বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

একদিনে হাম-ডেঙ্গুতে ১৩ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি-আক্রান্ত ২৬৮৬

হামে মৃতের সংখ্যা ১০০৯, ডেঙ্গুতে ১৩৯

২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ ও শনাক্ত ১১৯৪ জন, ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ১৪৯২

ঢাকা, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬: দেশে হাম ও হামের উপসর্গ এবং ডেঙ্গুর প্রকোপে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে হাম ও এর উপসর্গে সাত শিশু এবং ডেঙ্গুতে ছয়জন মারা গেছেন। একই সময়ে হাম ও এর উপসর্গ পাওয়া গেছে ১ হাজার ১৯৪ জনের মধ্যে। ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন আরও ১ হাজার ৪৯২ জন।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাম ও ডেঙ্গুবিষয়ক পৃথক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে, গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হাম ও এর উপসর্গে মোট ১ হাজার ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের সবাই শিশু। এর মধ্যে হামে আক্রান্ত হয়ে ১০০ জন এবং হামের উপসর্গ নিয়ে ৯০৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে ঢাকা বিভাগে তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। রাজশাহী, সিলেট, চট্টগ্রাম ও খুলনা বিভাগে মারা গেছে একজন করে আরও চার শিশু।

একদিনে নতুন করে ২৯ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে এবং ১ হাজার ১৬৫ জনের মধ্যে হামের উপসর্গ দেখা গেছে। গত ১৫ মার্চ থেকে ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মোট ১৯ হাজার ৯৩৩ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে এবং ১ লাখ ৬৮ হাজার ৭৪৫ জনের মধ্যে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে।

এ সময়ে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ লাখ ৪৮ হাজার ৫০৫ জন। তাদের মধ্যে ১ লাখ ৪২ হাজার ৮৮৮ জন চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল ছেড়েছেন।

ডেঙ্গুতে একদিনে ছয় মৃত্যু

এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে খুলনা বিভাগে দুজন এবং ঢাকা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও রাজশাহী বিভাগে একজন করে মারা গেছেন। এ নিয়ে চলতি বছরের শুরু থেকে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৩৯ জনে দাঁড়িয়েছে।

একদিনে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ১ হাজার ৪৯২ জনের মধ্যে ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ ৩২৭ জন এবং খুলনা বিভাগে ২৮৪ জন রয়েছেন। এ ছাড়া চট্টগ্রামে ২০২, বরিশালে ১৭৮, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১৫১, রাজশাহীতে ১২২, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ৮১, ময়মনসিংহে ৮০, রংপুরে ৫৪ এবং সিলেটে ১৩ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

চলতি বছর ডেঙ্গুতে মারা যাওয়া ১৩৯ জনের মধ্যে দুই সিটি করপোরেশনসহ ঢাকা বিভাগেই ৭১ জন। খুলনায় ২৫, ময়মনসিংহে ১৪, বরিশালে ১২, চট্টগ্রামে ৯, রাজশাহীতে ছয় এবং রংপুর ও সিলেটে একজন করে মারা গেছেন।

লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসার পরামর্শ

বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ডা. আব্দুল্লাহ আল-মামুন বলেন, হাম ও হামের উপসর্গ এবং এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গু ক্রমেই উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। এসব রোগের লক্ষণ দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক বা নিকটস্থ হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া প্রয়োজন।

শিশু বিশেষজ্ঞদের মতে, হাম অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। উচ্চ জ্বর, সর্দি-কাশি, চোখ লাল ও পানিযুক্ত হওয়া, মুখ ও গলার ভেতরে ছোট সাদা দাগ এবং শরীরে লালচে ফুসকুড়ি এর উল্লেখযোগ্য লক্ষণ। শিশুদের টিকাদান ও পুষ্টি নিশ্চিত করার পাশাপাশি তৃণমূল পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা তদারকি জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন তারা।

অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আল-মামুন বলেন, শহরের পাশাপাশি প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলেও স্বাস্থ্যসেবা পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা জরুরি।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর নির্দেশ

এর আগে ৬ সেপ্টেম্বর সচিবালয়ে ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে এক সভায় দেশজুড়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদারের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সরকারি সংস্থার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন।

বাড়িঘর ও আশপাশ পরিষ্কার রাখা, জমে থাকা পানি অপসারণ এবং মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ের কার্যক্রমে বিএনসিসি, রোভার স্কাউট, রেড ক্রিসেন্ট ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার স্বেচ্ছাসেবকদের সম্পৃক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়।

একই সঙ্গে উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসা ও ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা বাড়ানো এবং গৃহীত সিদ্ধান্তের বাস্তবায়ন মাঠপর্যায়ে নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন