বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬

সাংবাদিক মুন্নি সাহা ও স্বামীসহ সংশ্লিষ্টদের ৩৫টি ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ, ১৮ কোটি টাকার লেনদেন স্থগিত

সাংবাদিক মুন্নি সাহা, তার স্বামী কবির হোসেন এবং তাদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ৩৫টি ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। এসব হিসাবে বর্তমানে থাকা স্থিতির পরিমাণ ১৮ কোটি ১৬ লাখ ৫৩ হাজার ৭৩৯ টাকা।

সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট কর্তৃক পরিচালিত মানিলন্ডারিং অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, মুন্নি সাহা ও তার স্বামী পেশাগত প্রভাব খাটিয়ে প্রতারণা ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে বিপুল অর্থ উপার্জন করেন, যা বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামে পরিচালিত ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে লেনদেন করা হয়ে থাকে।

৪৬টি হিসাবে ১৮৬ কোটি টাকার লেনদেন

সিআইডির প্রাথমিক অনুসন্ধানে দেখা গেছে, মুন্নি সাহা ও সংশ্লিষ্টদের নামে মোট ৪৬টি ব্যাংক হিসাব খোলা হয়েছে, যার মধ্যে ৩৫টি হিসাব বর্তমানে সক্রিয়। এই হিসাবগুলোতে এখন পর্যন্ত প্রায় ১৮৬ কোটি ৫৬ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে, যা তদন্ত কর্মকর্তাদের কাছে ‘সন্দেহজনক’ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

এই তথ্যের ভিত্তিতে অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ বিধিমালা, ২০১৯ অনুযায়ী আদালতের কাছে হিসাবগুলো ফ্রিজ করার আবেদন করেন। পরবর্তীতে সিনিয়র স্পেশাল জজ, মহানগর দায়রা জজ আদালত, ঢাকা সংশ্লিষ্ট ৩৫টি হিসাব এবং তাতে থাকা ১৮ কোটি ১৬ লাখ টাকার বেশি অর্থ অবরুদ্ধ (ফ্রিজ) করার নির্দেশ দেন।

অনুসন্ধান অব্যাহত

সিআইডির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মুন্নি সাহা ও তার স্বামীর বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ বিধিমালা অনুসারে তদন্ত অব্যাহতরয়েছে। এই তদন্তে ভবিষ্যতে আরও নাম এবং প্রতিষ্ঠানের সম্পৃক্ততা উঠে আসতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছে সূত্র।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সাংবাদিকতা পেশার আড়ালে অবৈধ লেনদেন এবং অর্থপাচার সংক্রান্ত অভিযোগে এই প্রথম কোনো প্রভাবশালী মিডিয়া ব্যক্তিত্বের বিরুদ্ধে এত বড় পরিসরে তদন্ত ও আদালতের নির্দেশে সম্পদ ফ্রিজ করার ঘটনা ঘটলো।

সিআইডি সূত্রে জানা যায়, প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ হাতে পাওয়ার পর এ বিষয়ে বিস্তারিত চার্জশিট দাখিল এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এই ঘটনায় ইতোমধ্যে সাংবাদিকতা মহলে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে, এবং অনেকে পেশাগত স্বচ্ছতা ও নৈতিকতা বজায় রাখার আহ্বান জানাচ্ছেন।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন