মরিয়ম খাতুনের মামা ও এমপির ব্যক্তিগত গাড়িচালক ওবায়দুর • মিরপুরে অভিযান চালায় এসআরবি-২ • ডিবির কাছে হস্তান্তরের পর আদালতে হাজির • আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় তিনজন আসামি
সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের মৃত্যুর ঘটনায় করা আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলার আসামি ওবায়দুর রহমানকে রাজধানীর মিরপুর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারের পর তাকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে আদালতে হাজির করা হলে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন বিচারক।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি-২) মিরপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে ওবায়দুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে।
ওবায়দুর নিহত মরিয়ম খাতুনের আপন মামা। একই সঙ্গে তিনি সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের ব্যক্তিগত গাড়িচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন বলে পুলিশ ও মামলার নথিতে উল্লেখ রয়েছে।
গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে মিরপুরে অভিযান
এসআরবি-২-এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি নয়মুল হাসান জানিয়েছেন, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ওবায়দুর রহমানের অবস্থান শনাক্ত করে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মামলাটির তদন্তভার ইতোমধ্যে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের কাছে হস্তান্তর হওয়ায় গ্রেপ্তারের পর ওবায়দুরকে ডিবির কাছে বুঝিয়ে দেয় এসআরবি-২।
ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (গোয়েন্দা) মো. শফিকুল ইসলামও ওবায়দুরকে মিরপুর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে ডিবির কাছে হস্তান্তরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আদালতের নির্দেশে কারাগারে
গ্রেপ্তারের পর বুধবার ওবায়দুর রহমানকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। শুনানি শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলাম।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির তেজগাঁও জোনাল টিমের পরিদর্শক মোহাম্মদ সালাউদ্দিন তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন।
তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনে দাবি করা হয়, মরিয়মের মৃত্যুর ঘটনায় ওবায়দুরের সম্পৃক্ততার বিষয়ে সাক্ষ্যপ্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের স্বার্থে তাকে কারাগারে রাখা প্রয়োজন বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়। এসব বক্তব্য তদন্ত কর্মকর্তার দাবি; মামলার চূড়ান্ত বিচার এখনো হয়নি।
ন্যাম ভবনের ফ্ল্যাটে পাওয়া যায় মরিয়মের মরদেহ
গত রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় জাতীয় সংসদ ভবনের বিপরীতে ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে মরিয়ম খাতুনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
এরপর ওই রাতেই সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামকে পুলিশ হেফাজতে নেয়।
মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ বাদী হয়ে শেরেবাংলা নগর থানায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করেন। মামলায় সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম, তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম এবং মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানকে আসামি করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০৬ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
এজাহারে ওবায়দুরকে নিয়ে যে অভিযোগ
মামলার এজাহারে মরিয়মের বাবা অভিযোগ করেন, গত জুনে তার শ্যালক ওবায়দুর রহমানের ‘প্রত্যক্ষ প্ররোচনায়’ গাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে তার বড় মেয়ে মরিয়মের বিয়ে হয়।
এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, বিয়ের পর সংসদ ভবনের বিপরীতে ৫ নম্বর ন্যাম ভবনের ২০৩ নম্বর বাসায় গাজী নজরুল ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদার সঙ্গে থাকতেন মরিয়ম এবং সেখানে তিনি শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হওয়ার কথা পরিবারকে জানিয়েছিলেন। এগুলো মামলার বাদীর অভিযোগ, যা বিচারিক প্রক্রিয়ায় প্রমাণসাপেক্ষ।
এমপি রিমান্ডে, প্রথম স্ত্রী কারাগারে
মামলার পর আদালত গাজী নজরুল ইসলামকে চার দিনের এবং তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামকে এক দিনের রিমান্ডে পাঠান।
এক দিনের রিমান্ড শেষে মাকছুদা ইসলামকে মঙ্গলবার কারাগারে পাঠানো হয়। গাজী নজরুল ইসলাম চার দিনের রিমান্ডে রয়েছেন বলে বুধবারের আদালত-সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। মামলার তদন্তভারও শেরেবাংলা নগর থানা থেকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এবার মিরপুর থেকে ওবায়দুর রহমান গ্রেপ্তার হওয়ার মধ্য দিয়ে মামলার এজাহারভুক্ত তিন আসামিই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজতে এলেন। মরিয়মের মৃত্যুর কারণ ও মামলায় আনা অভিযোগগুলোর বিষয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

