শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জমি কেনার প্রলোভনে ৩০ লাখ টাকা আত্মসাৎ, পিবিআইয়ের হাতে ৩ জন গ্রেপ্তার

রাজধানীর দারুস সালাম এলাকায় জমি কেনার কথা বলে প্রতারণার মাধ্যমে অবসরপ্রাপ্ত এক সেনা সদস্যের কাছ থেকে ৩০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে প্রতারক চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

পিবিআই ঢাকা মেট্রো (উত্তর) শাখার অভিযানে মামলার এজাহারনামীয় তিন আসামিকেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—মো. সাহাবুদ্দিন হাওলাদার ওরফে খলিলুর রহমান ওরফে মিজানুর রহমান, মো. জাহাঙ্গীর আলম শাহীন ওরফে সাইফুল এবং সুমন আহমেদ ওরফে জাহাঙ্গীর আলম।

পিবিআই জানায়, ভুক্তভোগী মুহাম্মদ ফারুক হোসেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে সার্জেন্ট পদে কর্মরত ছিলেন। জমির শেয়ার বিক্রির বিজ্ঞাপন দেখে সাইফুল নামে এক ব্যক্তি তার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। ২০২৫ সালের ৩ ডিসেম্বর তাদের পরিচয় হয়। পরে সাইফুল তাকে জমি কেনার বিষয়ে তার পরিচিত সাহাবুদ্দিন হাওলাদারের সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, ৭ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে সাইফুল ভুক্তভোগীকে ধানমন্ডিতে নিয়ে সাহাবুদ্দিনের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। এ সময় সাহাবুদ্দিন নিজেকে সচিব পরিচয় দিয়ে সাভারের বিলামালিয়া মৌজায় ৫৮ শতক জমি কেনার প্রস্তাব দেন। একই সঙ্গে সাইফুলকে ওই জমি সংক্রান্ত কাজের জন্য এক লাখ টাকা দেন।

পরে সাইফুল ভুক্তভোগীকে ডেলটা হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে ওই জমির মালিক হিসেবে জাহাঙ্গীর নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। জমির বায়না বাবদ ১০ লাখ টাকা দাবি করা হলে ভুক্তভোগী তাদের কথায় বিশ্বাস করে সাত লাখ টাকা ব্যাংক থেকে এবং তিন লাখ টাকা বাসা থেকে সংগ্রহ করে সাইফুলের মাধ্যমে জাহাঙ্গীরকে দেন।

এ সময় ১০০ টাকা মূল্যের তিনটি নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে বায়নানামা তৈরি করে ভুক্তভোগীর স্বাক্ষর নেওয়া হয় এবং তাকে এর ফটোকপি দেওয়া হয়।

পিবিআইয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, পরদিন আসামিরা আরও ২০ লাখ টাকা দাবি করেন। ভুক্তভোগী ওই টাকা সংগ্রহ করে ডেলটা হাসপাতালে গিয়ে সাইফুল ও জাহাঙ্গীরের কাছে দেন এবং মূল বায়নানামা গ্রহণ করেন। এরপর সাহাবুদ্দিনসহ অন্য আসামিরা বিভিন্ন অজুহাতে তার সঙ্গে দেখা করা বন্ধ করে দেন এবং একপর্যায়ে আত্মগোপনে চলে যান। তাদের মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া যায়।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মুহাম্মদ ফারুক হোসেনের অভিযোগের ভিত্তিতে গত ২৭ আগস্ট দারুস সালাম থানায় মামলা করা হয়। মামলায় দণ্ডবিধির ৪০৬ ও ৪২০ ধারায় অভিযোগ আনা হয়। ঘটনাটি জনগুরুত্বপূর্ণ বিবেচনায় পিবিআই ঢাকা মেট্রো (উত্তর) স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে মামলাটির তদন্ত শুরু করে।

পিবিআই জানায়, তদন্তের শুরুতে ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পাশাপাশি আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়। তদন্তে জানা যায়, মামলার এক নম্বর আসামি সাহাবুদ্দিন হাওলাদার অন্য একটি প্রতারণা মামলায় ডিবি পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন। পরে ডিবির কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করে তাকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর জন্য আদালতে আবেদন করা হয়। আদালত তার রিমান্ড মঞ্জুর করলে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

পিবিআইয়ের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে সাহাবুদ্দিন ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন এবং মামলার তিন নম্বর আসামি জাহাঙ্গীরের প্রকৃত নাম সুমন আহমেদ বলে তথ্য দেন।

পরে পিবিআই ঢাকা মেট্রো (উত্তর)-এর একটি দল অভিযান চালিয়ে সুমন আহমেদকে গ্রেপ্তার করে। তার দেওয়া তথ্য ও দেখানো স্থান অনুযায়ী অভিযান চালিয়ে মামলার অপর আসামি মো. জাহাঙ্গীর আলম শাহীনকেও গ্রেপ্তার করা হয়।

পিবিআই আরও জানায়, গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদে তিন আসামিই পরস্পর যোগসাজশে জমি কেনার কথা বলে ভুক্তভোগীর কাছ থেকে ৩০ লাখ টাকা আত্মসাতের কথা স্বীকার করেছেন। পরে তারা আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

তদন্তে পাওয়া তথ্য ও আসামিদের জবানবন্দি পর্যালোচনায় পিবিআই জানিয়েছে, প্রতারণার পরিকল্পনার মূল হোতা হিসেবে সাহাবুদ্দিন আত্মসাৎ করা ৩০ লাখ টাকার মধ্যে ১০ লাখ টাকা নেন। ঘটনার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা জাহাঙ্গীর আলম শাহীন নেন ১৭ লাখ টাকা। আর পরিকল্পনা অনুযায়ী শুধু টাকা গ্রহণের দায়িত্বে থাকা সুমন আহমেদ নেন তিন লাখ টাকা।

গ্রেপ্তার আসামিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। এ প্রতারণার ঘটনায় আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পিবিআই। মামলাটির তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন