শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সোহরাওয়ার্দী মেডিকেলে চিকিৎসকের এপ্রোন পরে রোগী ভাগানোর অভিযোগ, আনসারের হাতে নারী আটক

রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে চিকিৎসকের এপ্রোন পরে রোগীদের সঙ্গে কথা বলা এবং প্রলোভন দেখিয়ে বেসরকারি ক্লিনিকে নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে শারমিন আক্তার (৩৪) নামে এক নারীকে আটক করেছেন বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর অঙ্গীভূত আনসার সদস্যরা। পরে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টা ৪০ মিনিটের দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে হাসপাতালের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্যরা বিষয়টি জানতে পারেন। পরে পিসি মো. সাদেক হোসেন বাচ্চুর নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি আনসার দল হাসপাতালের তৃতীয় তলায় অভিযান পরিচালনা করে।

আনসার সূত্রে জানা যায়, অভিযানের একপর্যায়ে ৩১৩ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসকের এপ্রোন পরা অবস্থায় শারমিন আক্তারকে দেখতে পান আনসার সদস্যরা। এ সময় তার পরিচয় ও হাসপাতালে চিকিৎসক হিসেবে দায়িত্ব পালনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোনো প্রমাণ দেখাতে পারেননি।

পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি প্রথমে নিজেকে চিকিৎসক হিসেবে পরিচয় দেন। তবে একপর্যায়ে তিনি একটি বেসরকারি হাসপাতালে চাকরি করেন বলে জানান।

প্রাথমিকভাবে জানা যায়, ওই নারী চিকিৎসকের এপ্রোন পরে হাসপাতালের বিভিন্ন স্থানে ঘোরাফেরা করছিলেন। এ সময় তিনি চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের সঙ্গে কথা বলে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে হাসপাতালের বাইরে বেসরকারি ক্লিনিকে নেওয়ার চেষ্টা করছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে।

বিষয়টি জানতে পেরে আনসার সদস্যরা নজরদারি বাড়ান এবং তাকে আটক করেন। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করা হয়।

অভিযানে অংশ নেওয়া আনসার সদস্যরা হলেন পিসি মো. সাদেক হোসেন বাচ্চু, এপিসি মো. শফিকুল ইসলাম এবং আনসার সদস্য মো. আকিদুল ইসলাম।

পরবর্তীতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে আটক নারীকে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।

বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী জানায়, হাসপাতালের মতো গুরুত্বপূর্ণ জনসেবামূলক প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা রোগী ও স্বজনদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অঙ্গীভূত আনসার সদস্যরা নিয়মিত দায়িত্ব পালন করছেন।

একই সঙ্গে দালালি, প্রতারণা কিংবা রোগীদের বিভ্রান্ত করে অন্যত্র নেওয়ার মতো কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে তাঁরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। হাসপাতাল প্রাঙ্গণে সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড দ্রুত শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে রোগী ও স্বজনদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ বজায় রাখতে আনসার সদস্যদের এ ধরনের তৎপরতা অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়েছে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন