আগামী ১৯ সেপ্টেম্ব রের ঢাকা-রংপুর লংমার্চ ও পলাশবাড়ী পথসভাকে কেন্দ্র করে গাইবান্ধায় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়েছে। লংমার্চ সফল করার লক্ষ্যে মঙ্গলবার বিকেল ৫টায় গাইবান্ধার পলাশবাড়ী চৌমাথায় ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে এক গুরুত্বপূর্ণ প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়।
প্রেস ব্রিফিংয়ে নেতারা দাবি করেন, গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সার সংকট নিরসন, দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি রোধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ এবং দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্বের অবসানের দাবিতে ১৯ সেপ্টেম্বরের ঢাকা-রংপুর লংমার্চ একটি ঐতিহাসিক জনআন্দোলনে রূপ নেবে।
গণমাধ্যমকর্মীদের উদ্দেশ্যে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন ১১ দলীয় ঐক্যের অন্যতম নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম। তিনি বলেন, “দেশের মানুষের ন্যায্য অধিকার ও গণআকাঙ্ক্ষার প্রশ্নে এই লংমার্চ একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে উঠবে। জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণই এ কর্মসূচির সবচেয়ে বড় শক্তি।”
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ মাওলানা মমতাজ উদ্দিন, গাইবান্ধার সাবেক জেলা আমীর ডা. আব্দুর রহিম সরকার এবং গাইবান্ধা জেলা শাখার রাজনৈতিক সেক্রেটারি ও পথসভা বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক অধ্যক্ষ মাওলানা আবুল কাওছার মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম এমপি।
জেলা জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি ও গাইবান্ধা জেলা ১১ দলীয় ঐক্যের আহ্বায়ক সৈয়দ রোকনুজ্জামান-এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত প্রেস ব্রিফিংয়ে আরও বক্তব্য দেন গাইবান্ধা জেলা জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক এস এম খাদেমুল ইসলাম (খুদি), বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের জেলা সভাপতি মুফতি মাওলানা আবু ইউসুফ, এলডিপির জেলা সভাপতি অধ্যক্ষ শরিফুল ইসলাম, জাগপার জেলা সভাপতি মো. জাহিদুল ইসলাম, এবি পার্টির জেলা আহ্বায়ক মো. খাইরুল ইসলাম, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির (বিডিপি) জেলা সভাপতি মো. সুলতান মাহমুদসহ ১১ দলীয় ঐক্যের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মো. ফয়সাল কবির রানা, জেলা পেশাজীবী বিভাগের সভাপতি মুহাম্মদ খায়রুল আমিন, জেলা মানবসম্পদ সেক্রেটারি সাইফুল ইসলাম মণ্ডল, জেলা কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা সাইদুর রহমান, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি নুরুন্নবী প্রধান, গাইবান্ধা পৌর আমীর অধ্যাপক ফেরদৌস আলম, ইসলামী ছাত্রশিবিরের জেলা সভাপতি মো. ইউসুফ আল কারযাভী, পলাশবাড়ী উপজেলা আমীর আবু বকর সিদ্দিক, সাদুল্লাপুর উপজেলা আমীর এরশাদুল হক ইমনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতারা।
প্রেস ব্রিফিংয়ে নেতারা জানান, পলাশবাড়ীর পথসভা এবং রংপুরের মহাসমাবেশে গাইবান্ধা থেকে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে জেলার বিভিন্ন উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়নে প্রচার-প্রচারণা, মতবিনিময় সভা ও গণসংযোগ কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।
বক্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ১৯ সেপ্টেম্বরের লংমার্চ হবে উত্তরাঞ্চলের মানুষের ন্যায্য অধিকার আদায়ের দাবিতে এক ঐতিহাসিক গণজাগরণের মাইলফলক, যা দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বার্তা পৌঁছে দেবে।

