মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬

নাটোরে আজান দেওয়ার সময় মুয়াজ্জিনকে ছুরিকাঘাত

নাটোরের নলডাঙ্গায় ফজরের আজান দেওয়ার সময় এক মুয়াজ্জিনকে ছুরিকাঘাত করে গুরুতর জখম করেছে দুর্বৃত্তরা। সোমবার ভোর পৌনে ৫টার দিকে নলডাঙ্গা থানাধীন ৪ নম্বর পিপরুল ইউনিয়নের চর বাঙালপাড়া জামে মসজিদে এ ঘটনা ঘটে।

আহত মুয়াজ্জিনের নাম মো. সৈয়দ ইসলাম (৫০)। তিনি চর বাঙালপাড়া এলাকার মৃত শাহাদ হোসেনের ছেলে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে স্থানীয়ভাবে উদ্ধার করে রাজশাহীতে নেওয়া হয়। পরে সকাল সাড়ে ৭টার দিকে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তিনি বর্তমানে সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

আজান বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সন্দেহ

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো সোমবার ভোরে চর বাঙালপাড়া জামে মসজিদে ফজরের আজান দিতে শুরু করেন মুয়াজ্জিন সৈয়দ ইসলাম।

আজান চলার একপর্যায়ে হঠাৎ তার কণ্ঠস্বর বন্ধ হয়ে যায়। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে আশপাশের লোকজন দ্রুত মসজিদের দিকে ছুটে যান।

মসজিদে গিয়ে তারা মেঝেতে সৈয়দ ইসলামকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। তার পেটে ধারালো চাকু দিয়ে আঘাত করা হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানান। তবে কারা এবং কী কারণে তার ওপর হামলা চালিয়েছে, তাৎক্ষণিকভাবে তা জানা যায়নি।

রাজশাহী মেডিকেলে চিকিৎসাধীন

ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন ও আহত মুয়াজ্জিনের ভাই তাকে দ্রুত উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য রাজশাহীতে নিয়ে যান। পরে সকাল সাড়ে ৭টার দিকে তাকে রামেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

হাসপাতালে তার চিকিৎসা চলছে। গুরুতর আঘাতের কারণে তার শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি

মসজিদের ভেতরে আজান দেওয়ার সময় মুয়াজ্জিনের ওপর হামলার ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

প্রাথমিক অনুসন্ধান চলছে: পুলিশ

নলডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনোয়ার জাহান জানান, আহত মুয়াজ্জিন রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

তিনি বলেন, ঘটনাটি নিয়ে থানা পুলিশের প্রাথমিক অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে। হামলার কারণ, জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তকরণ এবং ঘটনার বিস্তারিত তথ্য জানার চেষ্টা করছে পুলিশ।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন