বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

একনেকে ১.৬৯ লাখ কোটি টাকার ১২ প্রকল্প অনুমোদন, মেট্রোরেলেই বড় বিনিয়োগ

দুই চলমান মেট্রোর ব্যয় বেড়েছে ১.১০ লাখ কোটি টাকা, নতুন মেট্রোতে ব্যয় ৪৫,৫০৪ কোটি

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা

রাজধানীর গণপরিবহন ব্যবস্থায় বড় বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। নতুন একটি মেট্রোরেল প্রকল্প অনুমোদনের পাশাপাশি চলমান দুটি মেট্রোরেল প্রকল্পের সংশোধিত প্রস্তাবসহ ১ লাখ ৬৮ হাজার ৭৮০ কোটি ৪০ লাখ টাকা ব্যয়ের মোট ১২টি প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সভাপতিত্বে চলতি অর্থবছরের তৃতীয় একনেক সভায় এসব প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়।

অনুমোদিত ১২ প্রকল্পের মধ্যে সাতটি নতুন ও পাঁচটি সংশোধিত। মোট ব্যয়ের মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন ৪৮ হাজার ২৫৬ কোটি ৩০ লাখ টাকা। প্রকল্প ঋণ থেকে আসবে ১ লাখ ২০ হাজার ৪৬৬ কোটি ৩৯ লাখ টাকা এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থার নিজস্ব তহবিল থেকে ৫৭ কোটি ৭১ লাখ টাকা।

মেট্রোরেলেই বড় অঙ্কের বিনিয়োগ

একনেক সভার অন্যতম বড় সিদ্ধান্ত নতুন এমআরটি লাইন-৫ সাউদার্ন রুট অনুমোদন। গাবতলী থেকে দাশেরকান্দি পর্যন্ত ১৭.২০ কিলোমিটার দীর্ঘ এ মেট্রোরেল নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৫ হাজার ৫০৩ কোটি ৭৬ লাখ টাকা। এর মধ্যে ১৩.১০ কিলোমিটার হবে পাতালপথ।

প্রকল্পটিতে সরকার দেবে ১৫ হাজার ১৯৭ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। এডিবি ও দক্ষিণ কোরিয়ার ইডিসিএফ থেকে ঋণ হিসেবে আসবে ৩০ হাজার ৩০৬ কোটি ১০ লাখ টাকা।

একই সভায় চলমান এমআরটি লাইন-১ ও এমআরটি লাইন-৫ নর্দার্ন রুটের সংশোধিত প্রস্তাবও অনুমোদন করা হয়েছে। ২০১৯ সালে প্রকল্প দুটির সম্মিলিত ব্যয় ধরা হয়েছিল ৯৩ হাজার ৭৯৯ কোটি ৯৭ লাখ টাকা। সংশোধনের পর তা দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৪ হাজার ২৪৩ কোটি ২৫ লাখ টাকায়।

অর্থাৎ দুই প্রকল্পের ব্যয় বেড়েছে ১ লাখ ১০ হাজার ৪৪৩ কোটি ২৮ লাখ টাকা বা ১১৭.৭৪ শতাংশ।

লাইন-১-এর ব্যয় ১.১৪ লাখ কোটি

বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর এবং নতুন বাজার থেকে পূর্বাচল পর্যন্ত শাখাসহ ৩১.২৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এমআরটি লাইন-১-এর ব্যয় ৫২ হাজার ৫৬১ কোটি ৪৩ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ১৪ হাজার ৩৯৪ কোটি ৮৯ লাখ টাকা করা হয়েছে।

এ প্রকল্পে ব্যয় বাড়ছে ৬১ হাজার ৮৩৩ কোটি ৪৬ লাখ টাকা বা ১১৭.৬৪ শতাংশ। সংশোধিত ব্যয়ের মধ্যে সরকারের অর্থায়ন ৩০ হাজার ৫৫২ কোটি ২৬ লাখ এবং জাইকার ঋণ ৮৩ হাজার ৮৪২ কোটি ৬৩ লাখ টাকা।

ব্যয় বৃদ্ধির কারণ হিসেবে কোভিড মহামারির সময় নকশা ও দরপত্র প্রস্তুতে বিলম্ব, দেশের প্রথম পাতাল মেট্রোরেল নির্মাণের জটিলতা এবং বিস্তারিত নকশায় বেশ কিছু পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

লাইন-৫ নর্দার্নেও ব্যয় দ্বিগুণের বেশি

হেমায়েতপুর থেকে ভাটারা পর্যন্ত ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ এমআরটি লাইন-৫ নর্দার্ন রুটের ব্যয় ৪১ হাজার ২৩৮ কোটি ৫৪ লাখ টাকা থেকে বেড়ে ৮৯ হাজার ৮৪৮ কোটি ৩৬ লাখ টাকা হয়েছে।

এতে অতিরিক্ত ব্যয় হবে ৪৮ হাজার ৬০৯ কোটি ৮২ লাখ টাকা বা ১১৭.৮৮ শতাংশ। প্রকল্পের সংশোধিত মেয়াদ ২০৩২ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।

সড়ক-রেলসহ আরও বড় প্রকল্প

একনেকে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ৩ হাজার ৮২২ কোটি ৫১ লাখ টাকা ব্যয়ে নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা-জয়দেবপুর সেকশনে ইলেকট্রিক ট্র্যাকশন বাস্তবায়ন এবং বগুড়া-সিরাজগঞ্জ নতুন ডুয়েলগেজ রেলপথ প্রকল্পে অতিরিক্ত ৪ হাজার ৬৬৭ কোটি ৪২ লাখ টাকার সংশোধনী অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া রাজশাহী ও চট্টগ্রাম সড়ক জোনের জেলা মহাসড়ক উন্নয়ন, বরিশাল সেনানিবাসের দ্বিতীয় পর্যায়, খুলনা নৌ অঞ্চলে আবাসন ও অবকাঠামো নির্মাণ, খুলনা পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নয়ন, শ্রমিকদের কর্মপরিবেশ ও সামাজিক সুরক্ষা এবং মনপুরা দ্বীপাঞ্চলের বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা উন্নয়নসহ বিভিন্ন প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে।

সভা শেষে শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি এবং পরিকল্পনা বিভাগের সচিব এস এম শাকিল আখতার সাংবাদিকদের একনেকের সিদ্ধান্ত সম্পর্কে বিস্তারিত জানান।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন