শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বাংলাদেশের ১৮৫ কোটি ডলারের ‘জাস্ট ট্রানজিশন’ রোডম্যাপে সুইডেনের সমর্থন

৬ খাতে ৬৯ অগ্রাধিকারমূলক পদক্ষেপ • দক্ষতা, কর্মসংস্থান ও সামাজিক সুরক্ষায় জোর • আইএলওর সঙ্গে অংশীদারত্বে ন্যায্য রূপান্তরে সহায়তা করছে সুইডেন

নিম্ন-কার্বন অর্থনীতিতে রূপান্তরের জন্য বাংলাদেশের ১ দশমিক ৮৫ বিলিয়ন বা ১৮৫ কোটি মার্কিন ডলারের ‘জাস্ট ট্রানজিশন’ রোডম্যাপকে স্বাগত জানিয়েছে সুইডেন। জলবায়ু কার্যক্রমের কেন্দ্রে শ্রমিক ও সাধারণ মানুষকে রেখে বাংলাদেশ যে পরিকল্পনা নিয়েছে, তার প্রতি সমর্থন জানিয়ে দেশটি বলেছে, পরিবেশগত লক্ষ্য অর্জনের পাশাপাশি দক্ষতা উন্নয়ন, সামাজিক সুরক্ষা, ব্যবসায় সহায়তা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক সুযোগ নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ।

জাতীয় উচ্চপর্যায়ের ‘জাস্ট ট্রানজিশন’ সংলাপে বাংলাদেশ ছয়টি খাতে ৬৯টি অগ্রাধিকারমূলক কার্যক্রমের রোডম্যাপ তুলে ধরে। এসব কার্যক্রম বাস্তবায়নে প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ১ দশমিক ৮৫ বিলিয়ন ডলার।

বাংলাদেশের এ উদ্যোগ সম্পর্কে সুইডেনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দেশের এনডিসি বাস্তবায়ন পরিকল্পনায় ‘জাস্ট ট্রানজিশন’-এর জন্য পৃথক অধ্যায় অন্তর্ভুক্ত করার মাধ্যমে জলবায়ু কার্যক্রমে মানুষকে কেন্দ্রে রাখার প্রচেষ্টা ইতিবাচক। এতে জলবায়ু লক্ষ্যের সঙ্গে দক্ষতা উন্নয়ন, সামাজিক সুরক্ষা, উদ্যোগ ও ব্যবসায় সহায়তা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক সুযোগের বিষয়গুলো যুক্ত করা হয়েছে।

আইএলওর মাধ্যমে সহায়তা করছে সুইডেন

ন্যায্য রূপান্তরের এই প্রক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও)-র সঙ্গে অংশীদারত্বের মাধ্যমে সহায়তা করছে সুইডেন। এ সহযোগিতায় পরিবেশগত টেকসইতা, শোভন কর্মসংস্থান এবং সামাজিক সংলাপকে একসঙ্গে এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

মূল লক্ষ্য হচ্ছে, সবুজ ও নিম্ন-কার্বন অর্থনীতিতে রূপান্তরের ফলে নতুন কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক সুযোগ তৈরি হলেও পরিবর্তনের কারণে যেসব শ্রমিক, জনগোষ্ঠী ও ব্যবসা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, তারা যেন পিছিয়ে না পড়ে।

শুধু প্রযুক্তি নয়, গুরুত্ব পাচ্ছে মানুষও

জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় অর্থনীতির রূপান্তর সাধারণত নবায়নযোগ্য জ্বালানি, প্রযুক্তি ও বিনিয়োগের সঙ্গে সম্পর্কিত হলেও ‘জাস্ট ট্রানজিশন’ ধারণায় এর সামাজিক ও কর্মসংস্থানগত প্রভাবকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়।

পুরোনো শিল্প ও কর্মসংস্থানের ধরন বদলে যাওয়ার সঙ্গে শ্রমিকদের নতুন দক্ষতা অর্জন, পুনঃপ্রশিক্ষণ, বিকল্প কর্মসংস্থান এবং প্রয়োজনীয় সামাজিক সুরক্ষার ব্যবস্থা করাই এর অন্যতম লক্ষ্য।

বাংলাদেশের রোডম্যাপেও এসব বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ফলে জলবায়ু প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের সঙ্গে কর্মসংস্থান ও সামাজিক সুরক্ষাকে যুক্ত করার একটি কাঠামো তৈরি হচ্ছে।

এবার চ্যালেঞ্জ বাস্তবায়ন

সুইডেনের মতে, সংলাপ ও পরিকল্পনার পর্যায় পেরিয়ে বাংলাদেশ যখন বাস্তবায়নের দিকে এগোচ্ছে, তখন সরকার, শ্রমিক, নিয়োগকর্তা, তরুণ জনগোষ্ঠী, নাগরিক সমাজ এবং উন্নয়ন সহযোগীদের মধ্যে কার্যকর সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

কপ-৩১ সামনে রেখে বাংলাদেশের এই রোডম্যাপ জলবায়ু প্রতিশ্রুতিকে বাস্তব পদক্ষেপে রূপ দেওয়ার একটি বড় উদ্যোগ হিসেবে সামনে এসেছে। তবে ১৮৫ কোটি ডলারের অর্থায়ন নিশ্চিত করা, ৬৯টি অগ্রাধিকারমূলক কার্যক্রম বাস্তবায়নে নেওয়া এবং রূপান্তরের সুফল শ্রমিক ও সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়াই এখন বড় পরীক্ষা।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন