শতাধিক পাকিস্তানি প্রতিষ্ঠানের পণ্য নিয়ে চলবে ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত
বস্ত্র-ফ্যাশন থেকে খাদ্য, প্রসাধনী ও হস্তশিল্প • বাংলাদেশ-পাকিস্তান বাণিজ্য বাড়াতে B2B যোগাযোগে জোর • প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত
বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে বাণিজ্যিক যোগাযোগ এবং ব্যবসায়িক অংশীদারত্ব সম্প্রসারণের লক্ষ্য নিয়ে রাজধানীতে শুরু হয়েছে চতুর্থ ‘মেড ইন পাকিস্তান’ প্রদর্শনী। পাঁচ দিনের এ আয়োজনে পাকিস্তানের শতাধিক প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন ধরনের পণ্য ও সেবা নিয়ে অংশ নিয়েছে।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (ICCB) প্রদর্শনীটির উদ্বোধন করা হয়। আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে এ আয়োজন।
বাংলাদেশের রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) ভাইস চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ হাসান আরিফ প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার, পাকিস্তান অ্যাসোসিয়েশন অব এক্সিবিশন ইন্ডাস্ট্রির (PAEI) চেয়ারম্যান ফাহাদ বারলাস এবং প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান এম. খুরশিদ বারলাসসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
শতাধিক পাকিস্তানি প্রতিষ্ঠান
আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, এবারের প্রদর্শনীতে পাকিস্তানের শতাধিক প্রতিষ্ঠান অংশ নিচ্ছে। এতে টেক্সটাইল ও পোশাক, খাদ্য ও পানীয়, প্রসাধনী, হারবাল ও ওয়েলনেস পণ্য, হস্তশিল্প এবং ফ্যাশন অ্যাকসেসরিজসহ বিভিন্ন খাতের পণ্য প্রদর্শিত হচ্ছে।
পাকিস্তানের বিভিন্ন ব্র্যান্ড ও উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশের বাজারে তাদের পণ্যের পরিচিতি বাড়ানোর পাশাপাশি স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সম্ভাব্য অংশীদারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ পাচ্ছে।
আয়োজকেরা বলছেন, প্রদর্শনীটি শুধু পণ্য প্রদর্শনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; দুই দেশের উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে নতুন বাণিজ্যিক সম্পর্ক তৈরিও এর অন্যতম উদ্দেশ্য।
লক্ষ্য বাংলাদেশ-পাকিস্তান বাণিজ্য সম্প্রসারণ
এবারের আয়োজনের সঙ্গে Pakistan-Bangladesh Business Opportunities Conference-ও যুক্ত রয়েছে। ‘Bridging Gaps’ প্রতিপাদ্যের এ আয়োজনের লক্ষ্য দুই দেশের ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ তৈরি, বাণিজ্য ও বিনিয়োগের নতুন ক্ষেত্র অনুসন্ধান এবং বিজনেস-টু-বিজনেস বা B2B সহযোগিতা বাড়ানো।
PAEI চেয়ারম্যান ফাহাদ বারলাস উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বলেন, এবারের প্রদর্শনীতে শতাধিক প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে। দুই দেশের মধ্যে ব্যবসায়িক যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক সম্পৃক্ততা বাড়াতে এ ধরনের আয়োজন ভূমিকা রাখতে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
বাংলাদেশি বাজারে পাকিস্তানি পণ্যের সম্ভাবনা
প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশের ভোক্তাদের সামনে সরাসরি পণ্য তুলে ধরার পাশাপাশি স্থানীয় আমদানিকারক, পরিবেশক ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ পাচ্ছে।
বিশেষ করে পাকিস্তানের টেক্সটাইল, ফ্যাশন, খাদ্যপণ্য, হস্তশিল্প, প্রসাধনী ও হারবাল পণ্যের জন্য বাংলাদেশে বাজার সম্প্রসারণের সম্ভাবনা খুঁজছেন অংশগ্রহণকারীরা। একই সঙ্গে দুই দেশের উদ্যোক্তাদের মধ্যে যৌথ উদ্যোগ এবং দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসায়িক সম্পর্ক তৈরির বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে।
পাকিস্তান অ্যাসোসিয়েশন অব এক্সিবিশন ইন্ডাস্ট্রি জানিয়েছে, এ আয়োজনের মাধ্যমে পাকিস্তানি ব্র্যান্ড ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বাংলাদেশের বাজার সম্পর্কে সরাসরি ধারণা পাওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে networking, B2B meeting এবং সম্ভাব্য বিনিয়োগ ও ব্যবসা সম্প্রসারণের সুযোগ খুঁজতে পারবে।
সাধারণ দর্শনার্থীরাও যেতে পারবেন
‘মেড ইন পাকিস্তান’ প্রদর্শনী শুধু ব্যবসায়ী বা আমদানিকারকদের জন্য নয়; সাধারণ দর্শনার্থীরাও সেখানে গিয়ে বিভিন্ন পাকিস্তানি পণ্য দেখতে ও কেনাকাটা করতে পারবেন। উদ্বোধনের দিন থেকেই দর্শনার্থীদের বিভিন্ন স্টলে পণ্য ঘুরে দেখা ও কেনাকাটা করতে দেখা গেছে।
প্রকাশিত সময়সূচি অনুযায়ী, ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত প্রদর্শনী দর্শনার্থীদের জন্য খোলা থাকবে।
বাণিজ্যিক সম্পর্ক বাড়ানোর উদ্যোগ
সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য এবং বেসরকারি খাতের যোগাযোগ বাড়ানোর বিষয়ে নতুন করে আলোচনা হচ্ছে। সেই প্রেক্ষাপটে ‘মেড ইন পাকিস্তান’ প্রদর্শনীকে দুই দেশের উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীদের সরাসরি সংযোগ তৈরির একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে উপস্থাপন করছেন আয়োজকেরা।
পাঁচ দিনের আয়োজন শেষে কতগুলো নতুন B2B যোগাযোগ, আমদানি-রপ্তানি চুক্তি কিংবা যৌথ বিনিয়োগ উদ্যোগ তৈরি হয়—সেটিই হবে প্রদর্শনীটির বাণিজ্যিক প্রভাব মূল্যায়নের গুরুত্বপূর্ণ সূচক।

