অনুসরণ করুন:
মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দ্বিপক্ষীয় মতপার্থক্য যেন আঞ্চলিক সহযোগিতায় বাধা না হয়: হুমায়ুন কবির

বিমসটেককে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ‘গতিশীল সেতু’ হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান • বাণিজ্য-বিনিয়োগ, সংযোগ ও ব্লু ইকোনমিতে জোর • ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতির পাশাপাশি সক্রিয় আঞ্চলিক সম্পৃক্ততার অঙ্গীকার

ঢাকা: সদস্যদেশগুলোর মধ্যে দ্বিপক্ষীয় মতপার্থক্য যেন আঞ্চলিক সহযোগিতার পথে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়—এমন আহ্বান জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। মতপার্থক্য সত্ত্বেও পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে গঠনমূলক সম্পৃক্ততা অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর শেরাটন ঢাকার বলরুমে বিমসটেক সচিবালয় প্রতিষ্ঠার ১২তম বার্ষিকী উদযাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।

বিমসটেকের সদস্যদেশগুলোর সরকার ও জনগণকে অভিনন্দন জানিয়ে হুমায়ুন কবির আঞ্চলিক সহযোগিতা এগিয়ে নিতে সংস্থাটির মহাসচিব ও সচিবালয়ের ভূমিকার প্রশংসা করেন।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ তার ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতির প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার পাশাপাশি সক্রিয় ও গঠনমূলক আঞ্চলিক সম্পৃক্ততাও বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ।

বিমসটেকের কৌশলগত গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, সংস্থাটিকে আরও কার্যকর, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও জনকেন্দ্রিক করে তুলতে হবে। বিশেষ করে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, আঞ্চলিক সংযোগ, ব্লু ইকোনমি এবং সদস্যদেশগুলোর জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও জোরদার করা প্রয়োজন।

বিমসটেকের বর্তমান চেয়ারম্যান এবং সংস্থাটির সচিবালয়ের স্বাগতিক দেশ হিসেবে বাংলাদেশের বিশেষ দায়িত্বের কথাও তুলে ধরেন হুমায়ুন কবির।

তিনি বলেন, বিমসটেকের আওতায় সদস্যদেশগুলোর নেওয়া সিদ্ধান্ত ও অঙ্গীকারকে দৃশ্যমান এবং বাস্তব ফলাফলে রূপ দিতে বাংলাদেশ অন্য সদস্যদেশগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে প্রস্তুত।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বিমসটেককে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে একটি ‘গতিশীল সেতু’ হিসেবে গড়ে তোলার বাংলাদেশের দৃষ্টিভঙ্গির কথা তুলে ধরেন। তাঁর মতে, ভৌগোলিক অবস্থান ও সদস্যদেশগুলোর অর্থনৈতিক সম্ভাবনার কারণে দুই অঞ্চলের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, যোগাযোগ ও মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ক বৃদ্ধিতে সংস্থাটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

আঞ্চলিক শান্তি, অগ্রগতি ও অভিন্ন সমৃদ্ধি অর্জনেও বিমসটেককে কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

হুমায়ুন কবির বলেন, সদস্যদেশগুলোর মধ্যে বিভিন্ন ইস্যুতে দ্বিপক্ষীয় মতপার্থক্য থাকতে পারে। তবে সেই বিরোধ বা মতপার্থক্যের কারণে বৃহত্তর আঞ্চলিক সহযোগিতা থেমে যাওয়া উচিত নয়। এ জন্য সদস্যদেশগুলোর মধ্যে ধারাবাহিক ও গঠনমূলক যোগাযোগ বজায় রাখার আহ্বান জানান তিনি।

বাংলাদেশ বর্তমানে বিমসটেকের সভাপতির দায়িত্বে রয়েছে এবং ঢাকায় সংস্থাটির স্থায়ী সচিবালয় অবস্থিত। এ অবস্থান কাজে লাগিয়ে বিমসটেকের বিভিন্ন অঙ্গীকারকে বাস্তব সহযোগিতা ও জনগণের জন্য দৃশ্যমান সুফলে রূপান্তরে কাজ করার প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন