শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

টেলিগ্রামে ভুয়া চাকরির প্রলোভনে ৯৪ লাখ টাকা আত্মসাৎ, সিআইডির হাতে গ্রেপ্তার ২

টেলিগ্রাম অ্যাপের মাধ্যমে ভুয়া চাকরির প্রস্তাব দিয়ে অধিক মুনাফার প্রলোভনে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎকারী সংঘবদ্ধ অনলাইন প্রতারক চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টার দিকে কিশোরগঞ্জ সদর থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—কিশোরগঞ্জের নিকলী থানার দামপাড়া এলাকার মোজাম্মেল হকের ছেলে মো. জুলহাস উদ্দিন (৩৯) এবং করিমগঞ্জ থানার গুনধর এলাকার রেনু মিয়ার ছেলে প্রহড় (২৮)।

সিআইডির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মামলার বাদী মেহেদি হক নিয়ন (৪৯) গত ২৪ আগস্ট ২০২৫ তারিখে টেলিগ্রাম অ্যাপের মাধ্যমে একটি অনলাইন প্রতারক চক্রের কাছ থেকে Zales জুয়েলারি নামের প্রতিষ্ঠানে চাকরির প্রস্তাব পান। প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট দেখে তিনি চাকরিতে আগ্রহী হলে প্রতারকরা কৌশলে একটি ফিশিং লিংকের মাধ্যমে তাকে ভুয়া ওয়েবসাইটে যুক্ত করে।

প্রথমে বাদীকে অনলাইনে অর্ডার সম্পন্নের মাধ্যমে কমিশন আয়ের সুযোগ দেওয়া হয়। পরে অধিক মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন অঙ্কের টাকা বিনিয়োগে প্রলুব্ধ করা হয়। একপর্যায়ে প্রতারক চক্রটি বিভিন্ন ধাপে ৯০টি অর্ডার সম্পন্ন করার কথা জানায়। অর্ডার সম্পন্নের সময় বাদীর অ্যাকাউন্টে মুনাফার পরিমাণ প্রদর্শন করা হলেও সেই টাকা উত্তোলন এবং পরবর্তী অর্ডার সম্পন্নের জন্য নানা অজুহাতে অতিরিক্ত অর্থ জমা দিতে বলা হয়।

প্রতারকদের কথায় বিশ্বাস করে বাদী বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে একাধিক দফায় টাকা পাঠান। এভাবে প্রতারক চক্রটি তার কাছ থেকে মোট ৯৪ লাখ ১৯ হাজার টাকা আত্মসাৎ করে বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় বাদী গত ৩ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে রাজধানীর পল্টন থানায় মামলা করেন। মামলাটিতে দণ্ডবিধির ৪০৬, ৪২০, ৪১৭ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়।

সিআইডি মামলাটির তদন্তভার গ্রহণের পর বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে প্রতারণার সঙ্গে জড়িত চক্রের সদস্যদের শনাক্তের কাজ শুরু করে। তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ইতোমধ্যে চক্রটির ১২ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এরই ধারাবাহিকতায় ১৭ সেপ্টেম্বর গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে কিশোরগঞ্জ সদর থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে মামলার ১৯ নম্বর এজাহারনামীয় আসামি মো. জুলহাস উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অপর আসামি প্রহড়কেও গ্রেপ্তার করে সিআইডি।

গ্রেপ্তার দুজনকে রিমান্ডের আবেদনসহ আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে সিআইডি।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন