বিশ্বের বৃহত্তম মুক্তবাণিজ্য চুক্তি ‘রিজিওনাল কম্প্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ’ (আরসিইপি)-এ বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তির প্রক্রিয়া আরও এক ধাপ এগিয়েছে। বাংলাদেশসহ চার আবেদনকারী দেশ ও অঞ্চলের সদস্যপদ প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে একটি বিশেষ ‘অ্যাডহক অ্যাকসেশন ওয়ার্কিং গ্রুপ’ গঠনের অনুমোদন দিয়েছে আরসিইপির সদস্য দেশগুলো।
গত ২১ সেপ্টেম্বর ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় অনুষ্ঠিত ৫ম আরসিইপি মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে আরসিইপি জয়েন্ট কমিটির (আরজেসি) সুপারিশের ভিত্তিতে বাংলাদেশ, চিলি, হংকং (চীন) ও শ্রীলঙ্কার জন্য অ্যাকসেশন ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠনের বিষয়ে সম্মতি দেন সদস্য দেশগুলোর মন্ত্রীরা।
আরসিইপির যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, চুক্তিটি একটি উন্মুক্ত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক কাঠামো বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তির প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে আবেদনকারী দেশ ও অঞ্চলের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক আলোচনা ও প্রয়োজনীয় কারিগরি কার্যক্রম এগিয়ে নিতে এই ওয়ার্কিং গ্রুপ কাজ করবে।
আরসিইপির বর্তমান সদস্য ১৫টি অর্থনীতি—আসিয়ানের ১০ সদস্য দেশ এবং অস্ট্রেলিয়া, চীন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও নিউজিল্যান্ড। ২০২২ সালের ১ জানুয়ারি চুক্তিটি কার্যকর হয়। অর্থনৈতিক পরিসরের দিক থেকে এটি বিশ্বের বৃহত্তম মুক্তবাণিজ্য চুক্তি হিসেবে বিবেচিত।
বাংলাদেশের জন্য আরসিইপিতে অন্তর্ভুক্তির প্রক্রিয়া এগিয়ে যাওয়া বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, সদস্যপদ অর্জিত হলে এ অঞ্চলের বৃহৎ অর্থনীতিগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক আরও সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে এলডিসি-উত্তরণ-পরবর্তী সময়ে বাজারসুবিধা, বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থার সঙ্গে সংযোগ এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের ক্ষেত্রেও এটি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
বৈঠকে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক আরও গভীর করার পাশাপাশি আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সংহতি জোরদার এবং বাণিজ্যের অপ্রয়োজনীয় বাধা দূর করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। একই সঙ্গে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) সংস্কার প্রক্রিয়ায় সমর্থন অব্যাহত রাখার বিষয়েও সদস্যরা একমত হন।
বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার বাণিজ্য উপমন্ত্রী দিয়াহ রোরো এস্তি উইদিয়া পুত্রি এবং নিউজিল্যান্ডের পার্লামেন্টের পররাষ্ট্র, প্রতিরক্ষা ও বাণিজ্য কমিটির সদস্য ড. শেন রেটি সহ-সভাপতিত্ব করেন।
এদিকে, আরসিইপি সদস্যরা ২০২৭ সালে চুক্তিটির সাধারণ পর্যালোচনা ও সম্ভাব্য ‘আপগ্রেড’ প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতিও শুরু করেছেন। এর মাধ্যমে পরিবর্তিত বৈশ্বিক অর্থনৈতিক বাস্তবতায় চুক্তিটিকে আরও কার্যকর ও সময়োপযোগী করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

