ্তানিমুখী শিল্পের কাঁচামাল নিশ্চিত করা, দেশীয় প্রাইমারি টেক্সটাইল শিল্পের সক্ষমতা রক্ষা, স্থানীয় মূল্য সংযোজন বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সুরক্ষা এবং বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের মতো বিষয়গুলোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।

এ ছাড়া সরকারি রাজস্ব সুরক্ষা, বন্ড সুবিধার অপব্যবহার এবং অবৈধ আমদানি প্রতিরোধের বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, টেক্সটাইল খাতের যৌক্তিক সমস্যাগুলো জাতীয় সংসদে তুলে ধরার পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী সরকারের সঙ্গে আলোচনা করার কথা জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা।

টেক্সটাইল খাতে ৩২ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ: বিটিএমএ

বিটিএমএর ভাইস প্রেসিডেন্ট শফিকুল ইসলাম সরকার বলেন, দেশের টেক্সটাইল খাতে বর্তমানে প্রায় ৩২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিনিয়োগ রয়েছে। তৈরি পোশাকশিল্পের ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ হিসেবে এ খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

তিনি জানান, শিল্পের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে বিটিএমএ দীর্ঘদিন ধরে সরকারের সঙ্গে আলোচনা করছে। প্রধানমন্ত্রীসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট পর্যায়ে একাধিক বৈঠক হয়েছে এবং কিছু সমস্যার সমাধানও হয়েছে। তবে বেশ কয়েকটি বিষয়ে এখনো আলোচনা চলছে।

বৈঠকে বিশেষভাবে প্রণোদনা, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ, এলডিসি উত্তরণ-পরবর্তী পরিস্থিতি, কর বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন নীতিগত প্রতিবন্ধকতার বিষয় তুলে ধরা হয়েছে বলে জানান তিনি।

গ্যাস-বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতি, সমস্যায় এখনো কিছু কারখানা

শফিকুল ইসলাম সরকার বলেন, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও এখনো কয়েকটি কারখানা সমস্যায় রয়েছে। শিল্পের উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে এসব সমস্যার দ্রুত সমাধান প্রয়োজন বলে বিটিএমএ নেতারা বৈঠকে জানিয়েছেন।

এনার্জি বন্ড ও সুতাসংক্রান্ত অনিয়ম বা অপব্যবহারের বিষয়েও সরকারের সঙ্গে আলোচনা চলছে বলে জানান তিনি।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, শিল্প ও উৎপাদন খাত দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি। তৈরি পোশাকশিল্পের সঙ্গে টেক্সটাইল খাতের সরাসরি সম্পর্ক থাকায় এ খাতের সমস্যা সমাধানে সরকার, বিরোধী দল ও শিল্পসংশ্লিষ্টদের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

বাটেক্সপোর সমাপনীতে বিরোধীদলীয় নেতা না থাকা নিয়ে প্রশ্ন

প্রেস ব্রিফিংয়ের প্রশ্নোত্তর পর্বে আগামী ১৮ নভেম্বর বস্ত্র ও পোশাকসংশ্লিষ্ট বাটেক্সপোর সমাপনী অনুষ্ঠানে বিরোধীদলীয় নেতাকে প্রধান অতিথি করার প্রচলিত রীতির ব্যতিক্রম হচ্ছে কি না—এমন প্রশ্ন ওঠে।

জবাবে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ শিল্প ও বাণিজ্যিক মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এবং সমাপনী অনুষ্ঠানে বিরোধীদলীয় নেতাকে প্রধান অতিথি করার একটি প্রচলিত রীতি রয়েছে।

এবার এর ব্যতিক্রম দেখা যাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে জামায়াত। তবে ডা. শফিকুর রহমান নিজে কোনো অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হওয়ার দাবি বা অনুরোধ করেননি।

গোলাম পরওয়ার বলেন, দেশের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ কোনো খাতকে দলীয় রাজনীতির সংকীর্ণতার মধ্যে রাখা উচিত নয়। ব্যবসায়ী ও শিল্পোদ্যোক্তাদের সঙ্গে রাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সমন্বয় প্রয়োজন।

‘বিরোধী দলের দায়িত্ব শুধু সমালোচনা নয়’

টেক্সটাইল খাতের সমস্যা সমাধানে বিরোধীদলীয় নেতা কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবেন—এমন প্রশ্নের জবাবে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, বিরোধী দলের দায়িত্ব কেবল সরকারের সমালোচনা করা নয়।

জনস্বার্থে সরকারের ইতিবাচক উদ্যোগে সহযোগিতা এবং জনস্বার্থবিরোধী সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে ভুল-ত্রুটি তুলে ধরাও বিরোধী দলের দায়িত্ব বলে মন্তব্য করেন তিনি। শিল্প, ব্যবসা ও অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো সংসদে উত্থাপন এবং সরকারের সঙ্গে আলোচনা করাও সেই দায়িত্বের অংশ বলে জানান জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল।

বৈঠকে বিটিএমএর পক্ষে সংগঠনটির প্রেসিডেন্ট ও আম্বার কটন মিলস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শওকত আজিজ রাসেল, ভাইস প্রেসিডেন্ট ও পূর্বাণী ইয়ার্ন ডাইং লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শফিকুল ইসলাম সরকার, পরিচালক মো. শাহিদ আলম, সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট হোসেন মেহমুদ, পরিচালক প্রকৌশলী সৈয়দ ইশতিয়াক আহমেদ, সাবেক পরিচালক মো. মোশারফ হোসেন, সেক্রেটারি জেনারেল ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জাকির হোসেন (অব.)-সহ সংগঠনটির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমীর নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি, ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমীর মো. সেলিম উদ্দিনসহ অন্য নেতারা বৈঠকে অংশ নেন।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন