সোমবার, ৩১ আগস্ট ২০২৬

হাম-ডেঙ্গুর সংক্রমণ বাড়ছেই, একদিনে আরও ৫ মৃত্যু

দেশে একদিকে বাড়ছে হাম ও হামের উপসর্গের সংক্রমণ, অন্যদিকে ঊর্ধ্বমুখী এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গু। গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গে তিনজন এবং ডেঙ্গুতে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছেন ৯৪৩ জন এবং ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন আরও ৯৯৬ জন।

শনিবার (২৯ আগস্ট) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত হাম ও ডেঙ্গুবিষয়ক পৃথক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাম ও হামের উপসর্গবিষয়ক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গে আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত এ রোগে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৬৩ জনে। তাদের মধ্যে নিশ্চিত হামে ৯৯ জন এবং হামের উপসর্গ নিয়ে ৮৬৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত তিনজনের মধ্যে দুজন ঢাকা বিভাগে এবং একজন খুলনা বিভাগে মারা গেছেন। একই সময়ে ৫৭ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। ফলে চলতি বছরে নিশ্চিত হামে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৮ হাজার ৮৫৩ জনে। এ ছাড়া নতুন করে ৮৮৬ জনের শরীরে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। এতে সন্দেহভাজন সংক্রমণের মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৫৫ হাজার ৬৭৮ জনে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত সারাদেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ১ লাখ ৩৬ হাজার ২৫৭ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে ১ লাখ ৩১ হাজার ২৬৪ জন সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন।

ডেঙ্গুতেও বাড়ছে মৃত্যু-সংক্রমণ

এদিকে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও দুজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯০ জনে। একই সময়ে নতুন করে ৯৯৬ জন রোগী দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ২ হাজার ১০১ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, মারা যাওয়া দুজনই পুরুষ। তাদের একজনের বয়স ৫১ থেকে ৫৫ বছর এবং অন্যজনের বয়স ৬১ থেকে ৬৫ বছরের মধ্যে।

তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মৃত ৯০ জনের মধ্যে ৫১ জন নারী, যা মোট মৃত্যুর ৫৭ দশমিক ৩ শতাংশ। পুরুষ মারা গেছেন ৩৮ জন বা ৪২ দশমিক ৭ শতাংশ। একজনের মৃত্যুর তথ্য পরে ‘ফলস’ হিসেবে শনাক্ত হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ডেঙ্গুতে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে খুলনা বিভাগে। এ ছাড়া ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) এলাকার হাসপাতালে ৩১ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) এলাকায় ১১ জন এবং সিটি করপোরেশনের বাইরে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। খুলনায় ১৭, বরিশালে ৯, ময়মনসিংহে ৮, চট্টগ্রামে ৫, রাজশাহীতে ৪ এবং রংপুর ও সিলেটে একজন করে মারা গেছেন।

চলতি বছরে এ পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৩৯ হাজার ৫৮৬ জন। তাদের মধ্যে ৩১ হাজার ৩৯৫ জন সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন