শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ঢাকার নদী বাঁচাতে সমন্বিত দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ নিতে হবে: পানিসম্পদ মন্ত্রী

বুড়িগঙ্গা-তুরাগসহ পাঁচ নদী দূষণ ও দখলমুক্ত রাখা সরকারের অগ্রাধিকার • শিল্প ও পয়ঃবর্জ্য বন্ধে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে দায়িত্ব পালনের তাগিদ

রাজধানী ঢাকার চারপাশের নদীগুলোকে দূষণ ও দখলমুক্ত রাখা, নাব্যতা ফিরিয়ে আনা এবং স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করতে সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি।

তিনি বলেছেন, রাজধানীর পরিবেশ, জনস্বাস্থ্য, জীববৈচিত্র্য ও অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করেই নদীগুলোর ব্যবস্থাপনা করতে হবে।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর গুলশানের আলোকিতে টিম ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন আয়োজিত ‘হাই লেভেল ইভেন্ট অন বাংলাদেশ রিভার’স পলিউশন কন্ট্রোল, কনজারভেশন অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অব দ্য রিভার’স সারাউন্ডিং ক্যাপিটাল ঢাকা’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

পানিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, বালু, শীতলক্ষ্যা ও ধলেশ্বরীসহ ঢাকার চারপাশের নদীগুলোকে দূষণ ও দখলমুক্ত রাখা সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার। নদীতে শিল্পবর্জ্য, পয়ঃবর্জ্য ও কঠিন বর্জ্য ফেলা বন্ধে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে হবে।

একক মন্ত্রণালয়ের পক্ষে সম্ভব নয়

নদীদূষণ নিয়ন্ত্রণকে একটি বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে তুলে ধরে শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, কোনো একটি মন্ত্রণালয় বা সংস্থার পক্ষে এককভাবে এ সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়।

পানিসম্পদ, পরিবেশ, নৌপরিবহন, স্থানীয় সরকার, সিটি করপোরেশন, শিল্প ও রাজউকসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। একই সঙ্গে নদীতীরবর্তী জনগোষ্ঠী, শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও নাগরিক সমাজকেও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।

নদীর সঙ্গে খাল-জলাধারের সংযোগও রক্ষা করতে হবে

মন্ত্রী বলেন, নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হলে জলাবদ্ধতা বাড়ার পাশাপাশি পরিবেশগত ভারসাম্য নষ্ট হয় এবং জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়। এ কারণে শুধু নদী নয়, নদীর সঙ্গে সংযুক্ত খাল ও জলাধারও সংরক্ষণ করা জরুরি।

নদী ও খালের সংযোগ পুনঃস্থাপন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী খনন ও পুনঃখননের মাধ্যমে পানিপ্রবাহ সচল রাখার উদ্যোগ অব্যাহত রাখার কথা জানান তিনি। পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটেও দেশব্যাপী নদী-নালা, খাল ও জলাধার খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচির তথ্য রয়েছে।

অনুষ্ঠানে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) কান্ট্রি ডিরেক্টর চিংফেং ঝাং, ইউরোপীয় ইউনিয়নের মিনিস্টার কাউন্সিলর ও হেড অব ডেভেলপমেন্ট কো-অপারেশন মাইকেল ক্রেজা, বাংলাদেশে নিযুক্ত ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জঁ-মার্ক সেরে-শারলে এবং নেদারল্যান্ডসের রাষ্ট্রদূত জোরিস ভ্যান বোমেলসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন।

রাজধানীর চারপাশের নদীগুলোর দূষণ নিয়ন্ত্রণ, সংরক্ষণ ও টেকসই ব্যবস্থাপনায় সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীদের সমন্বিত অংশগ্রহণের বিষয়টিও অনুষ্ঠানে গুরুত্ব পায়।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন