মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সহিংস চরমপন্থা মোকাবিলায় মানবিক ও প্রমাণভিত্তিক নীতি প্রয়োজন: ঢাবি উপাচার্য

সহিংস চরমপন্থাকে কেবল নিরাপত্তাজনিত সমস্যা হিসেবে না দেখে এর সামাজিক কারণগুলো চিহ্নিত করে মানবিক ও প্রমাণভিত্তিক নীতি গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, জ্ঞান, সংলাপ ও উচ্চশিক্ষাকে কাজে লাগিয়ে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে আয়োজিত দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সম্মেলনের সমাপনী অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

‘What Works in Countering Violent Extremism: Toward Human-Centric & Evidence-Based Policies’ শীর্ষক এ সম্মেলনের আয়োজন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশ্ব ধর্ম ও সংস্কৃতি বিভাগের ইন্টারন্যাশনাল সিকিউরিটি পলিসি ল্যাব। বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) হিট প্রজেক্টের আওতায় সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হয়।

‘সহিংস চরমপন্থা শুধু নিরাপত্তার সমস্যা নয়’

ঢাবি উপাচার্য বলেন, সহিংস চরমপন্থা শুধু নিরাপত্তার জন্য হুমকি নয়, এটি মানুষের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান ও সামাজিক বিশ্বাসেরও অন্তরায়। বাংলাদেশের তারুণ্যের শক্তি, বিশ্বাস, সংস্কৃতি ও বৈচিত্র্য রক্ষায় অন্যায়, অবিচার ও সহিংসতার বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

সহিংস চরমপন্থা মোকাবিলায় স্লোগাননির্ভর উদ্যোগের পরিবর্তে গবেষণালব্ধ তথ্যের ভিত্তিতে সামাজিক প্রতিক্রিয়া গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।

অধ্যাপক ওবায়দুল ইসলাম বলেন, এ ক্ষেত্রে গৃহীত পদক্ষেপ হতে হবে বিচক্ষণ, মানবিক ও প্রমাণভিত্তিক। তরুণ, পরিবার, শিক্ষক, ধর্মীয় নেতা, সামাজিক সংগঠন, সাংবাদিক ও নীতিনির্ধারকদের পাশাপাশি যারা চরমপন্থার ঝুঁকির মুখোমুখি হয়েছেন, তাদের অভিজ্ঞতা ও দৃষ্টিভঙ্গিকেও গুরুত্ব দিতে হবে।

মানুষের কাছে বিপজ্জনক মতাদর্শ আকর্ষণীয় হয়ে ওঠার পেছনের কারণগুলো শনাক্ত করা জরুরি উল্লেখ করে উপাচার্য বলেন, প্রমাণভিত্তিক গবেষণার মাধ্যমে দেশে শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় গবেষকদের সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।

সকালে সম্মেলন উদ্বোধন করেন ইউজিসি চেয়ারম্যান

দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ। এতে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশ্ব ধর্ম ও সংস্কৃতি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. আবু সায়েম।

সমাপনী অধিবেশনে হিট প্রজেক্টের সদস্য ড. ইভা সাদিয়া সা’দের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ শামসুল হক।

আন্তঃধর্মীয় সংলাপ নিয়ে গবেষণা

বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে সংলাপের মাধ্যমে শান্তি, সম্প্রীতি, সামাজিক সংহতি ও সহনশীলতা বাড়াতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশ্ব ধর্ম ও সংস্কৃতি বিভাগে ‘Inter-Religious Dialogue Resilience Building and Countering Violent Extremism’ শীর্ষক একটি গবেষণা প্রকল্প পরিচালিত হচ্ছে।

প্রকল্পটির লক্ষ্য আন্তঃধর্মীয় সম্পৃক্ততার বিভিন্ন পদ্ধতি যাচাই ও পরীক্ষার মাধ্যমে উগ্রবাদের অন্তর্নিহিত কারণ শনাক্ত করা। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে নীতিগত সুপারিশ তৈরি এবং প্রাতিষ্ঠানিক প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সেগুলো ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রকল্পে সহকারী অধ্যাপক ড. মো. দিদারুল ইসলাম এসপিএম এবং প্রভাষক নিলয় রায় এএসপিএম হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সহযোগী অধ্যাপক ড. ইভা সাদিয়া সা’দ ও প্রভাষক দেবাশীষ দাস প্রকল্পের সদস্য হিসেবে যুক্ত রয়েছেন।

সম্মেলনে গবেষণা প্রকল্পে সার্বিক সহযোগিতার স্বীকৃতি হিসেবে হিট সাব-প্রজেক্টের ২১ জনকে সনদ দেওয়া হয়।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন