• উৎপাদন সক্ষমতা ৪৪২ মেগাওয়াট, ব্যয় ২ হাজার ৫০২ কোটি ৪০ লাখ টাকা
• কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের অব্যবহৃত ৯১৮ দশমিক ৫ একর জমিতে নির্মাণ
• প্রতি ইউনিট সম্ভাব্য ট্যারিফ ৬ টাকা ১৮ পয়সা
• ২০২৮ সাল থেকে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা
“এই সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পটি আমদানিনির্ভর জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে দেশের দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তায় অবদান রাখবে। পাশাপাশি পরিচ্ছন্ন, টেকসই ও অভিঘাত মোকাবিলায় সক্ষম বিদ্যুৎ খাত গড়ে তোলার পথে এটি ইতিবাচক পদক্ষেপ।”
— শফিকুল আলম, লিড এনার্জি অ্যানালিস্ট, আইইইএফএ
“রামপালে বিদ্যমান ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের পাশে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পটি নির্মাণ করা হবে। ২০২৮ সাল থেকে ধাপে ধাপে এর বাস্তবায়ন শুরু হবে।”
— ইঞ্জিনিয়ার রেজাউল করিম, চেয়ারম্যান, বিপিডিবি
বাগেরহাটের রামপালে ৪৪২ মেগাওয়াট ক্ষমতার বড় সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি)। প্রায় ২ হাজার ৫০২ কোটি ৪০ লাখ টাকা ব্যয়ের প্রকল্পটি চলতি সপ্তাহে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে অনুমোদনের জন্য উঠতে পারে।
অনুমোদন পেলে রামপালের ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য অধিগ্রহণ করা অব্যবহৃত ৯১৮ দশমিক ৫ একর জমিতে সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্রটি নির্মাণ করা হবে। ২০২৮ সাল থেকে ধাপে ধাপে প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।
বিদ্যমান জমি ও অবকাঠামো ব্যবহারের কারণে নতুন স্থানে একই ধরনের প্রকল্প নির্মাণের তুলনায় ব্যয় ও বাস্তবায়নের সময়—দুটিই কমবে বলে আশা করছে বিপিডিবি।
প্রতি ইউনিটের সম্ভাব্য ট্যারিফ ৬ টাকা ১৮ পয়সা
বিপিডিবির তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্পটি থেকে উৎপাদিত প্রতি ইউনিট সৌরবিদ্যুতের সম্ভাব্য ট্যারিফ ধরা হয়েছে ৬ টাকা ১৮ পয়সা।
অন্যদিকে ফেনীর সোনাগাজীতে প্রস্তাবিত ২২০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রতি ইউনিট সম্ভাব্য ট্যারিফ প্রায় ৮ টাকা ৮৭ পয়সা। সেই হিসাবে রামপালের প্রস্তাবিত ট্যারিফ সোনাগাজীর তুলনায় প্রতি ইউনিটে ২ টাকা ৬৯ পয়সা বা প্রায় ৩০ শতাংশ কম।
কয়লার জন্য অধিগ্রহণ করা জমিতে এবার সৌরবিদ্যুৎ
বিপিডিবির সদস্য (উৎপাদন) মো. জহুরুল ইসলাম জানিয়েছেন, প্রস্তাবিত সৌর ফোটোভোলটাইক (পিভি) বিদ্যুৎকেন্দ্রটি ৯১৮ দশমিক ৫ একর অব্যবহৃত জমিতে নির্মাণ করা হবে। জমিটি আগে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য অধিগ্রহণ করা হয়েছিল।
প্রকল্প বাস্তবায়নে পাওয়ার ডেভেলপমেন্ট ফান্ড ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রকল্প এলাকায় ইতোমধ্যে জমি ভরাট, সীমানা সুরক্ষাসহ গুরুত্বপূর্ণ কিছু সাইট উন্নয়নকাজ সম্পন্ন হয়েছে। ফলে সম্পূর্ণ নতুন স্থানে বা গ্রিনফিল্ড প্রকল্প হিসেবে নির্মাণের তুলনায় এখানে ব্যয় ও সময় সাশ্রয়ের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে ২৩০ কেভি সঞ্চালন ব্যবস্থায়
ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ফ্যাসিলিটেশন কোম্পানির (আইআইএফসি) সম্ভাব্যতা সমীক্ষায়ও বিদ্যমান অবকাঠামো ব্যবহারের মাধ্যমে প্রকল্পের নির্মাণ ব্যয় কমানোর সুযোগের কথা উঠে এসেছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, নতুন ২৩০ কিলোভোল্ট সঞ্চালন ব্যবস্থার মাধ্যমে সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্রটি বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেডের (বিআইএফপিসিএল) সাবস্টেশনের সঙ্গে সংযুক্ত হবে। সেখান থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হবে।
সংশ্লিষ্টদের আশা, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে জাতীয় গ্রিডে নবায়নযোগ্য বিদ্যুতের সরবরাহ বাড়বে। একই সঙ্গে কার্বন নিঃসরণ এবং আমদানিনির্ভর জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমাতেও এটি ভূমিকা রাখবে।
‘জ্বালানি অগ্রাধিকারের পরিবর্তনের প্রতিফলন’
ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি ইকোনমিক্স অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল অ্যানালাইসিসের (আইইইএফএ) লিড এনার্জি অ্যানালিস্ট শফিকুল আলম বলেন, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য নির্ধারিত জমিকে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহার করার উদ্যোগ বাংলাদেশের পরিবর্তনশীল জ্বালানি অগ্রাধিকারের প্রতিফলন।
তার মতে, প্রকল্পটি আমদানিনির্ভর জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তায় অবদান রাখতে পারে। একই সঙ্গে পরিচ্ছন্ন, টেকসই ও অভিঘাত মোকাবিলায় সক্ষম বিদ্যুৎ খাত গড়ে তোলার পথে এটি ইতিবাচক পদক্ষেপ।
২০২৮ সাল থেকে ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন
বিপিডিবির চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার রেজাউল করিম বলেন, প্রকল্প প্রস্তাব নিয়ে প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা হয়েছে এবং এটি অনুমোদনের প্রক্রিয়ায় রয়েছে।
তিনি বলেন, রামপালে বিদ্যমান ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের পাশেই সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পটি নির্মাণ করা হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৮ সাল থেকে ধাপে ধাপে এর বাস্তবায়ন শুরু হবে।
প্রকল্পটি ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের বিদ্যুৎ চাহিদার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে পূরণের সরকারি লক্ষ্যের সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। পাশাপাশি প্যারিস চুক্তির আওতায় বাংলাদেশের জলবায়ু অঙ্গীকার, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) এবং ইন্টিগ্রেটেড এনার্জি অ্যান্ড পাওয়ার মাস্টার প্ল্যান (আইইপিএমপি)-২০২৩ বাস্তবায়নেও প্রকল্পটি ভূমিকা রাখতে পারে।
জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্র (২০২৬-২০৩০) অনুযায়ী, রুফটপ সোলার সম্প্রসারণের পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে উদ্যোক্তা ও সেবাদাতাদের নেটওয়ার্ক তৈরিতেও দেশব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে সরকার।

