খুলনার দিঘলিয়া উপজেলায় পূর্ববাংলা কমিউনিস্ট পার্টির (পিবিসিপি) সঙ্গে সম্পৃক্ত এক নেতাকে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। নিহত নাসিমুল করিম ওরফে নাসিমের বিরুদ্ধে পুলিশ অ্যাসল্টসহ আটটি মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে হত্যাকাণ্ডের পেছনে কী কারণ রয়েছে এবং কারা এ ঘটনায় জড়িত, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
গতকাল রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে দিঘলিয়া উপজেলার ফরমাইশখানা এলাকায় তৈয়ব আলী শিকদারের চায়ের দোকানের সামনে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
চায়ের দোকানের সামনে গুলি, হাসপাতালে মৃত্যু
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার সময় নাসিম ফরমাইশখানা এলাকায় তৈয়ব আলী শিকদারের চায়ের দোকানের সামনে বসে ছিলেন। এ সময় অজ্ঞাতপরিচয় দুই ব্যক্তি তাঁকে লক্ষ্য করে কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়ে। পরে হামলাকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
গুলিবিদ্ধ অবস্থায় নাসিমকে পরিবারের সদস্যরা উদ্ধার করে দ্রুত খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
হামলাকারীরা কীভাবে ঘটনাস্থলে এসেছিল এবং কোন পথে পালিয়ে গেছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং হত্যাকাণ্ডের বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে।
ঘটনাস্থল থেকে গুলি ও খোসা উদ্ধার
দিঘলিয়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার সানোয়ার হুসাইন মাসুম জানান, ঘটনাস্থল থেকে তিনটি গুলির খোসা ও তিনটি তাজা গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।
তিনি বলেন, হত্যাকাণ্ডের কারণ এবং এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং হামলাকারীদের শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে। সংগৃহীত আলামত ও অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
নিহতের বিরুদ্ধে আটটি মামলার তথ্য
পুলিশের প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, নিহত নাসিমুল করিমের বিরুদ্ধে পুলিশ অ্যসাল্টসহ মোট আটটি মামলা রয়েছে। এ ছাড়া প্রাথমিক পর্যালোচনায় তাঁর পূর্ববাংলা কমিউনিস্ট পার্টি (জনযুদ্ধ)-এর সঙ্গে সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
তবে তাঁর বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলোর বর্তমান অবস্থা, সেগুলোর প্রকৃতি এবং হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে এসব বিষয়ের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
হত্যার কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত
নাসিমুল করিমকে কারা এবং কী উদ্দেশ্যে হত্যা করেছে, তা জানতে পুলিশ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। পূর্বশত্রুতা, ব্যক্তিগত বিরোধ কিংবা অন্য কোনো কারণে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে কি না, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।
পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করাই এখন তাদের অগ্রাধিকার। তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে ঘটনার পেছনের কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যেতে পারে।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তারের তথ্য পাওয়া যায়নি।

