শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বন্যপ্রাণী পাচার ঠেকাতে দক্ষিণ এশিয়ায় যৌথ অভিযান চান পরিবেশমন্ত্রী

কাঠমান্ডুতে SAWEN-এর প্রথম সাধারণ পরিষদ

গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়, সাইবার ও আর্থিক তদন্ত এবং অপরাধী নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়ার আহ্বান

নিজস্ব প্রতিবেদক

কাঠমান্ডু, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬: আন্তঃদেশীয় ও সংঘবদ্ধ বন্যপ্রাণী অপরাধ মোকাবিলায় দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়, সমন্বিত আইন প্রয়োগ এবং যৌথ অভিযান জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু।

বৃহস্পতিবার নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে দক্ষিণ এশিয়া বন্যপ্রাণী আইন প্রয়োগ নেটওয়ার্কের (SAWEN) প্রথম সাধারণ পরিষদে বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।

পরিবেশমন্ত্রী বলেন, বন্যপ্রাণী ও প্রতিবেশব্যবস্থা রাজনৈতিক সীমান্তে আবদ্ধ নয়। অপরাধী চক্র সীমান্ত, পরিবহন ও বাণিজ্যিক চ্যানেলের পাশাপাশি অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ও আর্থিক ব্যবস্থা ব্যবহার করে আন্তঃদেশীয় বন্যপ্রাণী পাচার করছে। এ কারণে কোনো একটি দেশের একক উদ্যোগে এ ধরনের সংঘবদ্ধ অপরাধ কার্যকরভাবে মোকাবিলা করা কঠিন।

পাচারের অর্থদাতা ও নেটওয়ার্ক শনাক্তের তাগিদ

বন্যপ্রাণী জব্দ ও অপরাধী গ্রেপ্তারের মধ্যেই আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কার্যক্রম সীমাবদ্ধ না রাখার ওপর গুরুত্ব দেন আবদুল আউয়াল মিন্টু। তিনি বলেন, পাচারের পেছনে থাকা সংগঠক, অর্থদাতা ও পুরো অপরাধী নেটওয়ার্ক শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।

প্রতিটি বন্যপ্রাণী জব্দের ঘটনাকে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের সুযোগ হিসেবে ব্যবহারের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, পাচার হওয়া বন্যপ্রাণী কোথা থেকে এসেছে, কোন পথে পরিবহন করা হয়েছে, কারা জড়িত, অর্থায়ন করেছে কারা এবং গন্তব্য কোথায় ছিল—এসব তথ্য অনুসন্ধান করা প্রয়োজন।

অনলাইনে বন্যপ্রাণী কেনাবেচা ও পাচার মোকাবিলায় সাইবার নজরদারি, ডিজিটাল প্রমাণ ও সাইবার তদন্তের সক্ষমতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন মন্ত্রী। বড় ধরনের বন্যপ্রাণী অপরাধে জাতীয় আইন অনুযায়ী আর্থিক তদন্ত, সম্পদ শনাক্তকরণ এবং মানি লন্ডারিংবিরোধী ব্যবস্থা ব্যবহারের আহ্বান জানান তিনি।

একই সঙ্গে বন্যপ্রাণী ফরেনসিক, ডিএনএ বিশ্লেষণ, ডিজিটাল ফরেনসিক ও ভূ-স্থানিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি সদস্য দেশগুলোর মধ্যে যৌথ প্রশিক্ষণ ও বিশেষজ্ঞ বিনিময়ের প্রস্তাব দেন পরিবেশমন্ত্রী। উদ্ধার ও জব্দ করা জীবন্ত বন্যপ্রাণীর পুনর্বাসন ও নিজ দেশে ফেরানোর ক্ষেত্রেও আঞ্চলিক সহযোগিতা বাড়ানোর কথা বলেন তিনি।

SAWEN-এর ২০২৬-৩০ কৌশলগত পরিকল্পনায় বাংলাদেশের সমর্থন

প্রস্তাবিত SAWEN Strategic Plan 2026–2030 প্রসঙ্গে আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, আঞ্চলিক সহযোগিতার অগ্রাধিকারগুলোকে বাস্তবভিত্তিক কর্মসূচিতে রূপ দেওয়ার সুযোগ তৈরি করেছে এ পরিকল্পনা।

বাংলাদেশ এমন একটি আঞ্চলিক পরিকল্পনাকে সমর্থন করে, যেখানে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়, সমন্বিত আইন প্রয়োগ, ফৌজদারি বিচার, ডিজিটাল ও আর্থিক তদন্ত, বিজ্ঞান ও ফরেনসিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বন্যপ্রাণীর অবৈধ চাহিদা কমানোর বিষয়গুলো অগ্রাধিকার পাবে।

পরিবেশমন্ত্রী বলেন, SAWEN-এর প্রথম সাধারণ পরিষদ রাজনৈতিক অঙ্গীকারকে কার্যকর উদ্যোগে রূপ দেওয়ার সুযোগ তৈরি করেছে। সদস্য দেশগুলো আরও শক্তিশালী গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় ব্যবস্থা ও যৌথ কার্যক্রমের মাধ্যমে বন্যপ্রাণীর জন্য হুমকিস্বরূপ আন্তঃদেশীয় অপরাধী নেটওয়ার্ক ভেঙে দিতে কাজ করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

এ লক্ষ্যে SAWEN-এর সদস্য দেশ, আন্তর্জাতিক সংস্থা ও উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে একটি কার্যকর আঞ্চলিক বন্যপ্রাণী আইন প্রয়োগ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে বাংলাদেশ প্রস্তুত বলেও জানান পরিবেশমন্ত্রী।

সম্মেলনে নেপালের প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার দোল প্রসাদ আরিয়াল, দেশটির কৃষি, বন ও পরিবেশমন্ত্রী গীতা চৌধুরী, SAWEN-এর মহাসচিব ড. কৃষ্ণ প্রসাদ আচার্যসহ বাংলাদেশ, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, ভুটান, পাকিস্তান ও মালদ্বীপের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তারা অংশ নেন।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন